ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কার নির্দেশে বরখাস্ত হয়েছিলেন টিটিই শফিকুল, তদন্ত প্রতিবেদনে সেই তথ্য নেই

News Pabna
মে ১৭, ২০২২ ৯:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বার্তাকক্ষ : রেলের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরিদর্শক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম কার নির্দেশে বরখাস্ত হয়েছিলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই সেই তথ্যের। একইসঙ্গে রেলমন্ত্রীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না তাও উল্লেখ করা হয়নি ওই প্রতিবেদনে।

টিটিই শফিকুল ইসলামকে বরখাস্তের ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সোমবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহিদুল ইসলামের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে রেলমন্ত্রীর তিন আত্মীয়কে জরিমানা করায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ট্রেনের ভ্রাম্যমান টিকিট পরিদর্শক (টিটিই) শফিকুল ইসলামকে ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ডিআরএম শাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর যে কর্মকর্তা (বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন) টিটিই শফিকুলকে বরখাস্ত করেছিলেন, তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব পেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

গত ৫ মে রেলমন্ত্রীর তিন আত্মীয় বিনা টিকিটে ভ্রমণ করায় তাদেরকে জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করেন পাবনার ঈশ্বরদীর ভ্রাম্যমান টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম। পরে রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর ফোনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন।

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে যে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি, সেটা ছিল ট্রেনের ভেতরের ঘটনার বর্ণনা।’

তিনি জানান, তদন্তে উঠে এসেছে ট্রেনের গার্ড শরিফুল ইসলাম ওই যাত্রীকে দিয়ে টিটিই শফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে উসকানি দিয়েছিলেন। কোনো কারণে ট্রেনের গার্ড শরিফুল টিটিই শফিকুলের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। গার্ড শরিফুলের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছেন তদন্ত কমিটি।

রেলমন্ত্রীর স্ত্রী বা তার আত্মীয়দের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না এ প্রশ্নের জবাবে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি ছিল ট্রেনের মধ্যে যাত্রীর সাথে টিটিই শফিকুলের খারাপ আচরণের অভিযোগ। সে কারণে শুধু সেই বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। এর বাইরে কোনো বিষয় এর সাথে আনা হয়নি। আর তদন্তে অভিযোগকারী বা অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ কারো বক্তব্যে এ বিষয়ে কোনো কথা বা অভিযোগ উঠে আসেনি।’

তদন্ত কমিটির প্রধান বিভাগীয় সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর মামাতো বোনের ছেলে ট্রেনযাত্রী ইমরুল কায়েস প্রান্তের তোলা অভিযোগ সঠিক ছিল না। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে রেলওয়ে বিভাগীয় কার্যালয়ে এসে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।’

রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর নানাবাড়ি ঈশ্বরদীতে। প্রান্তের মা ইয়াসমিন নিপা একই শহরের নুরমহল্লা কর্মকার পাড়ার বাসিন্দা। দুই বোন এবার একসঙ্গে একই বাড়িতে ঈদ উদযাপন করেছেন বলেও নিপা জানান।

নিপাই গণমাধ্যমকে জানান, ছেলেদের সঙ্গে অসদাচরণ করার কারণে টিটিইকে বদলি করতে মন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তার নাসির উদ্দিনকে ফোন করেছিলেন।