সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

আশ্রয়ের খোঁজে শহরে শহরে ঘুরছে হাজার হাজার কুর্দি

image_pdfimage_print

তুরস্কের সামরিক অভিযানের মুখে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কুর্দি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তুর্কি বিমান হামলা ও সেনাবাহিনীর মর্টার মুহুর্মুহু শব্দে দিশেহারা হয়ে দিগ্বিদিক ছুটছে তারা। একটু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শহরে শহরে উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরছে।

খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে হাজার হাজার পরিবার। বাধ্য হয়ে ইরাকের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রবেশের চেষ্টা করছে অনেকেই। কিন্তু দেশটির সরকার আগেই সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে পাচারকারীদের হাত ধরে অবৈধভাবেই সীমান্ত পার হচ্ছে কেউ কেউ। এতে পকেট থেকে খসকে হাজার হাজার ডলার।

এদিকে প্রস্তাবিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ থেকে কুর্দিদের হঠাতে একমত হয়েছে তুরস্ক ও রাশিয়া। আঙ্কার এই পদক্ষেপে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানকে ‘চোর’ আখ্যায়িত করেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। খবর রয়টার্স ও মিডল ইস্ট আই।

১০ দিন ধরে আশ্রয় খুঁজছেন কুর্দি দিনমজুর সুলাইমান মোহাম্মদ ও তার পরিবার। কিন্তু কোথাও আশ্রয় না পেয়ে আরও অনেকের সঙ্গে ইরাকে প্রবেশের অপেক্ষায় আছেন তারা। বাস্তুচ্যুত অনেক কুর্দি পরিবার প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রবেশের জন্য পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ছেন।

অনেকে পাচারকারীদের পরিবার প্রতি দেড় হাজার ডলার দিয়ে সীমান্তের ইরাক অংশে তাঁবু গেড়ে বসবাস করছেন। সুলাইমান বলেন, ‘আমার ঘর বোমায় উড়ে গেছে। তেল তামের শহরের স্কুলে কয়েকদিন ছিলাম। কামিশলি শহরের বাড়ি ভাড়া ৫০ হাজার ইরাকি দিনার। যা আমার সাধ্যের বাইরে।’

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পাশে নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পাচারকারীরা ৫০০ ডলার চেয়েছিল। দিতে পারিনি। এখনও আমি যে কোনো দেশে যেতে রাজি, ইউরোপ বা অন্য কোথাও।’ চলতি সপ্তাহেই পাচারকারীদের হাত ধরে পরিবারসহ ইরাকের কুর্দিস্তানে এসে পৌঁছেছেন আরেক শরণার্থী।

মিডিল ইস্ট আইকে তিনি বলেন, ‘তারা (ইরাকি সীমান্তরক্ষী) আমাদের সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। তাই অবৈধ উপায় অবলম্বনে বাধ্য হয়েছি।’ এ ব্যাপারে কুর্দিস্তানভিত্তিক দাতব্য সংস্থা বারজানি চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা দিলশাদ আলি বলেন, ‘এখানে যারা আসছে তাদের শতভাগই অবৈধভাবে আসছে। রাত ৯টার পরই তাদের আসা শুরু হয়। এজন্য তাদের টাকা দিতে হয়।’

এদিকে এসব বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় নিরাপদ অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যানেগরেট ক্রাম্প-কারেনবাউয়ার। সোমবার তিনি ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘রাশিয়া ও তুরস্কসহ আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে বেসামরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ‘অপারেশন পিস স্প্রিংয়ে’ পাঁচদিনের বিরতির ঘোষণা দিয়েছিল আঙ্কারা। মঙ্গলবার এ যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি না রাখলে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ফের অভিযান শুরু হবে বলে আগেই হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন এরদোগান।

এখন নিরাপদ অঞ্চল থেকে কুর্দি বাহিনীকে হঠাতে একমত তুরস্ক ও রাশিয়া। বুধবার রাশিয়ার সোচিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এ ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন এরদোগান। এর ফলে সীমান্তে যৌথভাবে প্রহরা দেবে রুশ ও তুর্কি বাহিনী।

সিরিয়া সীমান্তে আঙ্কারার এই তৎপরতায় এরদোগানকে ‘দখলদার ও ভূখণ্ড চোর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আসাদ। আসাদের সেনারা এরই মধ্যে যোগ দিয়েছে কুর্দি যোদ্ধাদের সঙ্গে। আবার আসাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া। আগেই সিরিয়ার ভেতরে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আসাদ।

ফলে এখন তুরস্কের সঙ্গে রাশিয়ার যোগ দেয়ার বিষয়টি কোনদিকে মোড় নেবে তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে রাশিয়া সফরে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, সিরিয়ার সীমান্ত এলাকায় তুরস্ক যে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়তে চায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে কুর্দিদের সরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!