শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

এই বর্ষায় পাবনায় আবাধে চলছে পাখি নিধন

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বার্তাকক্ষ: বর্ষার পানিতে থইথই চারপাশ। গাছপালা, বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় নীড়হারা হয়ে পড়েছে অনেক পাখি। যেখানে একটু ডাঙা মিলছে, সেখানেই ঝাঁকে ঝাঁকে আশ্রয় নিচ্ছে ওরা। আর এই সুযোগে একশ্রেণির শৌখিন ও পেশাদার শিকারির হাতে মারা পড়ছে এসব পাখি।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) বিকেলে অবাধে পাখি নিধনের এমন দৃশ্য চোখে পড়ে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গাগড়াখালী বিলে। বিষটোপ, বড়শি ও ছিটফাঁদ দিয়ে শালিক, বক, পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করছিলেন কয়েক যুবক। পরে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয় বিক্রির জন্য।

শিকারি যুবকেরা জানান, দেশি প্রজাতির এসব পাখির প্রচুর ক্রেতা রয়েছে। তাই তাঁরা বাড়তি আয়ের আশায় পাখি শিকার করছেন। দিনভর পাখি শিকারের পর বিকেলে সেগুলো গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করছেন। প্রতি জোড়া শালিক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বক ১০০ থেকে ১৫০, বালিহাঁস ৩০০ থেকে ৫০০ ও ছোট আকৃতির যেকোনো দেশি পাখি ৪০ থেকে ৬০ টাকা জোড়া দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাসুম হোসেন নামের এক শিকারি বলেন, ‘পাখি মারতি কেউ কুনুদিন মানা করে নাই। মেলা মানুষ পাখি মারে। শহর থেন বন্দুক নিয়ে মানুষজন আসে পাখি মারতি। তাই আমরাও মারি।’

সাঁথিয়া উপজেলার ছন্দহ গ্রামের শামিম হোসেন বলেন, পাখি শিকারের এ চিত্র নতুন নয়। প্রায় সারা বছরই বিল এলাকায় পাখি নিধন চলে। গ্রামের সাধারণ শিকারি থেকে শহরের শিক্ষিত লোকজন পর্যন্ত আসেন পাখি শিকার করতে।

২০১২ সালের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড। একই অপরাধ পুনরায় করলে দুই লাখ টাকা জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাবনার সুজানগর উপজেলার গাজনার বিল, ছাটমোহর উপজেলার বিল কুড়ালিয়া, খলসেগাড়ি, চিড়াইল, জিয়েল গাড়ি, চাতরার বিলসহ অনেক এলাকায় চলে পাখি নিধন। বর্ষায় বিলগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে আশ্রয় নিচ্ছে ও খাদ্য সংগ্রহের জন্য গিয়ে বসছে বিলের মধ্যে জেগে থাকা উঁচু জমিতে। আর এই সুযোগে একসঙ্গে অনেক পাখি পেয়ে শিকারে মেতেছেন শিকারিরা।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এভাবে পাখি শিকার চলে সারা বছরই। তবে শীত ও বর্ষায় শিকারিদের আনাগোনা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু পাখি নিধন বন্ধে প্রশাসনিক কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রাজশাহী কার্যালয়ের বন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহী থেকে আমাদের ১৬ জেলার খোঁজখবর রাখতে হয়। লোকবলেরও সংকট রয়েছে। তবে পাখি নিধন বন্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে আমরা নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট ও সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে।’

বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন স্বাধীন জীবনের নির্বাহী পরিচালক আবদুর রজ্জাক বলেন, পাখিরা শোভাবর্ধনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। কিন্তু পাখি নিধন বন্ধে আইন থাকলেও তা ঠিকমতো প্রয়োগ করা হয় না। স্থানীয় প্রশাসনের সামনেই অনেক সময় পাখি নিধন হয়। পাখি শিকার বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!