মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

করোনায় আক্রান্ত গর্ভবতীদের জন্য সুখবর

মহামারী করোনা ভাইরাসের ছোবলে আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। এরই মধ্যে করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেক সন্তানসম্ভবা নারী।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হবু মায়েরা আক্রান্ত হলেই তাদের গর্ভস্থ শিশু আক্রান্ত হবে- এমন কোনো কথা নেই। করোনা আক্রান্ত মায়ের শিশু সুস্থ থাকতে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, দেশটির একটি হাসপাতালে এমন তথ্যের প্রমাণ মিলেছে। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত শতাধিক নারী সুস্থ শিশু প্রসব করেছেন।

শহরের লোকমান্য তিলক জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত মাসে করোনা আক্রান্ত মায়েদের ১১৫ শিশু জন্ম নেয় হাসপাতালটিতে। এর মধ্যে তিনজন শিশুর করোনা শনাক্ত হয়।

এছাড়া ওই হাসপাতলে করোনা আক্রান্ত দুইজন গর্ভবতী নারীও মারা যান। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় সন্তান জন্ম দেয়ার আগেই।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুম্বাইয়ের ওই হাসপাতাল, যা সিওন হাসপাতাল নামেও পরিচিত, সেখানে করোনা আক্রান্ত সন্তানসম্ভবা নারীদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অর্ধেক, বাকি অর্ধেকের স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব হয়। নবজাতকদের মধ্যে ৫৬ জন ছেলে এবং ৫৯ জন মেয়ে শিশু জন্ম নেয়। এর মধ্যে ২১ জন করোনা আক্রান্ত মাকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এসব গর্ভবতী নারী ঘরে, বাইরে বা কার সংস্পর্শে আক্রান্ত হয়েছেন তা পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি।

হাসপাতালটিতে ৪০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষ ওয়ার্ডে কোভিড-সংক্রামিত মায়েদের চিকিৎসা করছেন ৬৫ জন চিকিৎসক এবং দুই ডজন নার্সের একটি দল। সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে সাথে হাসপাতালটি আক্রান্ত গর্ভবতী রোগীদের জন্য আরও ৩৪টি বেড যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে।

হাসপাতালটির চিকিৎসক ডা. অরুণ নায়ক বলেন, ‘আমাদের সৌভাগ্য যে করোনা আক্রান্ত বেশিরভাগ গর্ভবতী নারীর কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। এদের মধ্যে অল্প কয়েকজনের জ্বর হয়েছে এবং শ্বাসকষ্ট দেখা গেছে।’ তিনি জানান, প্রসবের পর অনেকেই এরই মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ডা. অরুণ জানান, করোনা আক্রান্ত হবু মায়েদের মধ্যে অনেক উদ্বেগ রয়েছে। তারা চিকিৎসকদের বলতে থাকেন, করোনায় তিনি মারা যেতে পারেন। কিন্তু তাদের সন্তান সুস্থ আছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে বারবার চিকিৎসকদের অনুরোধ করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রসবের পরে, মায়েরা এক সপ্তাহের জন্য কোভিড -১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ডে থাকেন। এই সময় তাদের হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইন খাওয়ানো হয়। এরপর তাদের ১০ দিন পর্যন্ত আলাদা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়। তবে শিশুদের মায়েদের থেকে আলাদা করা হয় না। বরং ফেসমাস্ক পরে মায়েরা তাদের বুকের দুধ পান করেন।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!