কল্যাণপুরে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান, নিহত ৯

SWAT-Dhaka-Oparation-JMB-Ded-9-Pabna-newspabnaবার্তাকক্ষ: রাজধানীর কল্যাণপুরে এক জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গোলাগুলিতে নয়জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেছেন, ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। হতাহতরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি দল জেএমবির সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন।

কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের গার্লস হাই স্কুলের পাশে তাজ মঞ্জিল নামের ছয় তলা ওই ভবনকে স্থানীয়রা চেনেন ‘জাহাজ বিল্ডিং’ নামে, যেখানে বেশিরভাগ ফ্ল্যাট মেস হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ভবনের পঞ্চম তলায় তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাটে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছিল বলে পুলিশের তথ্য।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, সোমবার মধ্যরাতের পর পুলিশ ও র‌্যাবের প্রাথমিক অভিযান শুরু হয়। পরে সোয়াট বাহিনীর নেতৃত্বে ‘অপারেশন স্টর্ম টোয়েন্টি সিক্স’ নামে মূল অভিযান চলে ভোর ৫টা ৫০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা।

অভিযানের পর মঙ্গলবার ভোরে সেখানে নয়জনের লাশ পাওয়া যায় বলে শেখ মারুফ হাসান জানান। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত নয় জনের পরিচয় জানা না গেলেও ওই ভবন থেকে জিহাদি বই, বোমা ও অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, “যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরনে কালো পাঞ্জাবি ছিল। ওই বাসা থেকে আরও বেশ কিছু নতুন কালো পাঞ্জাবি ও কালো পাতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ফ্ল্যাটে একটি গ্রেনেড ও একটি পিস্তল পাওয়া গেছে।”

গুলশানে জঙ্গি হামলার আগে পাঁচ জঙ্গি অস্ত্র হাতে কালো পাঞ্জাবি পড়ে আইএস এর কালো পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে, যা পরে আইএস প্রকাশ করে।

মিরপুর থানার ওসি মাহবুব হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে জঙ্গিবিরোধী ওই অভিযান শুরুর ঘণ্টা দেড়েক পর রাত ২টার দিকে শীর্ষ কর্মকর্তাদের ডেকে ওই সড়কে আরও পুলিশ মোতায়েন করতে বলা হয়।

অভিযানের শুরুতে পুলিশ চারদিক থেকে ঘেরাও করে ওই ভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে পাঁচ তলার আস্তানা থেকে কয়েকজন জঙ্গি নেমে এসে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে গুলি ছুড়তে শুরু করে বলে জানান ওসি।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির মধ্যে এক জঙ্গি আহত হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অতিরিক্ত উপ কমিশনার ছানোয়ার বলেন, সোয়াটের অভিযান শেষে ওই ফ্ল্যাটে বিস্ফোরক আছে কি না তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। পরে ক্রাইম সিন ইউনিট তাদের কাজ করবেন।