রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৪:২১ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ঈশ্বরদীতে চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত

ঈশ্বরদীতে চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত

image_pdfimage_print

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ঈশ্বরদীর পাশ্ববর্তী দুর্গাপুর গ্রামের শিব মন্দিরে দীর্ঘ ৬৯ বছর ধরে বর্নাঢ্য আয়োজনে হাজরা উৎসব ও চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চড়ক পূজা উপলক্ষে এখানে গ্রাম্য মেলায় পরিণত হয়।

তন্ত্র মন্ত্রকে সাধন করে সন্যাসী পরিতোষ, সমর, শুভ ও সুবোদের জিভ ফুটো করেন। এছাড়া একজন মানুষের পিঠে লোহার তৈরী বড়শি জাতীয় হুক লাগিয়ে দেন। এতে কারও কোন বিন্দু পরিমাণ রক্ত বের হয়না।

মানবাধিকার কর্মীরা একে অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে থাকেন। চড়ক উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে মুসলমান ব্যক্তিরা চরক দেখার জন্য সেখানে ভিড় জমান।

হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক উৎসব করে থাকেন। চৈত্র মাসের শেষে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মূলত এই পূজা করেন। তন্ত্র মন্ত্রকে সাধন করে সন্যাসী মানতকারী ব্যক্তিদের মুখের জিহ্বায় লোহার শিক দিয়ে ফুটো করে দুই পাশে দুটো কাঁচা আম লাগিয়ে দেয়।

এছাড়াও বাবলা কাঠের তৈরী চরকে একজন মানুষের পিঠে লোহার তৈরী বড়শি জাতীয় হুক লাগিয়ে চড়কির মতো ঘুরাতে থাকেন।

সন্যাসী কার্তিক চন্দ্র তন্ত্রমন্ত্রকে সাধন করে আকলু সরদারের পিঠে বড়শি জাতীয় লোহার রড দিয়ে তৈরী হুক ঢুকিয়ে চড়কে ওঠেন। চড়কে চড়া আকলু সরদারের কোলে মানতকৃত শিশুদের চড়িয়ে দেন। এছাড়া তার হাতে মানতের জন্য আনা কবুতর ও বাতসা তুলে দেয়া হয়। চড়কে চড়া ওই ব্যক্তি বাতসা ছিটিয়ে দিলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তরা তা তুলে খেয়ে থাকেন।

চড়কে চড়া ব্যক্তি চরক ঘুরানোর সময় ব্যাথা অনুভব না করে আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন। এসব নানা ধরনের ঝুঁকিপূর্ন কসরত দেখানোর সময় তাদের শরীরে কিংবা জিহবায় ব্যাথা লাগেনা এবং রক্তও ঝড়েনা বলে জানান তারা।

এছাড়াও বাবলা কাঠের দগদগে লাল আগুনে খালি পায়ে বেশ কয়েকজনকে হেঁটে বেড়াতে দেখা গেছে।

চড়ক দেখতে আসা আহাদ আলী ও শামীম হোসেন বলেন, ডিজিটাল যুগে এটা একটা অমানবিক কাজ। একজন তাজা মানুষের জিহ্বায় লোহার শিক ও শরীরে বড়শি জাতীয় লোহার রড দিয়ে তৈরী হুক এভাবে লাগানো ঠিক হয়নি। এতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।

দুর্গাপুর শিব মন্দির কমিটির সভাপতি নিমাই চন্দ্র প্রামানিক এ বিষয়ে বলেন, ভগবানের সন্তুষ্টি লাভের আশায় মূলত এই চড়ক উৎসব হয়ে থাকে। এটা মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটা ধর্মীয় উৎসব। আমাদের বাপ-দাদারা সেই আমল থেকে চড়ক উৎসব করে আসছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ৬৯ বছর ধরে দুর্গাপুরে এই উৎসব চলে আসছে। এখানে প্রতি বছরই চড়ক দেখতে আসা ভক্তদের সমাগম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!