বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লীতে প্রাণচাঞ্চল্য

ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লীতে প্রাণচাঞ্চল্য। ছবি : সংগৃহীত।

image_pdfimage_print

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ঈদকে সামনে রেখে পাবনার ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লী এখন পুরোপুরি সরগরম। ঈশ্বরদীর বেনারসিপল্লীর প্রায় সাড়ে তিন’শ তাঁতের বাইরে কয়েক হাজার শ্রমিক ব্যস্ত সময় পার করছেন নানা ধরনের শাড়ীতে পুঁতি ও কারচুপির কাজ করা নিয়ে।

 

জানাগেছে ঈশ্বরদীর ফতেমোহাম্মদপুর ও লোকোসেড এলাকায় বেনারসিপল্লী এলাকার শ্রমিকরা অন্য পেশা থেকে ফিরে এসেছে পূর্বের পেশায়। বেনারসি তাঁত গুলো শ্রমিকদের কাজের মুর্ছনায় মুখর। দম ফেরার ফুসরত নেই যেন তাদের। দিনরাত চলছে বেনারসি তৈরীর কাজ।

আলাপকালে কামাল নামের এক শ্রমিক জানান, গত বছরও তাঁতে কাপড় বোনার জন্য শ্রমিক পাওয়া যেত না, অথচ এবার বেনারসি শ্রমিকরা অন্য পেশা থেকে ফিরে এসে বেনারসিপল্লীতে কাজ করছেন। এখন একজন বেনারসি শ্রমিক শাড়ির কাজ করে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় করছে।

বেনারসি শ্রমিক রিপন হোসেন জানান, একটি শাড়ী তৈরি করতে একজন শ্রমিকের ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে। ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লীতে এবার ঈদ উপলক্ষে ফুলকলি ও আনারকলি শাড়ী ছাড়াও নেট কাতান, পিওর কাতান প্রভৃতি নামের বাহারী শাড়ী তৈরি হচ্ছে।

আলমগীর নামের অপর এক বেনারসি শ্রমিক জানান, এবার ঈদের আগ মুহূর্তে একটি বিশেষ ধরনের শাড়ী বাজারে তোলা হবে। যে শাড়ীর নাম এখনো ঠিক করা হয়নি।

ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লীর মদিনা টেক্সটাইলের শ্রমিক আসলাম আলী জানান, এখানে তৈরি বেনারসি শাড়ী ২ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়ে থাকে।

তবে ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লীতে ক্যালেন্ডার মেশিন না থাকায় এখানে তৈরি শাড়ী ঢাকার মিরপুরে নিয়ে ক্যালেন্ডার করে বাজারজাত করতে হয়। এতে প্রতিটি শাড়ির জন্য অতিরিক্ত ১শ’ টাকা খরচ গুনতে হয়।

তাঁত শ্রমিকেরা আরো জানান, ঈশ্বরদীর তৈরি বেনারসি শাড়ীই মিরপুরের বলে বিক্রি করে থাকেন ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটের শাড়ী ব্যবসায়ীরা।

ঈশ্বরদীর প্রায় ৩শ’ বেনারসি কারখানায় প্রায় এক হাজার বেনারসি শ্রমিক দিন-রাত কাজ করছেন ঈদের আগেই তাদের নির্দিষ্ট টার্গেট পূরণ করার জন্য।

ঈশ্বরদীর ফতেমোহাম্মদপুর এলাকায় এখন প্রত্যেকটি বাড়িতেই কারচুপির কাজ চলছে ধুমছে।

দেখা গেছে, প্রতিটি বাড়ির বড়দের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে এবং বাড়ির বউরাও কাজ করে চলেছেন। কারোরই দম ফেলানোর সময় নেই।

স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর শাহানাজ পারভীন রুমা জানান, এই ওয়ার্ডে বেনারসি শাড়ী তৈরি ও বুটিক কাজের জন্য সর্বস্থরের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতি মাসে অন্তত একবার বেনারসি পল্লীর কারখানাগুলো পরিদর্শন করাও এখন তার নিয়মিত রুটিনে পরিণত হয়েছে।

বেনারসি শ্রমিক বাবু জানান, ঈদের প্রস্তুতির কারণে এখন সপ্তাহে ২টির স্থানে ৩টি শাড়ী তৈরি করছেন বেশির ভাগ শ্রমিক।

প্রতি সপ্তাহে ঈশ্বরদীতে প্রায় এক হাজার পিস শাড়ী তৈরি হচ্ছে।

ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লীর শাড়ীর কারখানা মালিক ও ব্যবসায়ী জাবেদ জানান, কয়েক বছর আগেও ভারত-পাকিস্তান থেকে কাতান-বেনারসি শাড়ী কাপড় চোরাই পথে বাংলাদেশে আনা হতো, এখন ঈশ্বরদীর তৈরি বেনারসি শাড়ী দেদারছে ভারত-পাকিস্তানে যাচ্ছে।

আগের চেয়ে অনেকগুণ বেশি উন্নতমানের বেনারসি শাড়ী তৈরি হচ্ছে বলেই এখন ঈশ্বরদীতে এই শিল্পের ক্রমবিকাশ হচ্ছে। ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লীর শাড়ির চাহিদা রয়েছে সারাদেশে। এখানকার তৈরী বাহারী ডিজাইনের শাড়ি কিনতে ভীড় জমাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানের ক্রেতারাও।

দুঃস্থ তাঁতীদের উন্নয়নে সরকারিভাবে ২০০৪ সালে ঈশ্বরদীর ফতেমোহাম্মদপুর এলাকায় বেনারসি পল্লী স্থাপন করা হয়। বর্তমানে ৯টি কারখানা চালু রয়েছে বেনারসি পল্লীতে। অল্প সময়ের মধ্যেই এখানকার উৎপাদিত শাড়ীর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপী।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লীর শাড়ীর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লী আধুনিকায়ন করা হলে এবং তাঁতীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হলে এখান থেকে উৎপাদিত শাড়ী এদেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী করা সম্ভব বলে মনে করেন বেনারসি পল্লীর সাথে জড়িতরা।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!