শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ঈশ্বরদীতে পাঁচ মাস বেতন বন্ধ রেশম শ্রমিকদের

পাঁচ মাস ধরে মজুরি জুটছে না ঈশ্বরদীর রেশম

image_pdfimage_print
পাঁচ মাস ধরে মজুরি জুটছে না ঈশ্বরদীর রেশম

পাঁচ মাস ধরে মজুরি জুটছে না ঈশ্বরদীর রেশম

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: ঈশ্বরদীর রেশম বীজাগারের অস্থায়ী ২৬ জন শ্রমিক পাঁচ মাস ধরে মজুরি পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তাঁরা।

ঈশ্বরদীর রেশম বীজাগার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে একজন ব্যবস্থাপক, দুজন প্রতিপালক, একজন পলু পোকা পালনকারী, দুজন দারোয়ান ও একজন এমএলএসএস। এ ছাড়া অস্থায়ী ভিত্তিতে ২৬ জন শ্রমিক কাজ করেন। দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দৈনিক হাজিরা ২৫০ টাকা।

শ্রমিকেরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা এখানে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। সাধারণত মাস শেষেই তাঁরা মজুরি উত্তোলন করেন। মে মাস পর্যন্ত তাঁদের পাঁচ মাসের মজুরি বকেয়া রয়েছে।

তাঁরা অভিযোগ করেন, ব্যবস্থাপকসহ অন্য কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-বোনাস-ভাতাসহ সরকারি সব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অস্থায়ী শ্রমিকেরা এসবের কিছুই পান না। বরং বিভিন্ন অজুহাতে প্রায়ই তাঁদের মজুরি বন্ধ করে রাখা হয়।

১০ বছর ধরে বীজাগারে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন টিপু সুলতান। তিনি বলেন, ‘রেশমগুটি উৎপাদন, রেশমের জন্য পলু পোকা পালন ও সংরক্ষণ, তুঁতগাছ চাষসহ যাবতীয় কাজ আমরাই করি। অথচ নিয়মিত মজুরি পাই না। বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে মজুরি বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়।’

আরেক শ্রমিক মনোরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘মজুরি বন্ধ থাকায় আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। সামনে ঈদ। বোনাস তো পাই না। এখন বকেয়া মজুরিটুকু পাওয়ার আশায় বসে আছি।’

এদিকে গত ক’দিন পূর্বে দুপুর ১২টায় বীজাগারের ব্যবস্থাপক আরিফ হোসেনকে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। কার্যালয়ের কর্মচারীদের সূত্রে জানা যায়, আরিফ হোসেন এই বীজাগারের ব্যবস্থাপক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি মূলত কুষ্টিয়ার রেশম বীজাগার সম্প্রসারণ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক। খুব প্রয়োজন ছাড়া তিনি ঈশ্বরদীতে আসেন না।

কার্যালয়ের দায়িত্বরত জ্যেষ্ঠ রেশম প্রতিপালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈশ্বরদীর বীজাগারে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শ্রমিক রয়েছেন। ফলে বাজেটের সময় শ্রমিকদের মজুরি দিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে সমস্যায় পড়তে হয়। বিভিন্ন খাত থেকে বাজেট কাটছাঁট করে শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে। তিন মাসের বকেয়া মজুরি প্রদানের জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে শ্রমিকেরা তিন মাসের বকেয়া মজুরি পেয়ে যাবেন।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!