এক রানীর গল্প

নারায়ণগঞ্জের মেয়ে রানী আহাদ। জন্ম সেখানে হলেও শৈশব কৈশোর পুরোটাই কেটেছে রাজধানী ঢাকাতে। ব্যবসায়ী বাবা আর গৃহিণী মায়ের মেয়ে রানীর ছোট বেলা কেটেছে স্বপ্নের মতো। নাচ, গানের তালিম নিলেও কোন সময় ইচ্ছে ছিলনা মিডিয়ার বাসিন্দা হওয়ার। তবে রানী নিজেই জানালেন মিডিয়ার সঙ্গে তার জড়িয়ে পড়া অনেকটা কাকতালীয়ভাবে।

তিনি বলেন, ‘বছর দুয়েক আগে একজন ফটোগ্রাফার বন্ধু আমার কিছু ছবি তুলে দেয়। তারপর ছবিগুলো পাওয়ার পর ফেসবুকে পোষ্ট করি। এরপর একটি পত্রিকা থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করে তাদের ফটোশুটের জন্য। অফার আসলে সাতপাঁচ না ভেবে রাজি হয়ে যাই। তারপর কয়েকটি ফ্যাশন হাউজের মডেল হিসেবে কাজ করি। এভাবেই নিজেকে শোবিজের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলি।’

তবে প্রথমদিকে রানীর পরিবার থেকে মিডিয়াতে কাজের ব্যাপারে কেউ উৎসাহ দেননি বরং নাখোশ ছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিবারকে বশে এনে রানী ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন অভিনয়ে। তার অভিনীত ‘পালকী’ সিরিয়ালটি বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দীপ্ততে প্রচারিত হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে রানী বলেন, ‘দীপ্ত টিভি যখন প্রথম যাত্রা শুরু করে তখন তাদের নির্মিত পালকী সিরিয়ালে কাজের জন্য নতুন মুখ নেওয়া হচ্ছিল। সবাই অডিশন দিলেও আমার ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। তারা আমাকে কাজ করার অফার দেয়। সবকিছু জেনে বুঝে কাজে লেগে যাই।’

রানী আরো বলেন, ‘সিরিয়ালটি সম্পর্কে অনেকেই বলছেন কলকাতা বা ভারতীয় ধারাবাহিকের ছায়া আছে। তবে আমরা শুধু তাদের নির্মাণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি। কারণ এদেশের দর্শকরা তাদের সিরিয়াল দেখছে। সে দর্শকদের সংখ্যা মুষ্ঠিমেয় নয়। তারা যদি আমাদের দেশে নির্মিত এ নাটকগুলো দেখে, এতে আমাদের জন্যই ভালো।’ আর সিরিয়ালে নিজের চরিত্র? চটজলদি তার উত্তর, ‘এখানে আমি শহুরে মেয়ে। নাম সাবা। যার চলনে বেশভূষায় আভিজাত্যের ছোঁয়া আছে।’

এছাড়া রানী সম্প্রতি কাজ করলেন দুটি মিউজিক ভিডিওতে। ‘দি জ্যাড মানে জীতু’, দীপ্ত ও আলভীর গাওয়া ‘কেউ তো আর জানেনা’ এবং জুয়েল মোর্শেদের একটি গানে তিনি মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও রানী মোহাম্মদ রফিকুল আলমের ‘চেয়েছি তোমাকে আমি এ হৃদয়ে’ গানটিতেও মডেল হিসেবে কাজ করেছেন।

এদিকে রানী এরই মধ্যে কাজ করেছেন ‘মন চোর’ ও ‘বাই সাইকেল’ নামে দুটি টেলিছবিতে। এছাড়া ওয়ালটন ফ্রিজ ও টিভি’র শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। তাছাড়া প্রাণ ইটালিয়ানোর কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। পাশাপাশি কাজী ফারম’স কিচেনের টিভিসিতেও দেখা মিলেছে এই সুন্দরীর।

রানী বলেন, ‘প্রথমে কাজ করতাম শখের বশে। তবে ধীরে ধীরে প্রফেশনালি নিয়েছি অভিনয়টাকে। সেইসাথে পরিবার থেকেও এখন সবাই সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। আমার কাজের ভালো মন্দ সমালোচনা করছে। বিষয়টি আমার জন্য অনেক পজেজিভ।’

রানী মনে করেন দিন বদলাচ্ছে। পালটে যাচ্ছে মানুষের রুচি। সময়ের সাথে তালমিলিয়ে চলে আগামীতে নিজের কাজের ক্ষেত্রের স্থানটি মজবুত করতে মরিয়া তিনি।

মালেশিয়া এবং নিউজিল্যান্ড থেকে স্নাতক ও স্নাতোত্তোর সম্পন্ন করা রানীর মূল ডেসটিনেশন এখন মিডিয়াকে ঘিরে। আগামীতে ভালো কাজের সুযোগ পেলে অবশ্যই নিজের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে চান বড়পর্দাতেও। সেই স্বপ্ন নিয়েই ছুটছেন রানী। তিনি বিশ্বাস করেন, পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি। রানীর জন্য শুভ কামনা।