সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১২:০০ অপরাহ্ন

একুশে পদক পাচ্ছেন পাবনার কৃতি সন্তান আমিনুল ইসলাম বাদশা

বার্তাকক্ষ : বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২০ বিশিষ্ট নাগরিক ও এক প্রতিষ্ঠানকে ২০২০ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

এর মধ্যে ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য পাবনার কৃতি সন্তান মরহুম আমিনুল ইসলাম বাদশাকে এবার একুশে পদক দেয়া হচ্ছে।

আজ বুধবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২০ সালের একুশে পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আমিনুল ইসলাম বাদশা ১৯২৯ সালের ১৪ এপ্রিল পাবনা শহরের কৃষ্ণপুর মহল্লায় জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম আলহাজ্ব নুরুজ্জামান শেখ। মাতার নাম খবিরন নেছা। আমিনুল ইসলাম বাদশারা ছিলেন পাঁচ ভাই ও এক বোন। তাঁর পত্মীর নাম নীলুফা ইসলাম।

তাদের তিন সন্তান- একপুত্র ও দুইকন্যা। বর্তমানে আমিনুল ইসলাম বাদশার ছোট তিনভাই জীবিত আছেন- আজিজুল ইসলাম মন্টু (ব্যবসায়ী), রবিউল ইসলাম রবি (সাংবাদিক) ও জহুরুল ইসলাম মুকুল (ব্যবসায়ী)। তাঁর মেঝোভাই সিরাজুল ইসলাম আফসার ও ছোট বোন মেরী পরলোকগমন করেছেন।

আমিনুল ইসলাম বাদশার বড় মেয়ে নাজমা ইসলাম স্বপ্না, তাঁর ছোট মেয়ে ইসমত আরা কনা এবং একমাত্র পুত্র সাবিরুল ইসলাম বিপ্লব যিনি পেশাগত জীবনে সরকারি চাকুরী করেন (বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য, বর্তমানে একজন উপসচিব)।

১৯৯৮ সালের ৪ আগস্ট সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার মালিবাগস্থ বাসভবন থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন আমিনুল ইসলাম বাদশা। পরদিন পাবনার আরিফপুর গোরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।

তাঁর বর্নাঢ্য রাজনৈতীক জীবনে তিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন। আমিনুল ইসলাম বাদশা পাবনা গোপালচন্দ্র ইনস্টিটিউশনের ছাত্র থাকাকালে কৈশোরে ১৯৪৩ সালে প্রয়াত জননেত্রী বেগম সেলিনা বানু ও কমরেড প্রণতিকুমার রায়ের সাথে একই সঙ্গে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন এবং ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন।

তখন চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম উঠেছে তুঙ্গে-অবিভক্ত বাংলাদেশে তখন ৫০-এর মম্বন্তরের পদধ্বনি। আমিনুল ইসলাম বাদশা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ উৎখাতের জন্যে, ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্যে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ আন্দোলনে অংশ নেন।

অতঃপর পাকিস্তান আন্দোলনের নামে সৃষ্ট উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাংলা ভাষা বিষয়ক প্রস্তাবনা মুসলীম লীগ সরকারের বিরোধিতায় নাকচ হয়ে গেলে পাবনার সচেতন প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

১৯৪৮-এর ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে সর্বদলীয় সভায় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। আমিনুল ইসলাম বাদশা রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এর যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন।

১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পাবনা শহরে হরতাল পালিত হয়। প্রশাসনের জারী করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পাবনা শহরে ছাত্র জনতার মিছিল নামে। সেই মিছিলে নেতৃত্বদানকারীদের একজন ছিলেন আমিনুল ইসলাম বাদশা।

ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করার কারণে পাকিস্তান পুলিশ ঐ দিন তাঁকেসহ ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করলেও আন্দোলনের মুখে ঐ দিনই আদালত মুক্তি দিয়ে দেন সকলকে। এর দুইদিন পর আবারও গ্রেপ্তার হন আমিনুল ইসলাম বাদশা।

প্রায় সাড়ে ৪ বছর একটানা বিনা বিচারে আটক থাকার পর ১৯৫৩ সালের, ডিসেম্বরে মুক্তি পান।

এই দফায় আটক থাকাকালে ১৯৫০ এর ২৪ এপ্রিল রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের খাপড়াওয়ার্ডে আটক রাজবন্দীদের উপর জেল পুলিশের নির্মম গুলিবর্ষণে ৭জন বিপ্লবী রাজবন্দী শহীদ হন এবং অবশিষ্ট ৩০ জনেরও অধিক গুরুতরভাবে আহত হন- আমিনুল ইসলাম বাদশা তাদের অন্যতম।

মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তাঁর একটি পা বুলেটবিদ্ধ ছিল। তিনি তাঁর পায়ের চিকিৎসার জন্য কোন প্রকার রাষ্ট্রীয় বা পার্টিগত সুযোগ সুবিধাও গ্রহণ করেননি।

১৯৫৩ সালে বন্দী মুক্তিসহ মুসলিম লীগ বিরোধী নানা আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত পাবনা জেলা গণতান্ত্রিক কর্মী শিবিরের যুগ্ম আহবায়ক পদে নির্বাচিত হন। নির্বাচনী অভিযান চালানো কালে ৫৪ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়- নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি হলে একমাস পর মুক্তি পান তিনি।

এর দু’মাস পর ৯২(ক) ধারা জারি করে যুক্তফ্রন্ট নেতা শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকারের বাতিল করার সাথে সাথে পুনরায় গ্রেপ্তার হন। দেড় বছরেরও অধিককাল পর ১৯৫৫ সালের শেষ দিকে মুক্তিলাভ করেন।

১৯৫৭ সালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠনের পর তিনি ন্যাপে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপরই গ্রেপ্তার হন এবং প্যারোল মুক্তি পেয়ে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

‘আপত্তিকর’ পুস্তক রাখার অভিযোগে ১৯৬০ সালের শেষের দিকে সামরিক আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একমাস পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এই সময় কালে পাবনার শহরের বেনিয়াপট্টিতে পাবনাতে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ধারার বিকাশ ও নিজের আয়ের জন্য বইয়ের দোকান ‘বইঘর’ স্থাপন করেন।

পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি প্রগতিশীল চিন্তাচেতনা সমৃদ্ধ চিরায়ত ধারার পুস্তক ও প্রকাশনা প্রাপ্তির একটি মাধ্যম হিসেবে বইঘর হয়ে উঠেছিলো সাংস্কৃতিক বিকাশের কেন্দ্রবিন্দু গুলির একটি।

সার্বজনীন ভোটাধিকারের দাবিতে ন্যাপ-আওয়ামী লীগের যৌথ আন্দোলন চলাকালে ১৯৬৪ সালে পুলিশ আবার তাঁকে গ্রেফতার করে। এক বছর পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৬৭ সালে পাবনার ঐতিহাসিক ভুট্টা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিষাক্ত আটার রুটি খেয়ে মৃত্যুর কারণে পাবনা হয়ে উঠেছিলো বিক্ষোভের ও বিস্ফোরণের নগরী। এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দানকারীদের একজন ছিলেন তিনি। পুলিশের হাতে যথারীতি গ্রেপ্তার হন জননেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, আমজাদ হোসেনসহ অন্যান্য নেতাদের সাথে তিনিও। ১৫টি মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।

১৯৬৯-র ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেন এবং একজন সংগঠকের ভূমিকা পালন করার কারণে পুনরায় গ্রেপ্তার হন। দু’সপ্তাহ পর সকলের সাথে মুক্তিলাভ করেন।

১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের, নির্বাচনে ন্যাপ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে অংশ নেন।

মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে পাবনা জেলা সদরকে অবমুক্ত করবার জন্য সরাসরি অনেকবার যুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ২৭,২৮ ও ২৯ মার্চের সশস্ত্র যুদ্ধে তার সাহসী ভূমিকার কথা উল্লেখ করতেই হয়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে পাবনা জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত হাই কমান্ডের তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট সদস্য। একই বছর ১০ এপ্রিল পাক-বাহিনী কর্তৃক পাবনা পুনঃর্দখলের পর কলকাতা গমন করে তিনি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে আত্মনিয়োগ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে প্রবাসী সরকারের সাথে রাজনৈতিক সংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাম্প পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চ মহলে তাঁর প্রাক্তন রাজনৈতিক সহকর্মীগণের অনেকে থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার, মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্প শরণার্থী শিবির প্রভৃতির মাঝে সমন্বয় সাধনে তিনি গুরুত্বর্পূণ ভুমিকা রাখেন।

কেন্দ্রীয় মুক্তি সংগ্রাম সহায়ক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সমন্বয়ক হিসাবে কাজ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর, করিমপুর, শিকারপুর, কেচুয়াডাঙ্গা, মুর্শিবাদ প্রভৃতি ক্যাম্প পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে খাদ্য ঔষুধ ও রসদ সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন। ভারত সরকারের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন্ ক্ষেত্রে ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন।

পাবনা সদর এলাকার ন্যাপ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত একমাত্র জাতীয় দল বাকশালের পাবনা জেলা কমিটির অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত হন।

১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে মৃত্যুর ঘটনায় তিনি সাংঘাতিকভাবে মর্মাহত ও ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

জিয়াউর রহমানের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৯৭৬ সালের মার্চে গ্রেপ্তার হন এবং দেড় বছর পর হাইকোর্টে রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি মুক্তি লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে জাতীয়ভাবে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি গঠিত হয় তিনি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং পাবনা জেলা শাখার সভাপতি।

১৯৭৮ সালেই তিনি ন্যাপের দায়িত্ব পালন করেন কিন্তু ন্যাপের বিভক্তির পর তিনি দলীয় রাজনীতি হতে দূরে থাকেন। ১৯৭৯-এর পাবনা পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ন্যাপ প্রার্থী হিসাবে অংশগ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে ৮২-৮৩ সালে ন্যাপ পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন এবং ঐক্য ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পাবনা জেলা কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৯ সালে ন্যাপ পুনরায় বিভক্ত হলে প্রয়াত জননেতা সৈয়দ আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে গণতন্ত্রী পার্টি গঠন করেন এবং তার সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত থেকে জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখেন।

তিনি সামরিক শাসন ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী রাজনীতির ঐক্য গড়তে তিনি প্রাণপণ কাজ করে গেছেন।

১৯৯০-এর পর ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটির কার্যক্রমে তিনি আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাজনীতির ঐক্যের মাধ্যমে এদেশে কল্যাণকামী রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টির পক্ষে কাজ করে গেছেন।

আমিনুল ইসলাম বাদশা মনে প্রাণে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী, আজীবন সমাজতন্ত্রের সমর্থক ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল মার্কসবাদ-লেলিনবাদের প্রতি। ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এই তিন পর্বেই তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হিসাবে কাজ করে গেছেন।

সমগ্র বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলায় তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে তিনি গণফোরাম, গণতন্ত্রী পার্টি, গণ আজাদী লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র ও বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের শরীক দলগুলিসহ ১১ দলীয় ঐক্য গঠনের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে একটি প্রগতিশীল বিকল্প ধারা সৃষ্টিতে আত্মনিয়োগ করেন।

কালো টাকা, বেআইনী অস্ত্র ও মাস্তানী প্রভাবিত প্রচলিত রাজনীতির তিনি ছিলেন ঘোর বিরোধী। গাড়ী, বাড়ী, ব্যাংক ব্যালেন্স, ব্যক্তিগত বৈভব ও আরাম আয়েশের প্রতি মোহগ্রস্থ হননি তিনি কখনো।

মানুষের মুক্তি জন্য অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাম্যবাদী আদর্শের সমাজ প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গ করে গেছেন আমিনুল ইসলাম বাদশা। স্বাধীনতার এত বছর পরও যখন মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তিচিন্তা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে, তখন বাদশার জীবন থেকে নতুন প্রজন্ম পাঠ গ্রহণ করলে আজকের অস্থির সময় থেকে দেশকে সুস্থির সময়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

সততা, আদর্শবাদিতা ও ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী এ নেতার মৃত্যুর প্রায় ২২ বছর পরে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

ভাষা সংগ্রামী আমিনুল ইসলাম বাদশা ছাড়াও এবার যারা একুশে পদক পাচ্ছেন- বেগম ডালিয়া নওশিন (সংগীত), শঙ্গর রায় (সংগীত), মিতা হক (সংগীত), মো. গোলাম মোস্তফা খান (নৃত্য), এস এম মহসীন (অভিনয়), শিল্পী ড. ফরিদা জামান (চারুকলা), মরহুম হাজী আক্তার সরদার (মুক্তিযুদ্ধ), মরহুম আব্দুল জব্বার (মুক্তিযুদ্ধ), মরহুম ডা. আ.আ.ম মেসবাহুল হক (মুক্তিযুদ্ধ), জাফর ওয়াজেদ- আলী ওয়াজেদ জাফর (সাংবাদিকতা), ড. জাহাঙ্গীর আলম (গবেষণা), ক্বারী আল্লামা সৈদয় মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ (গবেষণা), ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া (শিক্ষা), ড. শামসুল আলম (অর্থনীতি), সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (সমাজসেবা), ড. নুরুন নবী (ভাষা ও সাহিত্য), মরহুম সিকদার আমিনুল হক (ভাষা ও সাহিত্য), বেগম নাজমন নেসা পিয়ারি (ভাষা ও সাহিত্য) এবং ডা. সায়েবা আখতার (চিকিৎসা)।

আর গবেষণায় স্বীকৃতিস্বরূপ এবার একুশে পদক পাচ্ছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!