ঈশ্বরদীতে শিশুকে যৌন হয়রানি, বিনা কর্মকর্তা বরখাস্ত

binaঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিশুকে যৌন হয়রানি এবং মুঠোফোনে তোলা ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বৈজ্ঞানিক সহকারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া বৈজ্ঞানিক সহকারীর নাম সোহরাব হোসেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী বিনা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। এ ঘটনা তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিনার প্রধান কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবদুল আজিজ এই কমিটির আহ্বায়ক। তদন্ত শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হয়রানির শিকার শিশুটির মা জানান, তিনি একজন দরিদ্র শ্রমিক। ওই ঘটনার পর থেকে তাঁর শিশুকে বাড়ির বাইরে যেতে দিচ্ছেন না। মামলা করার মতো সামর্থ্য তাঁর নেই। তাই এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার ও তদন্তের জন্য বিনা কার্যালয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বিনার শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, শিশুটি ঈশ্বরদীর একটি বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। কয়েক দিন আগে বিনার বৈজ্ঞানিক সহকারী সোহরাব হোসেন শিশুটিকে ফুসলিয়ে আবাসিক কোয়ার্টারে নিয়ে নানাভাবে যৌন হয়রানি করেন। শিশুটি বাসায় এসে মাকে বিষয়টি জানায়। সোহরাব হোসেন শিশুর সঙ্গে অসদাচরণের ভিডিও দৃশ্য পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বিনার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

শিশুটির মা মঙ্গলবার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনের মাধ্যমে সোহরাব হোসেনের বিচারের দাবি করে ঈশ্বরদী বিনা উপকেন্দ্র কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগপত্র পাওয়ার পর পরই ময়মনসিংহে বিনার প্রধান কার্যালয়ে বিষয়টি জানানো হয়। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেলে সোহরাবকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিনার শ্রমিকরা জানায়, ঘটনার পর মায়ের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১৯ এপ্রিল থেকে ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে গেছেন সোহরাব হোসেন। তাঁদের ধারণা, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় জনরোষ থেকে বাঁচতে সোহরাব কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।