বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

করোনা কালের জীবন ধারা


।। এবাদত আলী।।
(পূর্ব প্রকাশের পর) (৪৪)
গত ২৯ মে তারিখে এনডিটিভির অনলাইনে একটি খবর পড়েছিলাম। তাতে বলা হয়েছিলো, ল্যাব টেকনিশিয়ানের ওপর হামলা চালিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর রক্তের নমুনা নিয়ে পালিয়েছে এক বানর। এই ঘটনা ভারতের উত্তর প্রদেশে। ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে বলা হয়েছে, পশ্চিম উত্তর প্রদেশের মেরঠ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আক্রমণ চালায় এক বানর। হুট করে সেখানকার ল্যাব টেকনিশিয়ানের উপর হামলা করে সেখান থেকে তিনজন করোনা রোগীর রক্তের নমুনা রাখা শিশি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। সেই সঙ্গে চুরি করে সার্জিক্যাল গ্লাভসও। ঐ ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনা জানাজানি হয়। জানাজানি হবার পর উত্তর প্রদেশে বানরের দৌরাত্বের কথা স্বীকার করে নেয় কর্তৃপক্ষও।

মেরঠ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান ডঃ এসকে গর্গ বলেন, এগুলি করোনা পরীক্ষার নমুনা ছিলোনা, তবে করোনা রোগীদের থেকে কিছু রক্তের নমুনা রুটিন টেষ্টের জন্য নেওয়া হয়েছিলো। ঐ চুরি যাওয়া নমুনার মধ্যে কোন লালা রসের নমুনা না থাকায় সংক্রমণ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও আশ্বস্ত করেন এই চিকিৎসক।
তবে বাংলাদেশের বানর হলে করোনা রোগীর নমুনা চুরি করে সেখানকার রীতি অনুসারে তা বালতির মধ্যে ফেলে দিতো। কারণ বানর হলো অনুকরণীয় প্রাণি। যা দেখে তাই করে। টুপিওয়লা ও বানরের কেচ্ছা যারা জানেন, তাদের জন্য বিষয়টি বুঝতে একটু সহজ হবে। একবার এক টুপি বিত্রেতা বনের মধ্যদিয়ে যাবার সময় ক্লান্ত হয়ে একটি গাছের নিচে ঘুমিয়ে পড়ে। জেগে দেখে তার ঝোলায় কোন টুপি নাই। তাকিয়ে দেখে গাছের ডালে বসা বানরেরা তার টুপি গুলো মাথায় পরে আছে। টুপি ওয়ালা বানরদের দিকে একটি কাঠ-খড়ি ছুঁড়ে মারলো। বানরেরা তাকে অনুকরণ করে শুকনো ডাল তার দিকে ছুঁড়ে মারলো। টুপিওয়ালা তখন যেই তার মাথার টুপিটি ছুঁড়ে ফেলে তখন বানরগুলো ও তার দিকে সবগুলো টুপি ছুঁড়ে দেয়।

টুপি ওয়ালা টুপি গুলো গুছিয়ে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। বাড়ি ফিরে ছেলেদের নিকট মজা করে এই গল্পটি বলে। এর অনেকবছর পর সেই টুপিওয়ালার ছোট ছেলে টুপি বিক্রি করার জন্য সেই বনের পথ ধরে চলতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে বাবার মতই সে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে টুপি না পেয়ে গাছের উপরে তাকায়। দেখে বানরের দল টুপি মাথায় দিয়ে গাছের উপর বসে আছে। ছেলেটি কাঠ-খড়ি ছুঁড়ে মারলো বানরের দিকে। বানরও গাছের ডাল তার দিকে ছঁড়ে মারে। টুপিওয়ালা মাথা চুলকালো, বানরও মাথা চুলকালো। তখন সে মাথার টুপি খুলে ছুঁড়ে মারলো। হঠাৎ একটা বানর এসে তার গালে ঠাস করে একটা চড় মেরে বল্লো, – এ ছেমরা, কি মনে হরছোস, তোর বাপেই হুদা তোগরে গল্পো হুনায়- মোগো বাপেরা হুনায় না?

বলছিলাম বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের করোনা টেষ্টের কেলেঙ্কারির কথা। করোনা সনাক্তকরণ পরীক্ষার নামে সেখানে ‘বালতি টেষ্ট’ ঘটনা ঘটেছে। করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করে আসছিলো হাসপাতালটি। জানা গেছে ৬ হাজার নমুনা সংগ্রহ করে তা ল্যাবরেটরিতে না নিয়ে বালতিতে রাখা হয়। পরবর্তীতে তা বাইরে ফেলে দেওয়া হয়।

পরে ১০ থেকে ২০ ভাগ বোগীর রিপোর্ট পরীক্ষা ছাড়াই পজিটিভ ও বাকিগুলো নেগেটিভ বলে চালিয়ে দেয়। অথচ এই ৬ হাজার মানুষের প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়াা হয়। এতে অনেক রোগী পড়েন মহা বিপদে। এর মধ্যে কেউ কেউ মারাও গেছেন। শুধু তাই নয় রোগীর কাছ থেকে টাকা আদায় করে পরে সেটিকে বিনামূল্যে করা হয়েছে দেখিয়ে সরকারের কাছে প্রায় দেড় কোটি টাকার বিলও জমা দিয়েছে রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তারা করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবাকর্মিদের নিম্নমানের হোটেলে রাখতো এবং খুবই মানহীন খাবার সরবরাহ করতো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর হতে জানা যায়, গত ৬ জুলাই-২০২০, উত্তরা রিজেন্ট হাসপাতাল ও মিরপুর রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সরোয়ার আলম এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে সেখানে বিপুল স্যাম্পল পাওয়া গেছে, যেগুলি বালতিতে ছিলো। এছাড়া অনুমোদনহীন টেস্ট কিট ও বেশ কিছু ভুয়া রিপোর্ট পাওয়া গেছে বলে জানান র‌্যাবের সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সরোয়ার আলম। অভিযান শেষে তিনি বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল ও প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দিয়েছি।হেড অফিসে বসেই মিথ্যা রিপোর্ট তৈরি করতো তারা। হেড অফিসে পাঁচ-সাত দিনের স্যাম্পল একসঙ্গে করে ফেলে দিতো। ভুয়া রিপোর্ট ও পেয়েছি। অনমোদনহীন র‌্যাপিড কিট ও পাওয়া গেছে। তিনি আরো জানান, রিজেন্ট হাসপাতালে চিকিতসাধীন রোগীদের কুর্মিটোলা জেরনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আমরা ওদের গ্রুপ কার্যালয়টিও সিলগালা করে দিয়েছি, যেখানে হাসপাতালের প্রধান কার্যালয়সহ আরো কয়েকটি অফিস ছিলো তাদের। তবে এর মালিক সাহেদকে এখনো আটক করা যায়নি। তিনি পলাতক রয়েছেন।

হাসপাতালটিতে ১৪ জন কোভিড-১৯ রোগী চিকিতসাধীন ছিলেন। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেন, করোনা মহামারির এই সময়ে এতবড় দুঃসাহস তাদের হলো কী ভাবে? এই লুটপাটের সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা জড়িত। তাদের লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৪ সালে উত্তীর্ণ হবার পরও হাসপাতালটি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হলো কীভাবে? সুত্র জানায়, সরকার থেকে বিনামূল্যে কোভিড- ১৯ টেস্ট করার অনুমতি নিয়ে রিপোর্ট প্রতি সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করতো রিজেন্ট হাসপাতাল। এভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। অভিয়োগ রয়েছে , এক শ্রেণির আদম বেপারি বিদেশ গামীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করে রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট নিয়ে নিতো। এর আগে মোহাম্মদ সাহেদের মালীকানাধীন হাসপাতাল থেকে অনঅনুমোদিত র‌্যাপিড কিট ও একটি গাড়ি জব্দ করে র‌্যাব।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সরোয়ার আলম বলেন, ঐ গাড়িতে ফ্লাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টিকার লাগানো ছিলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর চোখে ধুলো দিতেই গাড়িটি ব্যবহার করা হতো। এদিনের অভিযানে রিজেন্টের ৮ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। তিনি বলেন, উল্লিখিত অনিয়মের সঙ্গে হাসপাতালটির চেয়ারম্যানই জড়িত। তিনি নিজেই এসব করেছেন। হাসপাতালের আইসিইউতে গিয়ে দেখা গেছে, যেটা আছে সেটা নরমাল ওয়ার্ডও বলা যায়না। সেখানে পুরনো কাঁথা-বালিশ থেকে আরম্ভ করে সব আছে। এর যে ডায়াগনসিস ল্যাব সেখানে কোন মেশিন নেই। ফ্রিজের মধ্যে এক অংশে রি-এজেন্ট আর অন্য অংশে মাছ পাওয়া গেছে। এর যে ডিসপেনসারি সেখানে সব সার্জিক্যাল আইটেম পাঁচ-ছয় বছর আগের, মেয়াদোত্তীর্ণ। হাসপাতালটির মালিকের গাড়ির রেজিষ্ট্রেশনও নেই। এখন পশ্ন হলো ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক কে এই সাহেদ? )। (চলবে) (লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট)।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!