মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৭ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

এই ভরা বর্ষা মৌসুমেও পানি নেই পাবনার ইছামতি নদীতে

image_pdfimage_print

নিজস্ব প্রতিবেদক : এই ভরা বর্ষা মৌসুমেও পানি নেই পাবনা শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের স্রোতস্বিনী ইছামতি নদীতে।

পানি না থাকায় পাবনাবাসীর এখন ময়লা-আবর্জনা ফেলার জায়গা হয়েছে এই নদী। গত বছর ২০১৬ সালের এই বর্ষা মৌসুমে নদী মুখের স্লুইস গেট খুলে কিছুটা পানি প্রবাহিত করা হয়েছিলো। তাতে স্বস্তি পেয়েছিলো পাবনার মানুষ।

কিন্তু এবছরে এমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে মরা খালে পরিণত হয়েছে নদীটি। আবার দখল বা দূষণ রোধে নেই কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা।

ইতিহাস বলছে, বাংলার নবাব ইসলাম খাঁ ১৬০৮-১৬১৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে সৈন্য পরিচালনার সুবিধার্থে পদ্মা ও যমুনা নদীর সংযোগ স্থাপনার্থে পাবনা মধ্য শহরে একটি খাল কাটেন, যার নাম দেন ইছামতি।

এক সময়ের খরস্রোতা এই নদী দিয়ে চলতো নৌকা-ছোট জাহাজ। এই নদী দিয়েই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার নিজস্ব বোটে শাহজাদপুর আসা-যাওয়া করতেন। কিন্তু সেই স্রোতস্বিনী প্রবহমান ইছামতি তার যৌবন হারিয়ে আজ মৃতপ্রায়। অস্তিতই বিপন্নের পথে।

মধ্য শহরে প্রবাহিত ইছামতি নদীর দুই পাড় দখল করে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মহোৎসব চলছে। শহরের সব বাসা বাড়ি, হোটেল রেস্তোরাঁর আবর্জনা, ক্লিনিকের যাবতীয় বর্জ্য পদার্থ ও আবর্জনা ফেলা হচ্ছে নদীতে।

স্লুইস গেট দিয়ে পানি আটকে পরিকল্পিতভাবে নদীকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অব্যাহত দূষণের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে জেলা শহর ও এর আশপাশের কয়েক লাখ মানুষ।

পাবনা শহর থেকে বেড়া উপজেলা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর প্রায় অর্ধেক এখন নর্দমা। এর মধ্যে পাবনা পৌর এলাকার মধ্যে রয়েছে পাঁচ কিলোমিটার।

বর্তমানে এ নদীর উৎসমুখ বাংলাবাজারে স্লুইস গেটের কাছে প্রায় ভরাট করে ফেলায় এ নদী হয়ে পড়েছে প্রাণহীন।

১৯৭৪ সাল পর্যন্ত এ নদীতে পানির প্রবাহ ছিল। এ নদী পাবনার উত্তর প্রান্ত দিয়ে পূর্বে আতাইকুলার পাশ দিয়ে নদীরূপে এগিয়ে গেছে। সাঁথিয়া সদরের পাশ দিয়ে বেড়া সদরের বৃ-শালিখা এলাকার হুরাসাগর নদীতে গিয়ে যমুনায় মিশেছে।

১৯৭৮ সালে পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করার সময় ইছামতির সাথে বড়াল নদের সংযোগ মুখে নির্মাণ করা হয় স্লুইস গেট।

এ ছাড়া বেড়ার কাছেও ইছামতির প্রান্তখাত বন্ধ করে দেয়া হয়। বেড়া থেকে আতাইকুলা পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার ইছামতি পুনঃখনন করা হয়।

বেড়া পাম্প হাউজের সাহায্যে খননকৃত অংশের নদীতে ভরে পানি রাখা হচ্ছে সেচ কাজের জন্য। কিন্তু অবশিষ্ট ২০ কিলোমিটার নদী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শহরের নর্দমাগুলোর চেয়ে ইছামতির তলদেশ উঁচু হয়ে উঠেছে। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ডিএস মৌজা ও ম্যাপ অনুযায়ী ২০০৫ সালে সর্বশেষ জরিপ কাজ চালায় জেলা প্রশাসন।

সেই জরিপের তথ্য হিসেবে, নদীর উৎসমুখ সদরের চর শিবরামপুর থেকে পাবনা পৌর এলাকার শালগাড়িয়া শ্মশানঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটারব্যাপী সাতটি মৌজায় নদীর পাঁচ হাজার বর্গফুট এলাকা বেদখল হয়ে গেছে।

বিভিন্ন স্থানে ১২০ থেকে দুইশ ফুট প্রস্থের ইছামতি নদী এখন দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ ফুটে। নদীর পাড় দখল করে বসবাস করা অবৈধ দখলদারদের সংখ্যা ২৮৪ জন। ২০০৫ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীর কিছু খনন ও পরিষ্কারের কাজ করে।

এ ছাড়া ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নদী খননের জন্য প্রায় ২৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বর্জ্য অপসারণ ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হলেও তা আর শেষ হয়নি।

 

 


পাবনার ২৫০ বছরের পুরনো জামে মসজিদ

পাবনার ২৫০ বছরের পুরনো জামে মসজিদ

পাবনার ২৫০ বছরের পুরনো জামে মসজিদ

Posted by News Pabna on Saturday, October 10, 2020

লালন শাহ সেতু

লালন শাহ সেতু

লালন শাহ সেতু

Posted by News Pabna on Tuesday, October 6, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!