বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৩৬, দাবি সৌদি সংবাদমাধ্যমের

image_pdfimage_print

ইরানে সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভে অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আল আরাবিয়া। আটক করা হয়েছে ১ হাজার আন্দোলনকারীকে।

৪৮ ঘণ্টায় অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে শতাধিক ব্যাংক কার্যালয়ে। সংঘাত উস্কে দেয়ার জন্য বিদেশি ইন্ধনকে দায়ী করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

এরমধ্যেই, বিক্ষোভে আবারও সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার জ্বালানির দাম বাড়ানোর পর থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। দেশটির বিভিন্ন শহরে শুরু হয় সহিংস আন্দোলন। জ্বালিয়ে দেয়া হয় ব্যাংক, ফিলিং স্টেশন, সাধারণ মানুষের গাড়ি-বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। হামলা চালানো হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর।

গেলো দু’দিনে সংঘর্ষে হতাহত হয়েছেন বহু মানুষ। আটক করা হয় ১ হাজার বিক্ষোভকারীকে। দায়ীদের চিহ্নিত কোরে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাফর মুন্তাজিরি বলেন, অবশ্যই আমাদের পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। বিপ্লববিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সংঘাত বন্ধ করুন। শিগগিরই প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হবে। আল্লাহর শুকরিয়া, বিশেষ পরিস্থিতিতে যেসব বাহিনী আমরা ব্যবহার করি; এতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা লাগেনি।

পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের জরুরি বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। বলেন, আন্দোলনের অধিকার জনগণের রয়েছে। তবে বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি। এরমধ্যেই, জ্বালানির দাম বাড়ানোয় সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয়নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, কিছু মানুষ এ সিদ্ধান্তে ভীত। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে যারা অগ্নি সংযোগ, ভাংচুর চালিয়েছে তারা সাধারণ মানুষ নয়। তারা গুণ্ডা। নিরাপত্তা বাহিনী অবশ্যই তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

এদিকে, সংঘাত উস্কে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মৌসাভি বলেন, ইরানিদের প্রতি সহানুভূতি নয়, বরং বিশৃঙ্খলা তৈরিতে মনোযোগ যুক্তরাষ্ট্রের। এরমধ্যেই, বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন রাকোলতা বলেন, হতাশা থেকে ইরানের মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। তারা স্বাধীনতা চায়। তারা নিজেরাই বলেছে, ইরানের উচিৎ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা। সমঝোতা করা। যার দ্বারা সবাই উপকৃত হবে। ইরানের সরকার পরিবর্তন আমাদের লক্ষ্য নয়। ইরানিদেরকে তাদের ভবিষ্যত নির্ধারণের সুযোগ করে দেয়া আমাদের উদ্দেশ্য।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই বৈরীতা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। গেলো বছর ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায় ওয়াশিংটন। নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে পেট্রোল থেকে ভর্তুকি তুলে নেয় ইরান। এর প্রতিবাদে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভেও সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!