একটি বর্ণাঢ্য জীবনের পরিসমাপ্তি

অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম মারা গেছেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহে রাজিউন)। করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

দেশে দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালন করা অ্যাটর্নি জেনারেলের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবুদল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক জানিয়েছেন।

একটি বর্ণাঢ্য জীবনের পরিসমাপ্তি হলো। বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ইতিহাসের পাতায় অনেক কারণেই সরব থাকবেন তিনি।

বিশেষত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের বিচারের জন্য সংবিধানের ৫ম, ৭ম ও ১৩তম, ১৬ তম সংশোধনী মামলা, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কাদের মোল্লা, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, মো. কামরুজ্জামান, আলী আহসান মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী সহ যুদ্ধাপরাধীদের সাজা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ আদালতে আইনি লড়াই করেছেন। এছাড়াও, বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যক্তি জীবনেও তিনি একজন সফল মানুষ। এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তিনি ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৬৯ সালে পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে আইন পেশা শুরু করেন।

১৯৯৮ সাল থেকে ২০০১ সালে পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও সভাপতি। দায়িত্ব পালন করেছেন আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের। ২০০৯ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন।

জীবন-মরণের সীমানা ছাড়িয়ে সবাইকে চলে যেতে হয়। তবে কর্মমুখর যে জীবনের উদাহরণ রেখে গেলেন তিনি, আগামী মানুষকে তা পথ দেখাতে পারে।