বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

‘কোরআন অবমাননা’ ছিলো গুজব- তদন্ত কমিটি গঠন

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে কোরআন শরীফ অবমাননার ঘটনা ছিলো নিছক গুজব। গুজব ছড়িয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ আগুনে পোড়ানোর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর।

নিহত যুবক শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।

গত বছর চাকরিচ্যুত হওয়ায় কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শহিদুন্নবী জুয়েল বৃহস্পতিবার বিকেলে সুলতান যোবাইয়ের আব্দার নামে একজন সঙ্গীসহ বুড়িমারী বেড়াতে আসেন। বিকেলে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা।

নামাজ শেষে পাঠ করার জন্য মসজিদের সানসেটে রাখা কোরআন শরীফ নামাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত কয়েকটি কোরআন ও হাদিসের বই তার পায়ের ওপর পড়ে যায়।

এ সময় পড়ে যাওয়া কোরআন ও হাদিসের বইগুলো দ্রুত তুলে চুম্বন করে যথা স্থানে রেখে দেন জুয়েল। কিন্তু এতে রেগে যান মুয়াজ্জিন। এক পর্যায়ে মুয়াজ্জিনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

এরপর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সন্দেহবশত জুয়েল ও সুলতান যোবাইয়েরকে কিল ঘুষি মারতে মারতে পাশে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখে।

খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ওসি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন।

সন্ধ্যায় পুরো বাজারে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, কোরআন শরীফ অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।
এ সময় উত্তেজিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা জানালা ভেঙে প্রশাসনের কাছ থেকে জুয়েলকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।

পরে মরদেহ টেনে পাটগ্রাম বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা- বুড়িমারী মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা থানা পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দফায় দফায় চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইট পাথরের আঘাতে পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন্ত কুমার মোহন্তসহ ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ১৭ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছোড়ে পুলিশ।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর ও পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নিহত জুয়েলের সঙ্গী সুলতান যোবাইয়েরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র‌্যাবের সদস্যরা টহল অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে ঘটনাটি তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অপরদিকে র‍্যাবের পক্ষ থেকেও ছায়া তদন্ত করা হচ্ছে।

পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন্ত কুমার মোহন্ত বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবার, পুলিশের ওপর হামলা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরের দায়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার সম্ভব হয়নি। উৎসুক জনগণ কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে পুলিশ।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিনদিনের সময় দিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!