রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ইউপি সদস্য এখন ভিক্ষুক!

চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য গফুরোন্নেছা

image_pdfimage_print

পবিত্র তালুকদার, চাটমোহর, পাবনা : পাবনার চাটমোহরের পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন সকালে দেখা মেলে তার। বয়সের ভারে চলাফেরা করা কঠিন, তবুও কাকডাকা ভোরে বেরিয়ে পড়েন ভিক্ষা করতে।

তাকে কেউ ভিক্ষা দেন, আবার কেউ বা তাড়িয়ে দিতে পারলে বাঁচেন! তবে এই ভিক্ষাবৃত্তিতে তিনি খুব লজ্জাও পান। বলছি পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য গফুরোন্নেছার কথা।

পঞ্চাশোর্ধ্ব সাবেক এই জনপ্রতিনিধি এক সময় মানুষকে দুই হাত ভরে দিয়েছেন। এখন তিনিই মানুষের দয়ায় চলেন! পার্শ্বডাঙ্গার মৃত জোরাল শেখের মেয়ে তিনি। সাত বছর বয়সে একই গ্রামের চাঁদ আলীর সঙ্গে বিয়ে দেন তার বাবা-মা। অল্প বয়সে বিয়ে হলেও ভালোই চলছিল দুইজনের সংসার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে পুরুষদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন গফুরোন্নেছা। টানা পাঁচ বছর সাধ্যমতো মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন তিনি।

স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। সন্তান না থাকায় বাবার রেখে যাওয়া তিন শতক জমিতে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন তিনি। নিঃসন্তান ছিলেন বলে তার চাওয়া-পাওয়ার কিছু ছিল না। নিজের জন্য কিছু না ভেবে কাজ করে গেছেন মানুষের জন্য। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

দুই বছর আগে গফুরোন্নেছা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘদিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর ফিরে আসেন বাড়িতে।

চিকিৎসা করাতে গিয়ে বাড়ির যা কিছু ছিল সব বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। নেমে আসে আর্থিক দৈন্যতা। একদিকে অসুস্থ, অন্যদিকে পেট চালানোর কথা চিন্তা করে উপায় না দেখে শুরু করেন ভিক্ষাবৃত্তি। তবে, তার এলাকায় ভিক্ষা করতে লজ্জা পান তিনি।

জানতে চাইলে গফুরোন্নেছা বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি লাঠিতে ভর দিয়ে হেঁটে হেঁটে রাস্তায় চলাচল করি। বাড়ি থেকে প্রতিদিন চাটমোহরে আসি। কী করব, গড়ে প্রতিদিন আমার ১০০ টাকার ওষুধ লাগে। ভিক্ষা না করলে আমার ওষুধ খাওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার এলাকায় ভিক্ষা করতে লজ্জা পাই। কারণ এক সময় ওই এলাকার মেম্বার ছিলাম। আমি কী করে তাদের কাছে ভিক্ষা চাইব? ভিক্ষা করে যা পাই তা দিয়ে সবার আগে ওষুধ কিনি। তার পরে যদি টাকা বাঁচে তবেই অন্য বাজার করি। এভাবেই চলছে এখন আমার জীবন।


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!