সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

করোনাভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশের শঙ্কা কতটা- বিশেষজ্ঞ মত

করোনাভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশের শংকিত হওয়ার কোনো কারণ আছে? কেন ভয় নেই যা পূর্বের আউটব্রেক এবং ভাইরাসের মিউটেশনের গতি-প্রকৃতি এনালাইসিস করে বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষক মাহবুবুল এইচ সিদ্দিক বিস্তারিত লিখেছেন-

‘করোনাভাইরাস এখন WHO-র দৃষ্টিতে global health emergency, তার মধ্যে আবার surgical mask বিশেষ কোন কাজে আসবেনা (আগের status-এ বিস্তারিত বলেছি)। তাহলে কি আমাদের জন্য ঘোরতর বিপদ অত্যাসন্ন? আমার Microbiology-র জ্ঞানের ক্ষুদ্র পরিসরে যা বুঝি, তা আসলে এতো simplistic না। একটু ধৈর্য ধরে পুরো লিখাটা পড়লে আশা করি কিছুটা স্পষ্ট হবে।

First of all, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে (already প্রায় ১০,০০০)। এটা কি অনেক বড় বিপদের লক্ষন? এইবার চিন্তা করুন, Wuhan- এর যে seafood মার্কেট থেকে ভাইরাস ছড়িয়েছিল তা বন্ধ করা হয় January 1, 2020, আর প্রথম atypical রোগী suspect করা হয়েছিল December 12, 2019-এ; এর কমপক্ষে সপ্তাহ খানিক আগে 2019-nCoV প্রথম human host-এ প্রবেশ করে। এর মানে দাড়াল, কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই বন্ধ হওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫ দিন ধরে এই মার্কেট থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। Central China-র সবচেয়ে বড় এই seafood মার্কেটে দোকান সংখ্যা ১০০০+; দোকান প্রতি দৈনিক ১০০ আলাদা customer থাকলেও এক সপ্তাহে বাজারে আসে ৭ লক্ষ মানুষ যারা ভাইরাসের ground zero-তে প্রায় একমাস ধরে সরাসরি exposed হয়েছে। এমতাবস্থায়, highly contagious এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কি অনেক বেশি? অবশ্যই না। তাই, সংখ্যা নিয়ে চিন্তা কিছুটা কমান, please (কারণ এটা আরও কিছুদিন বাড়তেই থাকবে)!

Secondly, and more importantly, এতো এতো আক্রান্ত মানুষ থেকে সারা পৃথিবীব্যাপি এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে কিনা? পড়লে কী বিপদ হবে? Now look at the countries of origin for Swine Flu (Mexico), SARS (China), Ebola (Sudan), and MERS (Saudi Arabia); প্রত্যেকটাই এর আগে বিভিন্ন সময় পুরো পৃথিবীতে ছড়ানোর আতংক ছড়িয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওরা খুব সুবিধা না করতে পারার কারণ মূলত gradually mutation accumulate করে compromised হয়ে যাওয়া। Luckily, করোনাভাইরাস-ও human-human transmission-এর সময় mutated হয়ে থাকে যা তাদেরকে আস্তে আস্তে দূর্বল করে দেয়। মনে রাখতে হবে, pandemic strain-গুলোর উৎপত্তি হয় কোন না কোন animal-এর দেহে। তাই human body-র extended immuno-environmental conditions ভাইরাসের উপর এক ধরনের survival pressure তৈরি করে, যার কারণে এই mutation- গুলো হয়ে থাকে। তার উপর, কিছু ethnic background-এর মানুষের immunity এমনিতেই কিছুটা strong হয়ে থাকে। সর্বোপরি, ব্যাক্তিগত ও রাষ্ট্র পর্যায়ে outbreak চলাকালীন যেসব সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, তাতে ভাইরাসের সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক কমে আসে। যার ফলে, শুরুতে ভাইরাস সংক্রমণের যে তেজ থাকে, তা লম্বা সময় ধরে sustain করেনা। mCoV 2019- এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত আশাপ্রদ বিষয় হলো এর Basic Reproduction Number (R; যা কিনা human-human transmission-এর index নির্দেশ করে) already কমতে শুরু করেছে। December 12 -তে এর R-এর মান ছিল 4.7 যা January 22 -তে নেমে এসেছে 2.07. Model prediction- অনুযায়ী (কমেন্টে লিংক আছে) এটি ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে 1.0 -এর নীচে নামার কথা। এর আগ পর্যন্ত আক্রান্তের এবং মৃতের সংখ্যা দুই-ই বাড়তে থাকবে (মৃতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়াতে পারে)। তবে দুঃখের ও শেষ আছে, রাতেরও ভোর আছে। মার্চের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং আশা করা যায় এরপর dramatic important দেখা যাবে।

Thirdly, চায়নাবাসী না-হয় ভুগেটুগে এক সময় ঘর নিল, কিন্তু আমাদের কী হবে, তাইতো?. ভালো কিছুই হবে আশা করি। চায়নার বাইরে, বিশ্বের 22টি দেশ মিলে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের মোট সংখ্যা 134 (সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত Japan, Thailand-এও আক্রান্ত মাত্র ১৪ জন করে) যাদের সবাই Wuhan- থেকে আসা এবং এখনো পর্যন্ত এদের একজনও মারা যায়নি। এমনকি Wuhan-এ রোগিদের মৃত্যুহার less than 3% যা pandemic strain হিসেবে কমই বলা যায়। So, you can stay calm for now, I guess. Ok, এইবার, আমাদের দেশের nCoV attack করার জন্য কোন সময়টা সবথেকে sensitive? উত্তর হলো December-January, কারণ এই সময়ে বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের immunity সবচেয়ে দুর্বল থাকে আর তাই Flu-related মৃত্যুর হার অপেক্ষাকৃত একটু বেশি থাকে। তাহলে কি দাড়ালো, আজকেও যদি আমাদের দেশে প্রথম ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা ঘটে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে বাড়তেই danger period will be well over ইনশাআল্লাহ। এইবার কি মুখের মাস্ক-টা একটু নামাবেন brother?

সবই ঠিক আছে, তাহলে WHO কেন global emergency issue করলো? ওরা কি আমার মতো ছাতার মাথা microbiologist-এর চেয়ে কম বোঝে? না, অবশ্যই না; উনারা অনেক বেশি বোঝেন। শুধু একটা প্রশ্ন; আমাদের বাসায় বা অফিসে যে fire extinguisher লাগানো হয়, তার মানে কি এই যে কাল-পরশু যেকোনো সময় আগুন লেগে যাবে? না, বরং এই জন্য থাকে যে, যদি কখনো আগুন লেগে যায়! Who knows? আর WHO’র warning ও অনেকটা ওই কারণেই; Who knows after all? অনেক ভাল থাকুন আর বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে থাকুন please!’

মহবুবুল এইচ সিদ্দিকি: জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মাইক্রোবায়োলজিস্ট; হেড অব অপারেশনস, বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ। সমন্বয়ক, মাইক্রোবায়োলজি কর্মসূচি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

[ফেইসবুক থেকে নেয়া।]


টুইটারে আমরা

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial