শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কোরবানির হাটে চিকিৎসক দল

কোরবানির হাটে চিকিৎসক দল

image_pdfimage_print
কোরবানির হাটে চিকিৎসক দল

কোরবানির হাটে চিকিৎসক দল

বেড়া প্রতিনিধি: বেড়া পৌর এলাকার আবুল কালাম চেয়েছিলেন ক্ষতিকর স্টেরয়েডমুক্ত সুস্থ গরু কিনতে। পৌর এলাকার করমজা চতুরহাট থেকে গত মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) এমনই একটি গরু কিনতে পেরেছেন বলে তিনি নিশ্চিত।

তাঁর এমন নিশ্চিত হওয়ার কারণ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক দলের সদস্যরা হাটেই পরীক্ষা করে তাঁকে জানিয়েছেন, গরুটি নিরাপদ। ফলে দাম যা-ই হোক, সুস্থ ও নিরাপদ গরু কেনার আনন্দ নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরেছেন।

বেড়া উপজেলার কোরবানির হাটগুলোতে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক দলের উপস্থিতির কারণে আবুল কালামের মতো অনেক ক্রেতাই আস্থা নিয়ে গরু কিনছেন।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক দল উপজেলার প্রতিটি হাটেই উপস্থিত থাকছে। দলটি দৈবচয়ন পদ্ধতিতে গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখছে।

গরুগুলোকে ক্ষতিকর স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে কি না বা সেগুলো অসুস্থ কি না, তা পরীক্ষা করছে। কখনো কখনো ক্রেতারা দলের সদস্যদের ডেকে নিয়ে নির্ধারিত গরুটি পরীক্ষা করিয়ে নিচ্ছেন।

গরু কেনার পর আবুল কালাম বলেন, ‘স্টেরয়েড খাওয়ানো গরু নিয়ে ভয়ে ছিলাম। তাই হাটে গিয়ে গরুর দাম চূড়ান্ত করে মেডিকেল টিমের সদস্যদের ডেকে এনে দেখিয়েছি। তাঁরা নানাভাবে পরীক্ষা করে গরুটিকে সুস্থ ও নিরাপদ বলেছেন।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার বেড়ায় পশুর হাট পাঁচটি। সপ্তাহের ভিন্ন ভিন্ন দিনে হাটগুলো বসছে। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে চার সদস্যের চিকিৎসক দল এসব হাটে গিয়ে নিয়মিতভাবে উপস্থিত থাকছে।

দলের সদস্যরা জানান, কোনো যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়া শুধু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হাটের গরু পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে আগামী বছর থেকে রাসায়নিক দ্রব্যের সহায়তায় গরুর স্টেরয়েড-বিষয়ক পরীক্ষা করা হবে।

চিকিৎসক দলের সদস্যরা জানান, স্টেরয়েড খাওয়ালে গরুর কোষগুলো অতিরিক্ত পানি ধরে রাখায় সেগুলোকে মোটা ও মাংসল মনে হয়। এ জন্য এসব গরুর শরীরে চাপ দিলে দেবে থাকে। গরুর পেছনের অংশে মাংসের পরিমাণ বেশি মনে হয় ও কিছুটা ঝুলে থাকে। ভালোমতো লক্ষ করলে স্বাভাবিক ও স্টেরয়েড খাওয়ানো গরুকে আরও কয়েকটি লক্ষণের মাধ্যমে পৃথক করা যায়।

বেড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হারুনূর রশীদ বলেন, ‘দলের সদস্য হয়ে এ পর্যন্ত আমি ছয়-সাতটি হাটে গিয়ে পরীক্ষা করেছি। এখন পর্যন্ত স্টেরয়েড খাওয়ানো গরুর অস্তিত্ব পাইনি।

আসলে এবার আমরা কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজা করার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি। যেসব ওষুধের দোকানে স্টেরয়েড-জাতীয় উপাদান বিক্রির অভিযোগ ছিল, সেগুলো কড়া নজরদারিতে রেখেছিলাম।

ফলে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে এবার কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।’

বেড়া কৃষি ক্লাবের সভাপতি এম আর এম ফিরোজ বলেন, এবার কৃষক ও খামারিরা ক্ষতিকর স্টেরয়েড খাইয়ে গরু মোটাতাজা করেননি বললেই চলে। এর পরও চিকিৎসক দলের সদস্যরা হাটে উপস্থিত থাকায় ক্রেতারা শতভাগ আস্থা নিয়ে গরু কিনছেন।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!