বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ০১:৪১ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

এ যেন গোবরে পদ্মফুল ভাঙ্গুড়ার তৃষা!

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : দারিদ্রকে হার মানিয়ে মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ করে নিয়েছে ভাঙ্গুড়ার তৃষা পারভীন। তার ডাক নাম রুসনা। পিতা মজিবর রহমান তার পেশা কৃষি। মাতা গৃহিনী।

তাদের সামান্য যে ভুমি আছে সেখানে বিভিন্ন ধরনের সবব্জি উৎপাদন করে বাজারে বিক্রিয় করে তাদের সংসার চলে । বাড়ি পাবনার জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলীপাড়া গ্রামে। সংসারে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে । বড় দুই ময়েকে বিবাহ দিয়েছেন। তৃষা পারভীন সবার ছোট।

দারিদ্রতার কারণে তার পরিবারে কেওই তেমন একটা পড়া লেখা করেন নি। তাই পিতা মজিবরেরও খুব একটা ইচ্ছা ছিল না যে সর্বছোট মেয়েটি পড়া লেখা করুক। কিন্তু তার দুই ভাই তাদের জীবনে পড়া লেখার মর্ম কি তা উপলব্ধি করত এবং ছোট বোন তৃষাকে পড়ার লেখা করার উৎসাহ দিত।

সেই উৎসাহ পেয়ে তাদের পরিবারের সেই ছোট বোনটির এখন ডাক্তার হবার স্বপ্ন পুরণ হতে চলেছে। সে এবারের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের এববিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ৩৮৬২তম হয়ে হবিগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তার ভর্তি পরীক্ষা রোল ছিল ১৬০০১৬।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে তৃষা পারভীনের পাটুলীপাড়ার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেল তৃষা বাড়িতে অবস্থান করছে। তার ভাই কাওছার ও তার মায়ের উপস্থিতিতে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার চান্স পাওয়া ও পড়ার বিষয়ে আলাপকালে জানা যায় যে, সে বাল্যকাল থেকেই ছিল মেধাবি।

সারুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। এরপর মাধ্যমিকে ভাঙ্গুড়া মমতাজ মোস্তাফা আইডিয়াল স্কুল থেকে জিপিএ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এরপর রাজশাহী মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

তৃষা জানায়, পাঠ্য বইয়ের মুল অনুচ্ছেদ গুলি ভালোভাবে পাড়েই এমন সাফল্য যে কেহই অর্জন করতে পারবে। তার জন্য শুধু থাকতে হবে তার মনের সদিচ্ছা। সে ডাক্তার হয়ে অসহায় মানুষদের সেবা করতে চায়।

এসময় তার ভাই কাওছার আলী বলেন, যত কষ্টই হোক না কেন সে তার বোনকে পড়া লেখার খরচ যুগিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই।

ভাঙ্গুড়া টেকনিক্যাল এন্ড বি এম কলেজের শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, মজিবরের মেয়ে তৃষা পারভীন তো গোবরে পদ্মফুল।

তার প্রতিবেশী ৬৫ বছর বয়সী অবসার প্রাপ্ত চাকুরীজীবি আব্দুস সাত্তার বলেন, তৃষা পারভীন আমাদের পাটুলীপাড়া গ্রামের গর্ব।

ভাঙ্গুড়ার মমতাজ মোস্তাফা আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহীনুর রহমান বলেন,‘তৃষা অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী, আমাদের বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালে পড়া লেখার বিষয়ে আমরা তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছি।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!