ঈশ্বরদীতে তীব্র যানজট

fileঈশ্বরদী প্রতিনিধি: ঈশ্বরদী শহরে যানজটে রাস্তায় হেঁটে চলাও মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদবাজারকে কেন্দ্র করে শহরে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় যানজট পরিস্থিতি ইদানীং তীব্রতর হয়েছে। এতে বেড়ে গেছে মানুষের ভোগান্তিও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের প্রধান সড়কের দুপাশ দখল করে থাকে রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। রেলওয়ে গেট থেকে বাজারের চাঁদ আলী মোড়, লোকো রোড ও কলেজ রোডের দুপাশের ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন দোকানের মালামাল।

রেলগেটের পূর্ব পাশে ট্রাফিক আইল্যান্ডের আশপাশ পুরোপুরি চলে গেছে ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার দখলে। এসব রিকশা ও অটোরিকশা রাস্তাজুড়ে থাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এখানে একটি ট্রাফিক আইল্যান্ড থাকলেও গত শুক্রবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় সেখানে কোনো ট্রাফিক সদস্যকে পাওয়া যায়নি। নিকটবর্তী আলহাজ মোড় ট্রাফিক আইল্যান্ডেও বেলা পৌনে ১১টার দিকে কোনো ট্রাফিক পুলিশ চোখে পড়েনি।

এ সময় দেখা যায়, আলহাজ মোড়ে রাস্তার দুপাশ ও বিজয় স্তম্ভের চারপাশ দখল করে ট্রাক, ট্রাক্টর মেরামতের যন্ত্রাংশ রেখে দেওয়া ও ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন এলোমেলো দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।

রেলগেট এলাকার কয়েকজন দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন রেলগেট ট্রাফিক আইল্যান্ডের সামনে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়।

ট্রাফিক পুলিশ এসব দেখেও দেখে না। শহরের বিমানবন্দর সড়ক এলাকার দোকানদার মজনু মিয়া বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ রাস্তার দুপাশে তীব্র যানজটে দোকানে বেচাকেনাই করা যায় না।

ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম নিউজ পাবনা ডটকমকে বলেন, যানজট কমাতে রোজার আগেই বণিক সমিতির পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেখানে শহরের প্রধান সড়ক ও বাজার থেকে সিএনজি, অটোরিকশাগুলো রেলগেট বাস টার্মিনালে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এতে যানজট অনেকটা কমত। কিন্তু প্রশাসন যানজট নিরসনে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।

এদিকে ট্রাফিক পুলিশের দাবি, শহরের অধিকাংশ বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকেরা ট্রাফিক আইন মেনে চলেন না। এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশের সংকটও রয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলার আওতায় বর্তমানে তিনজন সার্জেন্ট, একজন শহর উপপরিদর্শক (টিএসআই), দুজন সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) এবং ১৪ জন ট্রাফিক পুলিশসহ মোট জনবল রয়েছে ২০ জন। এর মধ্যে ছুটিতে আছেন চারজন। বর্তমানে ১৬ জনকে দিয়ে পুরো উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে হয়।

যোগাযোগ করা হলে ঈশ্বরদী ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌফিকুল আলম জানান, শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য জোর চেষ্টা চলছে। দিনের বেলায় শহরের প্রধান সড়কে ট্রাক প্রবেশ করার কারণে যানজটের সমস্যা হয় বেশি। এ কারণে দু-এক দিনের মধ্যে দিনের বেলায় শহরে প্রধান সড়কগুলোতে ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।