শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

আহলে সুন্নাত আল জামাআতের উজ্জল নক্ষত্র শায়খ আব্দুল হক মোহাদ্দেস দেহলভী (র.)


।। এবাদত আলী।।
শায়খ আব্দুল মজিদ আব্দুল হক বিন সাইফুদ্দিন দেহলভী বুখারি (র.) ছিলেন একজন স্বনামধন্য ইসলামি পন্ডিত ও জগতশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস। ভারতের মধ্যে ইসলাম প্রচারে তথা ইলমে হাদিস এর প্রচার চর্চায় তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।

শায়খ মোহাক্কিক আব্দুল হক মোহাদ্দিস দেহলভী (র.) হিজরি ৯৫৮ মোতাবেক ১৫৫১ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার অপর নাম কবি আব্দুল হক হাক্কি। তাঁর পুর্বপুরুষগণ বুখারার অধিবাসি ছিলেন। পুর্ব পুরুষগণদের মধ্যে আগা মোহাম্মদ তুর্কি বোখারি এবং সুলতান মোহাম্মদ আলা উদ্দিন খিলজির নাম উল্লেখযোগ্য। তাঁর পিতা শায়খ সাইফুদ্দিন দেহলভী ছিলেন নিতান্ত ধার্মিক এবং আধ্যাত্যিক ব্যক্তিত্ব যিনি ক্বাদেরিয়া ছিললিার হজরত শায়খ আমানুল্লাহর খলিফা ছিলেন।

বহু গ্রন্থের রচয়িতা আব্দুল হক (র.) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশে মোহাদ্দিদের মধ্যে অগ্রদুত। তাঁর প্রচেষ্টায় ভারতীয় উপমহাদেশে হাদিছ শাস্ত্রের চর্চা অধিক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

শায়খ আব্দুল হক মোহাদ্দেস দেহলভী (র.) এর দীনি শিক্ষার হাতে খড়ি হয় তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতার মাধ্যমে। তিনি পবিত্র কোরআন সম্পুর্ণ হেফজ করেন মাত্র ৩ মাস সময় নিয়ে। কিতাব পাঠে তাঁর মত নিবেদিত মণিষী ইতিহাসে বিরল। দৈনিক ২০-২২ ঘন্টা তিনি বিভিন্ন কিতাব পাঠে সময় দিতেন। যার ফলে মাত্র ৭/৮ বছর সময়ে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত করতে সমর্থ হন। তাঁর শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ তাঁর এলেমের গভীরতার ভূয়সী প্রসংশা করেছেন। ১৩ বছর বয়সে তিনি ইসলামের আক্বায়েদ এর খুটিনাটিসহ জটিল জটিল বিষয়াদি অধ্যায়ন সমাপ্ত করেন। ১৮ বছর বয়সে এলেমের বিভিন্ন শাখা থেকে এলেমের নুর হাসিল করেন। ইলমুল ফারাইজ, ইলমুল আক্বাইদ, ইলমুল ফিকাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি পারদর্শি ছিলেন। এলমে বাতেন তথা আধ্যাত্মিক শিক্ষা অর্জন করেন তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা সাইফুদ্দিন দেহলভী (র.) এর নিকট থেকে।

তৎকালিন মুঘল শাসক সম্রাট আকবরের সময়কাল ছিলো ইসলামের সংকটকাল। ক্ষমতার প্রভাবে অন্ধ আকবর ইসলাম ধর্মকে নিজের মত করে পরিবর্তন করতে সচেষ্ট ছিলেন। শায়েখ (র.) এর উত্তরোত্তর সাফল্য লক্ষ করে আকবর নানান ছলে শায়েখের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মহা নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর আশেক শায়েখ আব্দুল হক মোহাদ্দেস দেহলভী তাঁর স্বীয় পথে অবিচল থাকেন।

তিনি আরো ব্যাপক এলেম শিক্ষালাভের আশায় ৯৯৬ হিজরিতে মক্ক্ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তিনি শায়েখ আব্দুল হক ওয়াহাব মুত্তাকী (র.) এর তত্ত্বাবধানে বুখারি, মুসলিম, মেশকাত শরীফ এবং তাছাউফের গভীর সাধনায় নিমজ্জিত হন। এরপর তিনি তার মুর্শিদের অনুমতিক্রমে মদীনা শরীফে গমণ করেন এবং সেখানে তিনি এক বছর অবস্থান করেন। মদীনা শরীফে অবস্থানকালে মদীনা শরীফের সন্মানার্থে তিনি খালি পায়ে চলাফেরা করতেন। তিনি ৪ বার হুজুর পাক (সা.) এর সাথে স্বপ্নে সাক্ষাত করেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।

তাঁর আধ্যাত্নিক সাধনার শুরু হয় তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতার হাতে। অতঃপর তিনি মুসা পাক শহীদ মুলতান (র.) এর কাছে বায়াত হন। মক্কা শরীফে তিনি বায়াত হন শায়েখ আব্দুল হক মুত্তাকী (র.) এর হাতে। দিল্লী প্রত্যাবর্তনের পর তিনি হজরত খাজা বাকি বিল্লাহ (র.) এর হাতে বায়াত হন নকশাবন্দিয়া তরিকায়। তিনি একাধারে ক্বাদেরিয়া, নকশাবন্দিয়া, সাজয়ীলিয়া ও মাদানীয়া তরিকার অনুসারি ছিলেন।

এসময় ভারতে মুহাম্মদ জৌনপুরী নামে এক মৌলভী বেশ প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং ইসলামের নামে অপব্যাখ্যা করতে থাকেন। তিনি দাবি করেন ইবাদতের মাধ্যমে যে কেউ রাসুল পাক (সা.) এর মর্তবায় পৌঁছানো সম্ভব। শায়খ মোহাদ্দেস দেহলভী, হজরত মোজাদ্দেদ আলফেসানী (র.), ইবনে হাজার মক্কী এবং হজরত আলী মুত্তাকী (র.) এর দৃঢ় প্রচেষ্টায় এরকম অনেক ভ্রান্ত দাবি পরাভুত হয়।

সেসময় সম্রাট আকবর সুর্য পুজাকে জায়েজ ঘোষণা করেছিলেন। তিনি নবী করিম (সা.) এর মি’রাজকে অস্বীকার করতেন। এছাড়া ইসলামের বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে আকবর অনৈতিক হস্তক্ষেপ করেছিলেন। শায়খ আব্দুল হক মোহাদ্দেস (র.) সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে কলম ধরলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন ইসলামিক প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম। অবশ্য আকবর পরবর্তী বাদশা জাহাঙ্গির তাঁর জ্ঞান-গরীমার উচ্ছইসত প্রসংশা করেন । বাদশা জাহাঙ্গির ও শাহজাহান অনেক সময় তাঁর সুপারিশে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্থদের অভাব পুরনে সহায়তা করতেন।

তিনি তাফসির, যুক্তি বিদ্যা, তাজবিদ, তাসাউফ, ইতিহাস, খুতবাত, হাদিস, ইখলাক, মাকাতিব, আকাঈদ, ব্যাকরণ, কবিতা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৬০ খানা কিতাব রচনা করেছেন। শায়ক আব্দুল হক মোহাদ্দেস দেহলভী সম্পর্কে শায়খ আহমদ সেরহিন্দী মোজাদ্দেদ আলফেসানি (র.) তাঁর মাকতুবাতে লিখেছেন, ‘‘ হিন্দুস্থানে হাদিসের বীজ বপন করেন শায়খ আব্দুল হক দেহলভী (র.)। ’’

আহলে সুন্নাত আল জামাআতের এই উজ্জল নক্ষত্র হিজরি ১০৫২ সনের ২১ রবিউল আওয়াল মোতাবেক ১৬৪২খ্রিষ্টাব্দে পর্দার অন্তরাল হন। তাঁর মাজার দিল্লীর হাওজ-শামসীর নিকট অবস্থিত। প্রতি বছর সেখানে ওরছ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!