মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ১২:০৩ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি স্থপতি রবিউল হুসাইন চিরনিদ্রায়

image_pdfimage_print

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন আর নেই (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বিকালে কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইনের বাসভবনে গিয়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। এর আগে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রবিউল হুসাইন তার কাজের মধ্য দিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও বিশিষ্ট লেখক মফিদুল হক জানান, দীর্ঘদিন রবিউল হুসাইনের শরীরে রক্ত তৈরি হচ্ছিল না। বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সকালে হাসপাতাল থেকে রবিউল হুসাইনের মরদেহ বাসায় নেয়া হয়েছে বলে জানান মফিদুল হক। তিনি বলেন, এখান থেকে বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। তার বড় বোন লন্ডন থেকে রওনা হয়েছেন। তিনি আসার পর রবিউল হুসাইনের মরদেহ কাল সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমি, সাড়ে ১০টায় শহীদ মিনারে নেয়া হবে।

জোহরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজার পর তাকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও স্থপতি ইন্সটিটিউটে নেয়া হবে। বিকালে তার মরদেহ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। ১৯৪৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকুপার রতিডাঙ্গা গ্রামে রবিউল হুসাইনের জন্ম। কুষ্টিয়া শহরে স্কুল ও কলেজজীবন শেষে বুয়েট থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন কৃতী কবি।

স্থপতি হওয়ার পাশাপাশি ষাটের দশক থেকেই তিনি লেখালেখির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা ছাড়াও ষাটের দশকের পরীক্ষা-নিরীক্ষাধর্মী ছোট কাগজে লেখালেখি করতেন। কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও শিশুতোষ গোটা পঁচিশেক বইয়ের লেখক তিনি। রবিউল হুসাইনের বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক ইত্যাদি সংস্থায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন।

ভাষা ও সাহিত্যে অবদান রাখায় ২০১৮ সালে একুশে পদক পান কৃতী কবি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষক ও স্থপতি রবিউল হুসাইন। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার, কবিতালাপ সাহিত্য পুরস্কার, আইএবি পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিপত্নীক ছিলেন। তার একমাত্র সন্তান রবিন হুসাইন।

এদিকে কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। মঙ্গলবার সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রবিউল হুসাইন বাংলাদেশে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সব নাগরিক আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা সংরক্ষণের সব উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুতে প্রগতিশীল সাহিত্য-সংস্কৃতির আন্দোলনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!