সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ঈশ্বরদী বিমান বন্দরের ভবিষ্যৎ কী

ঈশ্বরদী বিমান বন্দর

image_pdfimage_print

file (3)নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ঈশ্বরদী বিমান বন্দর ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ফের চালু হয়ে ২০১৪ সালের ২৫ মে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। আজ অবধি ঈশ্বরদী বিমান বন্দরটি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

সে সময় সপ্তাহে দু’টি ফ্লাইট শনিবার ও সোমবার ঢাকা-ঈশ্বরদী রুটে ৩৭ আসনের যাত্রীবাহী এয়ারক্রাফট ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে সরাসরি চলাচল শুরু করে। ভ্যাট ট্যাক্সসহ ঈশ্বরদী থেকে বিমানে ঢাকায় যেতে অথবা ঢাকা থেকে ঈশ্বরদীতে আসতে জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারিত হয়েছিলো ৪ হাজার টাকা।

কিন্তু ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর পর থেকে কয়েকবার চালু-বন্ধ, চালু-বন্ধ, এভাবে চলতে থাকে। ফলে, হতাশ হয়ে পরে ঈশ্বরদী তথা পাবনার মানুষ। ঈশ্বরদীতে রয়েছে ইপিজেড, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞদের প্রায়ই আসতে হয়। বিশেষ করে বিমান চলাচল না করার কারণে ইপিজেডের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কারণ দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং বায়াররা ঈশ্বরদীতে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেন না। ইপিজেড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইপিজেডের জন্য আকাশপথের যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরটি চালু না থাকায় পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করছে না ঈশ্বরদী ইপিজেড।

বিমান চলাচলের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ঈশ্বরদী, পাবনা, কুষ্টিয়া, এলাকার আকাশপথে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এই বিমান বন্দরটি বন্ধ থাকায় এক দিকে সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্য দিকে লৌহ সম্পদসহ কোটি কোটি টাকার স্থাপনা মাটিতে মিশে যাচ্ছে।

এমনিতেই ঈশ্বরদী ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময়ী একটি অঞ্চল। এই সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শিল্প কারখানা ইপিজেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিমানবন্দরটি চালু করা হলে দেশী শিল্পোদ্যোক্তাসহ বিদেশী শিল্পোদ্যোক্তা কোম্পানিগুলো এই ইপিজেডে শিল্প কারখানা স্থাপন করতে আগ্রহী হবে।

শুধু যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলওয়ে ও স্থলপথ ছাড়া ঈশ্বরদী তথা পাবনায় যোগাযোগের কোন মাধ্যম নাই। উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরটি চালু করার গুরুত্ব অপরিসীম।

ঈশ্বরদীত কৃষি পণ্য তথা সবজি উৎপাদনের বিপ্লব ঘটিয়েছে। প্রধান সবজি চাষ এলাকা হিসেবে ইতোমধ্যে দেশীয় বাজারে সুখ্যাতিও অর্জন করেছে। এখানে সারা বছরই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নানা রকম সবজি উৎপাদন হয়। এবং এসব সবজি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

কৃষিকাজের ওপর ধারাবাহিক সফলতা অর্জনের জন্য পর পর চারবার রাষ্ট্রীয়সহ অসংখ্য পদকপ্রাপ্ত জাতীয় কৃষক আলহাজ শাজাহান আলী বাদশা ওরফে পেঁপে বাদশা জানান, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার হলেও কৃষকেরা কৃষিতে মার খাচ্ছেন।

ভয়াবহ হরতাল, অবরোধের কারণে কৃষক সময় মতো তাদের কৃষি পণ্য বাজারেও পৌঁছাতে পারছে না। অনেক সময় দীর্ঘ যানজটে পড়ে সবজিগুলো পচে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে লোকসানের শিকার হচ্ছেন। এ কারণে অনেকেই বাণিজ্যিকভিত্তিতে বৃহৎ পরিসরে সবজি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এ অবস্থায় সরকার যদি ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে যাত্রীবাহী বিমানসহ কৃষি পণ্যবাহী বিমান সার্ভিস চালু করেন তাহলে কৃষিতে আবারো প্রাণ সঞ্চার ঘটবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও তা রফতানি করে বাড়তি আয় করতে পারবেন কৃষক। আর এ থেকে দেশবাসী লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সরকারও প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব পাবেন।

ঈশ্বরদী ইপিজেড, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা মেডিক্যাল কলেজ, পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ইক্ষুগবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএটিআই, রুপপুর পারমাণবিক শক্তি প্রকল্প, ডাল গবেষণা কেন্দ্র, বেনারসি পল্লী শিল্প, রেশম বীজাগার, আবহাওয়া অধিদফতর, পাকশী পেপার মিলস (বর্তমানে বন্ধ), ঈশ্বরদীতে অবস্থিত পাবনা সুগার মিলস লিমিটেড, দ্বিতীয় বৃহত্তম রেলওয়ে জংশন, পাবনা মানসিক হাসপাতাল, বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার অফিস (ডিআরএম অফিস) ও পাবনা জেলা এই বিমান বন্দরের আওতায়।

সবদিক বিবেচনায় ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি জরুরি ভিত্তিতে চালু করার প্রয়োজনীয় গুরুত্ব অনুভব করছে পাবনাবাসী। ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি সর্বমহল থেকে আবার চালুর দাবি ওঠেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে ৪শ’ ১২ একর জমির ওপর ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের প্রাথমিক কাজ আরম্ভ করা হয়। সে সময় প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে রানওয়ে তৈরি করে ডাকোটা ডিসি-৩ বিমান চালু করা হয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি তিগ্রস্ত হয়। ১৯৭২ সালে এ বিমানবন্দরটি মেরামত করে আবারো ঈশ্বরদী-ঢাকা-ঈশ্বরদী রুটে প্রথমে ডাকোটা ডিসি-৩ এবং পরে ফকার এফ-২৭ বিমান চালু করা হয়। এরপর লোকসানসহ নানা অজুহাতে ১৯৮৭ সালে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

বিএনপি সরকার বিমানবন্দরটি সংস্কার করে ১৯৯৪ সালের ১৭ জুলাই আবার চালু করে। এরপর নানা অজুহাত দেখিয়ে ১৯৯৬ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য ঈশ্বরদীতে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে।

এরপর সময় অনেক গড়িয়েছে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা বার বার এই বিমানবন্দরটি চালুর একাধিকবার আশ্বাস দিলেও গত ১৭ বছর ধরে তা চালু করা হয়নি। অবশেষে ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর বিমান বন্দরটি চালু হলেও যাত্রী সংকটের কথা বলে ২০১৪ সালের ২৫ মে তা আবার বন্ধ করে দেয় দেশীয় অলাভজনক বিমান প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ঠাকুরগাঁও, শমশেরনগর ও ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দেশের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ জড়িত-অভিজ্ঞ সাউথ এশিয়ান ট্যুরিজম ফেডারেশনের সভাপতি ও ইট্রারকো গ্রুপের চেয়ারম্যান এইচ এম হাকিম আলী বলেন, দেশের অধিকাংশ পর্যটন এলাকা ও এর আশপাশে অযত্ন-অবহেলায় অনেক বিমানবন্দর পড়ে আছে। এগুলো একটু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে চালু করলে দেশের পর্যটনশিল্প অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে।

পর্যটনশিল্পে নেপালের উদাহরণ দিয়ে সরকারের উদেশে তিনি বলেন, নেপালের অনেক বিমানবন্দরে ছোট ছোট উড়োজাহাজ ওঠানামা করছে শুধু পর্যটনশিল্প ঘিরে। তেমনিভাবে আমাদের অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো চালু করে পর্যটনকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। প্রত্যাশিত অবকাঠামো হলে পর্যটনশিল্প ঘিরে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে আরেক ধাপ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

চালু-বন্ধ, আবার চালু আবার বন্ধ এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরদী বিমান বন্দরটির ভাগ্যে কি আছে তা বলা মুশকিল। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট ঈশ্বরদী তথা পাবনাবাসীর দাবি ঈশ্বরদী বিমান বন্দরটি চালুর বিষয়ে তিনি উদ্যোগী হবেন এবং সংশ্লিষ্টদেরকে সে মোতাবেক নির্দেশনা দিবেন।


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!