শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ০৬:০০ অপরাহ্ন

একুশে ফেব্রুয়ারী- আমার রাজনীতির প্রেরণা

। আমিরুল ইসলাম রাঙা।

১৯৬৭ সালের একুশ আমার রাজনীতির প্রথম বর্ণমালা। আমি তখন ১৪ বছর বয়সী কিশোর। স্কুলের মধ্যেম শ্রেনীতে পড়ি। পাবনার ঐতিহ্যবাহী রাধানগর মজুমদার একাডেমীর ছাত্র। একই আঙ্গিনায় দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এডওয়ার্ড কলেজ। শিক্ষা ও ক্রীড়ার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানটি ছিল রাজনীতির সুতিকাগার। তৎকালীন আন্দোলন, সংগ্রাম এবং কলেজ ছাত্র-সংসদের নির্বাচন আমার কিশোর মনের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এডওয়ার্ড কলেজের আমতলায় ছাত্রনেতাদের জ্বালাময়ী বক্তৃতা শুনার নিয়মিত শ্রোতা ছিলাম। ছাত্র-সংসদ নির্বাচনের সেই নৃত্য প্রচার এখনো চোখের সামনে ভেসে উঠে। ভোট দিচ্ছেন কাহাকে – মুনছুর আলী চুনুকে, অন্য পক্ষ বলতো ভোট দিচ্ছেন কাহাকে – সোহরাব উদ্দিন সোবা কে। বড় ভাইদের সাথে এমন প্রচারে আমি নিজেও শরীক হতাম। এমনকি পাড়ায় এসে সমবয়সী বন্ধুদের সামনে জ্বালাময়ী ভাষন দেবার আসর বসাতাম। ভাল বক্তা এবং বড় নেতা হবার স্বপ্ন দেখতাম। এভাবেই একসময় মনের মধ্য রাজনীতির বীজ অঙ্কুরিত হয়।

ষাটের দশক হলো রাজনীতির স্বর্ণকাল। বাঙালীর অধিকার এবং স্বাধীকার আন্দোলনের শুরু।পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের ১০ বছরের শাসনকাল ভেঙ্গে দেবার যুগ। সেখান থেকে অতি অল্পসময়ের মধ্যে বাঙালী জাতি অর্জন করে আজকের বাংলাদেশ। আমার ছোট বয়সে দেখা অাইয়ুব শাহীর স্বৈরশাসন, ১৯৬২ এর শিক্ষা কমিশন নিয়ে আন্দোলন, ঐ একই বছরে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, ৬৪ এর আইয়ুব খান আর ফাতেমা জিন্নাহর নির্বাচন, ৬৫ এর পাক-ভারত যুদ্ধের ঘটনা এখনো মানসপটে স্মৃতি হয়ে আছে।

১৯৬৬ সালের ৭ এপ্রিল শেখ মুজিবুর রহমান পাবনায় এলেন । টাউন হল ময়দানে বিশাল জনসভা। জীবনে প্রথম শেখ মুজিবকে কাছে থেকে দেখা এবং তাঁর বক্তৃতা শোনার সুযোগ পেলাম । শুধু তাই নয় উনার আগমনের পূর্বে আয়োজকদের সাথে ক্ষুদে কর্মী হবার সুযোগ ঘটেছিল। তখন পাড়ার বড় ভাই ও মুরুব্বীদের সাথে রাজনীতির ছোটখাটো কাজ করার সুযোগ ঘটে। পাড়ার বড় ভাই মোখলেছুর রহমান মুকুল, সাঈদ আকতার ডিডু, মিজানুর রহমান তরুণ (যারা তিনজন পাবনার প্রথম সারির মুক্তিযোদ্ধা) বাড়ীর ২ শত গজ দুরে মক্তব মোড়ে আব্দুল মান্নান গোরা ( মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার), মোহররম ( শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ) রমজান চাচা, মনছের, কাদের ভাই, সোলায়মান দোকানদার ( মুক্তিযুদ্ধে নক্সালদের হাতে নিহত) প্রমুখদের কাছে যাবার সুযোগ পাই। উনাদের সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের পাবনায় আগমন নিয়ে কাজ করি। উনার পাবনা আগমনের দিন মক্তব থেকে মিছিল করে টাউন হল পর্যন্ত যাওয়া সবই ছিল একজন রাজনৈতিক কর্মীর মত । সেদিন পাবনা টাউন হলে শেখ মুজিবের শ্রুতিমধুর ভাষন আমাকে বিমোহিত করেছিল। উনি সেদিন প্রথম জনসম্মুখে ৬ দফা ঘোষণা করেন এবং পরবর্তী দুইদিনের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

এরপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর নতুন করে আবার নির্মম অত্যাচার শুরু হয়ে যায় । বলা যায় এই উপমহাদেশের প্রাচীন এই দলটি সৃষ্টির পর কঠিন দুইটি সময় পার করেছে একটি আইয়ুব খাঁনের শাসনকালে এবং আরেকবার ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু স্ব-পরিবারে নিহত হবার পর । এব্যাপারে একটি বিষয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে বলি, এদেশের দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও জাসদ সৃষ্টির জননী হলো ছাত্রলীগ। আরেকটি ব্যাপার হলো দুটি দলই সৃষ্টির সময় ভূমিকম্পের মত কম্পন করে সৃষ্টি হয়েছিল। তবে দু’দলের ব্যতিক্রম ও ব্যবধান অনেক। আওয়ামী লীগ সৃষ্টির অল্পদিনের মধ্য অল্প সময়ের জন্য পাকিস্তানের ক্ষমতায় বসার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তানের কুচক্রীমহল ষড়যন্ত্র করে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রথমে জেনারেল সাঈদ ইসকেন্দার ও পরে জেনারেল আইয়ুব খান অবৈধভাবে সেনা রাজত্ব কায়েম করে। ক্ষমতাচ্যুতির পর ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী দলত্যাগ করে ন্যাপ গঠন করেন।

আওয়ামী লীগের এই বিভক্তি পাকিস্তান সামরিক জান্তার মসনদ দখলে রাখার সহায়ক হয়। পরবর্তীতে পাক সরকার ন্যাপকে নিরাপদে রেখে আওয়ামী লীগ নির্মুলে দমন নিপীড়ন চালানো শুরু করে । ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে ফাঁসি দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করে। ইতিমধ্যে ন্যাপের ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়। সৃষ্টি হয় ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপ এবং ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপ। এরপর তাদের মুলদল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ভেঙ্গে যায়। পরিনত হয় ন্যাপ ( ভাসানী) ও ন্যাপ ( মোজাফ্ফর) নামে দুই দল। এমনতর সময় রাজনীতির নতুন মেরুকরন ঘটতে থাকে। আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও রাজবন্দীদের মুক্তি এবং সামরিক শাসন অবসানের দাবীতে সারাদেশে ছাত্র, শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে। যাহা গণআন্দোলনে রুপ নেয়। ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারী শেখ মুজিবুর রহমান সহ আটক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করা হয়। আইয়ুব খান পদত্যাগ করে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। ইয়াহিয়া খান অতিদ্রুত জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা প্রদান করার অঙ্গিকারবদ্ধ হয়। উল্লেখ্য ১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারী শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি পাওয়ার পরেরদিন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গণসংবর্ধনা প্রদান করে এবং ঐদিন শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

যাক এবারের প্রসঙ্গ একুশে ফেব্রুয়ারী উদযাপন । ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের পর ১৯৬৭ সালে পাবনায় শ্রেষ্ঠ একুশ উদযাপন করা হয়। বলা যায় ৬৭ – ৬৮ – ৬৯ -৭০ এর একুশ ছিল বাঙালী জাতীয়তাবাদের চেতনা ও প্রেরণার উৎস । একুশ হয়ে উঠে পাক-শাসকের বিরুদ্ধে মরনাস্ত্র। সেই অস্ত্র বুকে ধারন করে ১৯৬৭ সালে প্রথম একুশ উদযাপনে শরীক হয়েছিলাম । সামরিক শাসন দীর্ঘ সময় চলার কারনে রাজনীতি অনেকটাই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলো। কিন্তু ঐ সময়ে সারাদেশে ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনগুলি শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। পাবনায় তখন ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপ খুব শক্তিশালী ছিল । ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপ তাদের নেতাকর্মীর সংখ্যা কম হলেও তারা ছিল খুব শৃঙ্খলিত ও প্রগতিশীল একটি সংগঠন । তখন ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতা ছিলেন আকবর মজিদ, আলী রেজা, রবিউল ইসলাম, আবুল এহসান গোরা, আব্দুস সাত্তার লালু, আতাউল হক হুকু, সোহরাব উদ্দিন সোবা, রফিকুল ইসলাম বকুল প্রমুখ। তরুন নেতারা ছিলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু , আব্দুর রহিম পাকন, রেজাউল রহিম লাল, আঃ কাদের, অখিল রঞ্জন বসাক ভানু, আওয়াল কবীর, ইশারত আলী জিন্নাহ প্রমুখ। ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপে সিনিয়র নেতা ছিলেন, টিপু বিশ্বাস, মোফাফখার চৌধুরী, আব্দুল মতিন, বারী সরদার, মন্তাজ বিশ্বাস । তরুন নেতারা হলেন, জিয়াউল ইসলাম মাসুদ, শহীদ, হুমু, তোতা, হালিম, বাচ্চু প্রমুখ। ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপের প্রধান নেতা ছিলেন, মতিউর রহমান বাচ্চু, শফি আহমেদ। তরুন নেতারা ছিলেন, রবিউল ইসলাম রবি, শিরীন বানু মিতিল, জাহিদ হাসান , সুলতান আহমেদ বুড়ো, শহীদ, রইস উদ্দিন, মতিয়ার রহমান প্রমুখ। এই তিনটি সংগঠনের মধ্যে প্রধান দুইটি দল ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে প্রায়ই সংঘর্ষ হতো। এমনকি দুই গ্রুপের বহুবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এইসব রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই চলতো আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন।

১৯৬৭ সালে একুশে ফেব্রুয়ারীতে শহীদ দিবস পালন করার জন্য ছাত্রলীগের ব্যাপক প্রস্ততি শুরু হলো । পাড়ায় পাড়ায় ছোট বড়, মুরুব্বী সবার মধ্য তৎপরতা শুরু হলো। কোন দল সবচেয়ে বেশী লোক জড়ো করতে পারবে সেই প্রতিযোগিতা শুরু হলো । আগের রাতে রাধানগর মক্তব মোড়ে নেতাদের উদ্যোগে সারারাত জেগে মাঝরাতে খিচুড়ী খাওয়া, ফুল সংগ্রহ মালা বানানো আর লোক জড়ো করার কাজ করা হলো । তখনতো ২১ শে ফেব্রুয়ারীর প্রধান কর্মসূচি হলো প্রভাতফেরী করে দিবসের সুচনা করা। তখন পাবনা শহরে কোথাও শহীদ মিনার নাই। এডওয়ার্ড কলেজের ব্যায়ামাগার ও টেনিস কোর্টের মাঝে বাঁশ, খুটি আর কাগজ কেটে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানানো হয়েছে । আমরা ভোরের সূর্যোদয়ের আগে পাড়া-মহল্লা থেকে দলে দলে প্রভাত ফেরী বের করে শহরে গেলাম। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একসাথে ছাত্রলীগের উদ্যোগে দীর্ঘ মিছিল নিয়ে এডওয়ার্ড কলেজে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে এসে পুষ্পস্তবক অর্পন করলাম। এটাই হলো রাজনীতিতে আমার প্রথম হাতে খড়ি।

এরপর ছাত্রলীগের স্কুল কমিটি গঠন, রাজবন্দীদের মুক্তির দাবীতে প্রায়ই মিটিং,মিছিলে শরীক হওয়া, পাবনায় বহুল আলোচিত ভুট্টো আন্দোলনে মিছিল করা, পাড়া ছেড়ে শহরমুখী হওয়া, পার্টির অফিসে যাওয়া আসা, ঢাকায় ছাত্রলীগের সম্মেলনে শরীক হওয়া সহ ফুলটাইম রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করলাম। আমি ১৯৬৮ -৬৯ সালে গন-আন্দোলনে মিছিল সমাবেশ করা থেকে বাদ পড়েছি বলে মনে হয়না। প্রথমে স্কুল ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৬৯ সালে গনআন্দোলনের সময় ছাত্র ইউনিয়নের দুইগ্রুপ ও ছাত্রলীগের সম্বন্বয়ে পাবনা জেলা স্কুল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক হওয়া, ১৯৭০ সালে জানুয়ারীতে পাকিস্তান দেশ ও কৃষ্টি বই বাতিলের দাবীতে আন্দোলন গড়ে তোলার নিরস্ত্র সৈনিক ছিলাম। তখন জেল-জুলুম নির্যাতন, মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে নিরন্তন চেষ্টা করেছি সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারের মত শহীদ হওয়ার আশায়। তবে শহীদ হতে না পারলেও ১৮ বছর বয়সে ভয়ানক নির্যাতন সহ প্রায় তিন বছর জেলে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল।

মহান একুশের ৬৪ বছর পার হয়ে যাচ্ছে। যার প্রায় পঞ্চাশ বছর দেখার সৌভাগ্য হলো। গত ৬৪ বছর একুশ দেখেছি বহুভাবে। একুশ কখনো এসেছে নীরবে, কখনো সরবে, কখনো অনাড়ম্বর, কখনো আড়ম্বর করে পালন হয়েছে। পাকজান্তাদের সময়ের একুশ, স্বাধীনতাত্তোর যুদ্ধ ও রাজনীতি বিধ্বস্ত একুশ কখনো হেসেছে, কখনো কেঁদেছে। আমার জীবনে একুশ অনেক দিয়েছে। আমাকে রাজনীতির পাঠশালায় স্বরবর্ণ শিখিয়েছে। ইতিহাসের সব দারুন দারুন তীর্থস্থান দর্শন করিয়েছে। ১৯৬৯ সালের এক স্মৃতি এখনো মনে লেপটে আছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে ঢাকায় গিয়ে ” জীবন থেকে নেওয়া ” ছবির শহীদ মিনারের শ্যুটিংএ আমরা পাবনার একদল তরুণ অংশ নিয়েছিলাম। যাদের মধ্য পাবনার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমান্ডার হাবিবুর রহমান, ডিপুটি কমান্ডার আবদুল লতিফ সেলিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ হেল কাফি সহ অনেকেই বেঁচে আছেন। আমার জীবনের ১৯৬৭ – ৬৮ – ৬৯ – ৭০ এর একুশ যেমন দেখেছি তেমন দেখছি গত কয়েক দশকের ঐতিহ্যমন্ডিত একুশ। একুশ আজ দলমত নির্বিশেষে সার্বজনীন উৎসব। একুশ আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসন অর্জন করেছে।

এই প্রাপ্তির সাথে অপ্রাপ্তি রয়েছে অনেক। রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে আজও বাংলা চালু হয়নি। শহীদের মর্যাদা দিবস কেন্দ্রীক রয়ে গেছে। শহীদ মিনার সংরক্ষন ও অবমাননা চলছেই। শহীদ দিবসের ঐতিহ্য প্রভাতফেরি আজ বিলীন। এখন মধ্যেরাতে প্রভাতফেরী হয়। একুশ এখন শোক প্রকাশের বদলে আনন্দ উৎসবে পরিনত হয়েছে । কালো কাপড় বিলীন হয়ে রঙ্গীন কাপড় স্থান পেয়েছে। একুশের অনুষ্ঠান আজ বইমেলা কেন্দ্রীক হয়েছে। ভাষা শহীদ, ভাষা সংগ্রামী আর রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা একুশের দিবসে উপেক্ষিত ! এমন একুশ কি কাম্য? আমি মনে করি অবশ্যই নয় !! পরিশেষে কামনা করবো একুশের প্রকৃত চেতনা আমাদের মাঝে ফিরে আসুক ।।

শহীদ স্মৃতি অমর হোক –
মহান একুশ অমর হোক।


ওয়ার্ডপ্রেস থিম দিয়ে নিজেই ওয়েবসাইট তৈরি করুন

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!