বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ঈশ্বরদীতে রেষারেষি, ঝুলে গেছে প্রতিবন্ধী-বিধবা-বয়ষ্ক ভাতা তালিকা তৈরির কাজ

image_pdfimage_print

old-vataস্টাফ রিপোর্টার : সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও মনোনীত প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দ্বন্দ ও মতপার্থক্যের কারণে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দুই ইউনিয়নে সুবিধাবঞ্চিত অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়ষ্ক ভাতার নামের তালিকা তৈরির কাজ বন্ধ হয়ে আছে।

বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তালিকা জমা হচ্ছে না। ‘কারা কতজনের নামের তালিকা জমা দেবেন’ এই নিয়ে দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে চলছে রেষারেষি।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে ঈশ্বরদী উপজেলার সাত ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়ষ্কদের সরকারি ভাতা প্রদানের জন্য অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

বরাদ্দের আওতায় এবার অতিরিক্ত ৫৩০জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষ প্রতিমাসে সরকারি ভাতা পাবেন। এরমধ্যে ১ ৮৫ প্রতিবন্ধী, ৯১ বিধবা ও ২৫৪ জন বয়ষ্ক মানুষ রয়েছেন।

বয়ষ্ক ও বিধবাদের জন্য পৃথকভাবে ৪শ ও প্রতিবন্ধীরা ৫শ টাকা করে প্রতিমাসে ভাতা পাবেন। সমাজসেবা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দটি পাওয়ার পর ১০ জানুয়ারি প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে ওয়ার্ড ভিত্তিক জনসংখ্যার আনুপাতিকহার বিভাজন করে পুরুষ-মহিলা সমভাবে প্রাথমিক যাচাই বাছাই করার পর পৃথক পৃথক নামের তালিকা ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

কিন্তু পাঁচটি ইউনিয়ন থেকে নামের তালিকা জমা হলেও লক্ষ্মীকুন্ডা ও সাহাপুর ইউনিয়ন তালিকা দেয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়নে ‘অসচ্ছল প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়ষ্ক ব্যক্তিদের ভাতা প্রদান যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত কমিটি’ রয়েছে। পৃথক এসব ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি সেখানকার ইউপি চেয়ারম্যান।

কমিটির প্রতিটিতে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও মনোনীত প্রতিনিধি রয়েছে। লক্ষ্মীকুন্ডা ও সাহাপুর ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, ভাতার তালিকা তৈরি করা নিয়ে এখানকার চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সঙ্গে সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও মনোনীত প্রতিনিধি সদস্যদের তালিকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। ফলে তালিকা তৈরির কাজ আটকে আছে।

লক্ষ্মীকুন্ডা ও সাহাপুর ইউনিয়নের যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত তিন কমিটিতে সংসদ সদস্য (ভূমিমন্ত্রী), উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও প্রতিনিধি সদস্যরা সরকারি দলের সঙ্গে জড়িত।

লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের যাচাই-বাছাই কমিটিতে সাংসদ প্রতিনিধির নাম নজরুল ইসলাম। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। কমিটিতে ইউএনও প্রতিনিধি ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শরীফ।

একইভাবে সাহাপুর ইউনিয়নে যাচাই-বাছাই কমিটিতে রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক আলী বিশ্বাস। এরা উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওর প্রতিনিধি।

লক্ষ্মীকুন্ডা ও সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বররা অভিযোগ করেন, মনোনীত সদস্যদের কারণে সুবিধাবঞ্চিত অসচ্ছল মানুষের ভাতার তালিকার কাজ ঠিকমত করা যাচ্ছে না।

ইউনিয়ন পরিষদ বা যাচাই-বাছাই কমিটিকে না জানিয়ে ইচ্ছেমত তালিকা তৈরি করছেন। কেউ কেউ দলীয় কোটাও দাবি করছেন। এর ফলে তালিকা তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া যাচ্ছেনা।

সাহাপুর ইউপি চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান জানান, ইউনিয়ন কমিটিতে জমা না দিয়ে এখানকার সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও প্রতিনিধি সদস্যরা পৃথক তালিকা তৈরি করে উপজেলা পরিষদে জমা দেবেন বলে কয়েকদিন আগে জানিয়েছেন।

তবে তিনিও দুই একদিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পৃথক তালিকা জমা দেবেন সমাজসেবা কার্যালয়ে।
সাহাপুর আওয়ামী লীগ নেতা আতিয়ার রহমান সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সম্প্রতি সাহাপুর ইউনিয়ন যাচাই-বাছাই কমিটিতে যোগ দিয়ে আমরা দলের পক্ষ থেকে ১৮টি করে ভাতার তালিকা তৈরির দায়িত্ব নিয়েছি। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে দলের প্রত্যেককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিরপেক্ষভাবে দুইটি করে অসচ্ছল মানুষের নাম জমা দেওয়ার জন্য।

তিনি উল্টো অভিযোগ করেন, তাঁর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান বিএনপির একজন নেতা। দলীয় বিবেচনায় তিনি ভাতার তালিকা তৈরি করছিলেন। আমাদের কাউকে সভায় ডাকেনি। এজন্য উপজেলায় আমরা মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছি।

লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের মেম্বাররা অভিযোগ করেন, তালিকা তৈরি করতে গিয়ে সংসদ সদস্য, ইউএনও প্রতিনিধি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রতিনিধি সদস্যদের বাধার মুখে পড়ছেন। এ অবস্থায় তারা তালিকা তৈরির দায়িত্ব ওইসকল প্রতিনিধি সদস্যদের দিয়েছেন। তারা ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছেন না।

ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুল হক মোল্লা জানান, ইউনিয়নে স্বাধীনমত কাজ করা দুরহ হয়ে পড়েছে। তিনিও আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে মনোনীত ওই সদস্যদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ফলে তিনি হাল ছেড়ে দিয়েছেন। এখানকার আওয়ামী লীগ নেতা তাকে তালিকা তৈরি করতে দিচ্ছেন না বলেও অভিযেঙাগ করেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য মনোনীত সদস্য নজরুল ইসলাম আভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা তো পরিষদের কাউকে বাধা দিচ্ছিনা। বরং পরিষদের চেযারম্যান আমাদের না জানিয়ে তালিকা তৈরি করছেন। আমাদের অন্য কোন মিটিংয়েও ডাকেন না।

ঈশ্বরদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান আব্দুল কাদের জানান, ‘ভাতার তালিকা তৈরি কারা করবে, কয়টি করবে’ এসব নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে নির্ধারিত সময় তালিকা জমা হয়নি। কিন্তু জুন মাসের মধ্যে তালিকা তৈরি করে প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়ষ্কদের মধ্যে ভাতা প্রদান করতে না পারলে টাকা ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তালিকা জমা না হলে তিনি তিন-চারদিনের মধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তালিকা তৈরির কাজ সম্পাদন করবেন বলে জানান।

তিনি বলেন, দুস্থ ও অসহায় মানুষদের তালিকা তৈরি করা নিয়ে এধরনের ঘটনা দুঃখজনক।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!