ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ মে ২০২২

এ বছর আটঘরিয়ায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে

News Pabna
মে ১৭, ২০২২ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

আটঘরিয়া প্রতিনিধি : পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় তোশা ও দেশি পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর আটঘরিয়া উপজেলায় ৫ হাজার ১শ ১৬ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। পাট পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে বিভিন্ন ক্ষেতে ভালো ফলন হয়েছে। তবে পাট চাষিদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।

চাষিরা বলছেন, ধার-দেনা করে চাষ করছেন পাট। তাই ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই দেনাদাররা হানা দেয়। দাম কম হলেও দেনাদারের পাওনা পরিশোধ করার জন্য পাট ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি করতে হয়। যার ফলে ইচ্ছে থাকলেও কষ্টার্জিত ফসল থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করতে পারে না কৃষকরা। এরপরেও ভাল ফলনে খুশি কৃষকরা।

একদন্ত ত্রি-মোহন গ্রামের পাটচাষি ইউনুস আলী দুই বিঘা, হিদাসকোল গ্রামের হামিদ হোসেন পাঁচ বিঘা, চৌবাড়ি গ্রামের মুকুল হোসেন ছয় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এবার পাট ভালো হয়েছে। এরকম থাকলে মোটামুটি ভাল লাভই হবে বলছেন তারা।

ফজলুর রহমান নামের আরেক পাট চাষি বলেন, একদন্ত, লক্ষীপুর, দেবোত্তর, মাজপাড়া, চাঁদভা ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বেশিরভাগ এলাকায় পাট চাষ হয়। কিন্তু যখন চাষের জন্য বীজ বুনি তখন, পানির খুব সংকট থাকে। তার পরও পাটের ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমানে জমিতে যে পরিমান পাট হয়েছে আশা করি ফলনও ভালো হবে। তবে একবিঘা জমিতে পাট চাষ করতে খরচ হয় ১৪-১৫ হাজার টাকা। প্রতিবিঘায় পাট উৎপাদন হয় ১২-১৪ মণ। খরচ খরচা বাদে ভালো টাকাই লাভ থাকে।

মহসিন আলী নামে অন্য এক কৃষক বলেন, বাংলাদেশের জন্য পাট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থকরী ফসল। কিন্তু আমরা যারা চাষি, তারা এই পাট চাষ করে তেমন লাভবান হই না। ধার-দেনা ও সুদে টাকা এনে চাষ করি। দাম বৃদ্ধির আগেই দেনা পরিশোধের জন্য পাট বিক্রি করে দিতে হয়। পাট চাষিদের বীজ ও সার কেনার জন্য যদি সরকার কিছু সহযোগিতা করত তাহলে চাষিরা খুবই লাভবান হত বলে দাবি করেন তিনি।

আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ জানান, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বেশির ভাগ এলাকায় পাট চাষ হয়েছে। ৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। আমরা চাষিদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছি।