রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

কলকাতায় যে বাড়িগুলোতে ছিলেন নজরুল

।। সোমঋতা মল্লিক ।।

কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ছায়ানট (কলকাতা)-র বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য ‘কলকাতায় নজরুল’, প্রকাশে কোয়েস্ট ওয়ার্ল্ড। কলকাতায় কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য ছবি ও তথ্যসহ পনেরোটি পোস্টকার্ডের সুদৃশ্য এই সেটটির তথ্য-সংগ্রহ ও পরিকল্পনায় সোমঋতা মল্লিক, আলোকচিত্রে মাসুদুর রহিম রুবাই, সৃজন ও নির্মাণে স্বাগত গঙ্গোপাধ্যায়, প্রচ্ছদাঙ্কনে শেখ মোঃ সাদিকুজ্জামান এবং সার্বিক সহযোগিতায় ‘নজরুল ইন’ ওয়েবসাইট ও ‘রেডিও নজরুল’।

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। চরম দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে তাঁর বেড়ে ওঠা। বাল্যকাল থেকেই নানাবিধ কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি জীবন ধারণ করেছেন। ১৯১৭ সাল — কাজী নজরুল ইসলাম তখন রানীগঞ্জের শিয়ারসোল রাজ হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র। সামনেই ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা। এই অবস্থায় হঠাৎ একদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কেবলমাত্র তাঁর স্কুল জীবনের পরম বন্ধু শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় এ-সম্পর্কে অবগত ছিলেন। ১৯২০ সালের মার্চ মাসে ৪৯ নম্বর বেঙ্গলী রেজিমেন্ট ভেঙে দেওয়া হলে,করাচি থেকে কলকাতায় এসে প্রথমে তাঁর বাল্যবন্ধু শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের মেসে এবং পরে ৩২ নম্বর কলেজ স্ট্রিটে ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’-র অফিসে ওঠেন। সেখানে দু-দিন থেকে তিনি চুরুলিয়ায় যান এবং সপ্তাহখানেক ছুটি কাটিয়ে পুনরায় কলকাতায় ফিরে আসেন।

সোমঋতা মল্লিক

উল্লেখ্য যে, সুস্থাবস্থায় নজরুল আর কখনও চুরুলিয়ায় যাননি। মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ ‘কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা’-য় লিখেছেন — “চুরুলিয়া হতে নজরুল যখন কলকাতা ফিরে আসছিল, তখন সে বর্ধমানে থেমে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অফিসে সাব-রেজিস্ট্রারের চাকরির জন্য একখানা দরখাস্ত দিয়ে আসে। তাতে সে ৩২ নম্বর কলেজ স্ট্রিটের ঠিকানা দিয়েছিল। সেই সময়ে পল্টন হতে যাঁরা ফিরেছিলেন তাঁদের মধ্যে লেখা-পড়া জানা লোকেদের সরকারি চাকরি হয়ে যাচ্ছিল। ৩২ নম্বর কলেজ স্ট্রিটের ঠিকানাতেই নজরুল ইসলামের নামে মুলাকাত (ইন্টারভিউ) করার জন্য পত্রও এসেছিল। আফ্‌জালুল হক সাহেব সহ আমরা অনেকেই তাঁকে সেই মুলাকাতে যেতে দিইনি। আমরা তাঁকে বুঝিয়েছিলেম যে সাব-রেজিস্ট্রারের চাকর হলে তাঁকে কোথাও দূরে গ্রামের মতো জায়গায় পড়ে থাকতে হবে। সে জায়গায় সে কলকাতার সাহিত্যিক পরিবেশ পাবে না। আর এই পরিবেশ হারালে তাঁর শক্তির বিকাশে বাধা ঘটবে।”

শুরু হলো কলকাতায় নজরুলের সাহিত্যিক জীবন। জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি অতিবাহিত করেছেন বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতির পীঠস্থান এই কলকাতায়। নানা কারণে বার-বার ঠিকানা বদল করেছেন। নজরুলের জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী এই বাড়িগুলি। ক্রিস্টোফার রোডের বাড়ি থেকেই কবি নজরুলকে ১৯৭২ সালের ২৪শে মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমন্ত্রণে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বাড়িটি ছিল কলকাতায় কবির শেষ ঠিকানা। কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষে আরও একবার ফিরে দেখা — সাদা-কালো আলোকচিত্রে ‘কলকাতায় নজরুল’। ৩/৪সি, তালতলা লেনের সেই বাড়ির সামনে দাঁড়ালে এখনও মনের গহীনে ধ্বনিত হয় —

বল বীর —
বল উন্নত মম শির!

৩/৪ সি, তালতলা লেন, নজরুল ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি এই বাড়িতে লিখেছিলেন।
১১ নং ওয়েলেসলি স্ট্রীট। ১৯২৮ এর প্রথম দিকে নজরুল এই বাড়িতে থাকতে আসেন। এখানে ছিল সওগাত পত্রিকার অফিস। নজরুলের লেখা ‘সওগাত’ পত্রিকায় নিয়মিত ছাপা হত।
১৯২৪ এর ২৫শে এপ্রিল ৬নং হাজী লেনের এই বাড়িতে নজরুল ও প্রমীলার বিয়ে হয়।
ক্রিস্টোফার রোডের এই বাড়ি থেকেই কবি নজরুল ১৯৭২ সালের ২৪শে মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমন্ত্রণে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এটাই কবির কলকাতা বাসের শেষ ঠিকানা।
0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!