রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কারো একক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : রাষ্ট্রযন্ত্রের তিন অঙ্গ বিচার, আইন ও নির্বাহী বিভাগের কারো এককভাবে ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তিন স্তম্ভ আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগকে সমঝোতার ভিত্তিতে চলতে হবে এবং কাজ করতে হবে। একটি আরেকটিকে দোষারোপ করে কোনো দিন একটি রাষ্ট্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে না।’ এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলা ও আচরণসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন নিয়ে প্রশাসনের ‘অহেতুক’ দীর্ঘসূত্রতার জন্য উষ্মা প্রকাশ করা হচ্ছে উচ্চ আদালত থেকে। এ ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও কখনো কখনো সংশয় প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও সরকারের মন্ত্রী বিশেষ করে আইনমন্ত্রী পরস্পর বক্তব্য তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, সব সরকাই বিচার বিভাগের ওপর বিমাতাসুলভ আচরণ করে। প্রশাসন কোনো সময়ই চায়নি বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে চলুক।’

পরদিন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন বলে দাবি করেন। প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরো বলেন, কোনো দেশে বিচারপতিরা প্রকাশ্যে এত কথা বলেন না।

কোনো বিভাগের ক্ষমতা কম নয়- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইন প্রণয়ন করি, আর তা প্রয়োগ করে বিচার বিভাগ, এটা কার‌্যকর করার ক্ষেত্রে রয়েছে নির্বাহী বিভাগ। কেউ এককভাবে চলতে পারবে না। সবাইকে সমঝোতা নিয়ে চলতে হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি মনে করেন, এখানে আমার ক্ষমতাটা আমি সবটুকু প্রয়োগ করব। কিন্তু সেই প্রয়োগটা করবে কে, তার জন্য তো কাউকে লাগবে। এ কথা যেন কেউ ভুলে না যায়।’

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর বিচার বিভাগ পৃথককরণ আইন স্থায়ী করি। বিচারকদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণ করার পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। জজদের বাসস্থান সমস্যার সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’

অর্থের অভাবে কেউ যাতে সুবিচার থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য তার সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু আইন করে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে বিচারপ্রার্থী মানুষের দূর্ভোগ কমানো সম্ভব হয়। এ জন্য বিচারক ও আইনজীবীদের আরেকটু মানবিক হয়ে সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।

আইন সহায়তার অভাবে অনেকে দিনের পর দিন কারাগারে আটক বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বাবা বঙ্গবন্ধু ও নিজের কারাবাসের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারাগারের সাথে আমাদের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সেখানে কত মানুষ বিচার না পেয়ে দিনের পর দিন বন্দী হয়ে আছে। তারা হয়তো জানে না কীভাবে আইনগত সহায়তা পেতে হয়। আবার অর্থের অভাবে আইনজীবীও রাখতে পারছে না। এ জন্য বছরের পর বছর তারা কারাগারে বন্দী আছেন।’

বিচার না পাওয়ার কষ্টকর ও যন্ত্রণার কথা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এর ভুক্তভোগী আমাদের থেকে বেশি আর কেউ না।

নানা সময়ে বাবা বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের স্মৃতিচারণা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা যদি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কথা চিন্তা করেন, তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’ পড়েন, সেখানে দেখতে পারবেন বছরের পর বছর কীভাবে তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। যা্র অনেকগুলোর বিচার হয়নি, সাজাও পাননি তিনি। তারপরও তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছিল। তার অপরাধ ছিল, বাংলাদেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য কাজ করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর আমরা বিচার পাইনি। আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার না করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়া হয়েছিল। সেই খুনিদের জনগণের ভোট চুরি করে সংসদ সদস্য বানিয়ে বিরোধী দলে বসানো হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে খুনি ফারুককে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হয়েছিল।’

পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ের বিচারহীনতার কথা তুলে ধরতে গিযে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজাকারদের বিচার বন্ধ করে দিয়ে অভিযুক্তদের মুক্তি দেয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আট হত্যা মামলার আসামিকে জামিনে মুক্তি দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিল অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা।’

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘আমরা ২১ বছর পর জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার পূর্ণ করার কাজ শুরু করি। ২০০০ সালে আইন আরও গতিশীল করার জন্য আমরা বিভিন্ন আইন ও বিধি প্রণয়ন করি। দুঃস্থ আসহায় জনগণ যাতে সুবিচার পাই তা আমরা নিশ্চিত করি। এ জন্য আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০ পাস করি। কিন্তু বিএনপি- জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর এ আইন কার‌্যকর করা হয়নি।

আইনটি কার‌্যকর করার লক্ষ্যে তার সরকার তৃণমূলে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়নের লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন ব্যক্তিরা সরকারি অর্থব্যয়ে আইনগত সহায়তা পাচ্ছেন। বাজেটে এর জন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দও রাখা হয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে সরকারের আইনগত সহায়তার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সালের মার্চ মাস পর‌্যন্ত ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩২৯ জন নারী, শিশুসহ দুই লাখ ৩১ হাজার ৬২৬ জন ব্যক্তিকে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা দেয়া হয়েছে। একই সময়ে ৪৬ হাজার ৫৪৬টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

নিজের কারাবরণের স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতি করি যখন তখন আমাকেও জেলে যেতে হয়েছে কিন্তু আমাকে কখনও কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়নি। সব সময় সাবজেলে রাখা হয়েছিল।’

‘১৯৮৩ সালে যখন আটক করা হয়েছিল তখন সাবজেলে, ৮৫ সালে হা্উজ এরেস্ট আর ২০০৭ সালে তো একেবারে একাকী সাবজেলে রাখা হয়েছিল। আমার বাবাকেও একা কারাগারে রাখা হতো যাকে বলে ‘সলিটারি কনফাইনমেন্ট’। দিনের পর দিন তাকে একদম একা বন্দী রাখা হতো। আমার ভাগ্যও সেটাই জুটে ছিল।’


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!