মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও মহামারী থেকে রক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে এখনো বাংলাদেশকে সংক্রমণের ৪র্থ ধাপের মারাত্মক ঝুকি থেকে বের করে আনার একটা শেষ সুযোগ আছে।

কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও দপ্তরের সমন্বয়হীনতা ও ভুল তথ্য প্রদানের জন্য সব উদ্যোগ ব্যর্থ হতে চলেছে এবং দেশ আজ মারাত্নক ঝুকির মধ্যে পরে গেছে। আমরা যদি সংক্রমণের ৪র্থ ধাপের মারাত্মক ঝুকি থেকে বাচতে চাই তাহলে নিম্নের প্রস্তাবনাগুলি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশকে কিছু দিনের মধ্যে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

১। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্দেশিত ৩১ দফা কঠোর ভাবে পালনের ব্যবস্থা করন।

২। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় দূর্যোগ সংক্রান্ত কাউন্সিল জরুরী ভিত্তিতে গঠন। (যৌক্তিকতাঃ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সাথে অন্য মন্ত্রনালয় গুলি সমন্বয় করছে না।)

৩। ১লা মার্চ ২০২০ তারিখ থেকে যতজন ব্যাক্তি বিদেশ থেকে বাংলাদেশে বিমান বন্দর, স্থল বন্দর, নৌ বন্দর, সমুদ্র বন্দর দিয়ে প্রবেশ করেছে তাদের সকলের করোনা টেষ্ট করতে হবে।(যাদের টেষ্ট করা হয়েছে তারা ব্যতীত)

৪। বাংলাদেশের সকল গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগে যাদের করোনার উপসর্গ আছে তাদের সকলের করোনা টেষ্ট করতে হবে।

৫। যাদের করোনা টেষ্ট পজিটিভ হবে তাদের সকলকে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে নিতে হবে এবং করোনা রোগীর সংস্পর্শে যারা ছিল তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নিতে হবে। (যৌক্তিকতাঃ বাসায় কেউ আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন মেনে চলতে পারে না এবং এ সম্পর্কে কোন ধারনা না থাকা)

৬। বাংলাদেশে প্রচুর সংখ্যক এক্সপ্রেস ট্রেন, ষ্টীমার, উন্নত মানের হোটেল, আশুলিয়ার ইজতেমা মাঠ, স্টেডিয়াম বর্তমানে অব্যবহৃত আছে। ট্রেনের বগি, ষ্টীমারের কেবিন, হোটেলের কেবিন গুলি, ইজতেমা মাঠ, ঢাকা সহ যেসকল জেলায় করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে সেসকল জেলার স্টেডিয়াম গুলিকে অস্থায়ী হাসপাতাল অথবা আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার ব্যবস্থা গ্রহন। (যৌক্তিকতাঃ এ ধরনের সেন্টারে সন্দেহ ভাজন রোগী রাখলে সংক্রমন নিয়ন্ত্রন করা যাবে)

৭। এ গ্রেডের অথবা সক্ষম সকল বেসরকারি হাসপাতালকে দ্রুত করোনা টেষ্ট করার ও চিকিৎসা প্রদানের অনুমতি প্রদান এবং টেস্ট ফী সরকার কর্তৃক নির্ধারন । (যৌক্তিকতাঃ তাহলে করোনা রোগী দ্রুত সনাক্ত হবে এবং করোনার ভয়ে অন্য রোগীদের যে সেবা বন্ধ ছিল সেটা দ্রুত চালু হবে)।

৮। প্রতিটি এ গ্রেডের বেসরকারি হাসপাতালে নূন্যতম ২০ টি আইসিইউ বেড করোনা রোগীর জন্য প্রস্তুত করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৯। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার, আকিজ গ্রুপের স্থাপনা, বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারকে ৫০০০ (পাচ হাজার) শয্যার অস্থায়ী হাসপাতালে রুপান্তর করতে হবে, এই অস্থায়ী হাসপাতালে নূন্যতম ১০০০ (এক হাজার) আইসিইউ বেড প্রস্তুত করতে হবে। (যৌক্তিকতাঃ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ২০- ৩০% রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট লাগে, আইসিইউ সাপোর্ট দেয়া গেলে বেশির ভাগ রোগীকে বাচানো যাবে)

১০। সরকারের পক্ষ থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে নূন্যতম ২০০০ ( দুই হাজার) বেডের আইসিইউ প্রস্তুত করতে হবে।

১১। সমগ্র বাংলাদেশ লকডাউন করা, বিশেষ করে যে সকল জেলাতে করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে সে সকল জেলা। (যৌক্তিকতাঃ সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে পারলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চীন, দক্ষিন কোরিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম লকডাউন করে সফল হয়েছে)

১২। সকল উপজেলা, জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীর পৃথক বিভাগ খুলে চিকিৎসা প্রদান এবং করোনা রোগীদের হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য পৃথক রাস্তা প্রনয়ণ ও প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখা। (যৌক্তিকতাঃ করোনা আক্রান্ত রোগীদের সঠিক সময় অক্সিজেন দিতে পারলে জীবন বাচানো সম্ভব)

১৩। প্রতিটি নাগরিককে বাসায় অবস্থান করার বিষয়ে বাধ্য করা, শুধু মাত্র ওষুধ, চিকিৎসা ও খাদ্য সংগ্রহ ছাড়া বাহিরে বের হতে না দেয়া।

১৪। চীন, দক্ষিন কোরিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, নেপাল যে ভাবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করেছে আমরা তাদেরকে অনুসরন করতে পারি।

১৫। চীনের হেইলংজিয়াং ইউনিভার্সিটি অফ চাইনিজ মেডিসিন এর তিন জন চিকিৎসক একটি হাসপাতালে ৭০১টি করোনা রোগীর উপর ভেষজ ওষুধ প্রয়োগ করায় ১৩০ জন দ্রুত সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যায়, ২৬৮ জনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়, ২১২ জনের ক্ষেত্রে শারীরিক অবনতি হয়নি, ৯০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ভেষজ ভাল কাজ করেছে, এছাড়া করোনার চিকিৎসা ও প্রতিরোধক হিসাবে আদা, দারচিনি,যষ্টিমধু, ত্রিফলা সহ ১২ টি ভেষজ ব্যবহার করা হয়েছে। Dr.Jun-Ling Ren, Dr.Ai-Hua Zhang, Dr.Xi-Jun Wang এর রিসার্চ পেপারটি Elsevier নামক মেডিকেল জার্নালে গত ১/৩/২০২০ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে, Corrigendum to “Traditional Chinese medicine for COVID-19 treatment” [Pharmacol.Res.155(2020)104743] Publication date: 1/3/2020, Journal: Elsevier.
আমরা চীনের মত করোনার প্রতিরোধক হিসাবে সকল নাগরিকদের ক্ষেত্রে এবং রোগীদের এই ভেষজ গুলি ব্যবহার করতে পারি।(দেশের ৬৪টি জেলা ২০০টি উপজেলা হাসপাতালে ভেষজ চিকিৎসকগন এবং সাপোর্টিং স্টাফ কর্মরত আছে, তাদের মাধ্যমে সমগ্র দেশে এই সেবা দেয়া যাবে।)

১৬। সরকারি ও বেসরকারি সকল চিকিৎসকের সমন্বয়ে টেলিমেডিসিন ও অনলাইন চিকিৎসা সেবা চালু করলে হাসপাতালের উপর চাপ কমবে এবং রোগীরা আতংক থেকে মুক্তি পাবে।

১৭। PPE সহ সুরক্ষা সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমানে সংগ্রহে রাখতে হবে, নাহলে আমেরিকা ও ইতালির মত চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে পরতে হবে। দক্ষিন কোরিয়ার মত PPE ছাড়া করোনা টেষ্ট বুথ বানিয়ে স্যাম্পল সংগ্রহ করা যায়।

১৮। অত্যাবশকীয় সেবা অফিস ছাড়া সকল অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গারমেন্টস ফ্যাক্টরি, কারখানা করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ না আসা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।

১৯। ওষুধ, খাদ্য, কাচা বাজার, ফল ও মাছ মাংস ক্রয়ের সময় বাহিরে গেলে এবং বাসায় ফিরে কি কি সাবধানতা অবলম্বন করবে এবং এ সকল পন্য বাসায় এনে কি ভাবে জীবানু মুক্ত করবে সেটার জন্য একটা গাইড লাইন প্রনয়ণ করে সকল জনগণের জন্য প্রচার করতে হবে। ( টাকা, পোষাক, প্যাকেট, ব্যাগ ও এ সকল পন্য থেকে ভাইরাস সংক্রমণ হয়।)

২০। বাংলাদেশে ১ জন চিকিৎসক ১জন ইঞ্জিনিয়ার এবং ভারতের ১ জন চিকিৎসক মিনি ভেন্টিলেটর তৈরী করেছে, তাদের কাছ থেকে সল্প মুল্যে মিনি ভেন্টিলেটর গুলি সংগ্রহ করা যায় এবং বাংলাদেশের মেডিকেল যন্ত্রপাতি প্রস্তুত কারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এগুলো দ্রুত সময়ে প্রস্তুত করে নেয়া যায়।

২১। সেনা বাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার, নৌবাহিনী পর্যাপ্ত সংখ্যক নামিয়ে সমগ্র দেশে লকডাউন ১০০% কার্যকর করতে হবে। (বাংলাদেশের জনগন লকডাউন শব্দের সাথে খুব বেশি পরিচিত না,সেক্ষেত্রে কারফিউ দেয়া যেতে পারে।)

২২। দেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতিদিন রাস্তায় জীবানু নাশক স্প্রে করতে হবে। বিশেষ করে যে সকল জেলা সংক্রমিত।

২৩। চীন যেহেতু করোনা ভাইরাস ভাল ভাবে প্রতিরোধ করেছে সেহেতু চীন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে উন্নত চিকিৎসা প্রদান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

২৪। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ২০-৩০% রোগী প্রচন্ড শ্বাসকষ্টে ভোগে, এসকল শ্বাসকষ্টের রোগীদের রেসপিরেটরি ফিজিওথেরাপি খুবি কার্যকর, শ্বাসকষ্ট থেকে রোগীদের মুক্তি দেয়া এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য যে সকল হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সে সকল হাসপাতালে চিকিৎসকের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপিষ্টদের মাধ্যমে সেবা দেওয়া প্রয়োজন।

২৫। করোনার ভাইরাসের প্রতিরোধক হিসাবে প্রতিটি মানুষকে আদা,দারচিনি,লবংগ, যষ্টিমধু, কালজিরা, হলুদ, ত্রিফলা ও তুলসীপাতা জ্বাল দিয়ে চায়ের মতো সেবন, প্রতি বেলায় কুসুম গরম পানি সেবন এবং ভিটামিন সি অথবা ভিটামিন সি যুক্ত ফল দিনে দুই বার খাবার উপদেশ প্রদান। (এ সকল উপাদান জেলা প্রশাসক, ইউএনও, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধির মাধ্যমে সকল ঘরে পৌছে দেওয়া সম্ভব)

ধন্যবাদান্তে
ডাঃমোঃ হাসান ইমাম
এমডি (মেডিসিন), নিউ দিল্লি, স্পেশাল ট্রেইনিং ইন টিএম (চীন, কোরিয়া, থাইল্যান্ড)।
এস.পি হাসপাতাল, আদাবর, ঢাকা।
Email: [email protected]
Cell no : 01711310613

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!