বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১:৫৯ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত বেড়া-সাঁথিয়ার গাছিরা

image_pdfimage_print

আরিফ খান, বেড়া, পাবনা : শীত মানে পিঠা পুলির সময়। এই সময় বাজারে খেজুরের গুড়ের দেখা মেলে। স্বাদ ও গন্ধে যার তুলনা হয় না। আর এই গুড় পাটালী তৈরি হয় খেজুরের রস থেকে।

গ্রামগঞ্জে ইতিমধ্যেই খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজ শুরু হয়ে গেছে। যারা রস সংগ্রহ করে তাদের গাছি বলে।

বর্তমানে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেজুর গাছ।

পাবনার বেড়া-সাঁথিয়া উপজেলায় শত শত খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছে গাছিরা।

দিনের আলোতে খেজুর গাছে হাড়ি বেঁধে রাখা হয়, সারারাত ফোঁটা ফোঁটা রস হাঁড়ির ভেতর জমা হয়। আর ভোর বেলায় সেই হাড়ি নামিয়ে রস সংগ্রহ করে গাছিরা।

প্রতিটি গাছ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ লিটার পর্যন্ত রস হয়। তারপর গাছিরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে রস বিক্রি করে। আবার কখনও কখনও রস দিয়ে তৈরী করেন গুড় ও পাটালী।

বেড়া উপজেলার গ্রামগুলোতে আগে প্রচুর খেজুর গাছ দেখা যেত। কিন্তু এখন আর আগের মত খেজুর গাছ দেখা যায় না।

তবে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে বেড়া উপজেলা থেকে সাঁথিয়া উপজেলায় খেজুর গাছের সংখ্যা দিগুন।

বেড়ায় হাতে গোণা ১০-১২ জন এই রস সংগ্রহে ব্যস্ত। কিন্তু সাঁথিয়ায় অর্ধশতাধিক গাছি রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মালিকের কাছ থেকে আগাম গাছ কিনে নেয় গাছিরা। তারপর পুরো শীতের ৩ থেকে ৪ মাস রস সংগ্রহ করে। একটি গাছ ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রস দেয়।

প্রতি লিটার রস ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হয়। আর এক গ্লাস রস পাঁচ টাকায় বিক্রি হয়।

অন্য সময় গাছিরা ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকেন। দেশজুরে খেজুর রসের গুর পাটালীর চাহিদা ব্যাপক।

প্রতি কেজি গুর ও পাটালী ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এদের মধ্যে কিছু অসাধু গাছিরা অধিক লাভের আশায় গুর পাটালী তৈরীর সময় সোডা, চিনি, আটা, মিশিয়ে তৈরী করেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

সরেজমিনে সাঁথিয়ার করমজা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় নাটোর জেলা থেকে তিনজন গাছি শামুকজানি গ্রামে এসেছেন।

এদের মধ্যে শামীম নামের একজন জানান, তাঁরা প্রতি বছর এই মৌসুমে শামুকজানি গ্রামে রস সংগ্রহের জন্য আসেন। তাঁর এই এলাকায় বহু খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুর ও পাটালী তৈরী করে বিক্রি করেন।

গাছ মালিকদের সাথে চুক্তি করে নেন প্রতিটি গাছ থেকে যতদিন রস নেয়া যায় তারা নিবেন। বিনিময়ে প্রতিটি গাছের জন্য তিন কেজি করে গুর অথবা পাটালী দেবেন গাছিরা।

এব্যপারে আরও জানতে চাইলে বেড়া উপজেলার পায়না গ্রামের গাছি মোবারক জানান, প্রতিদিন সে ২০-২৫ লিটার রস সংগ্রহ করে। রস হিসেবে প্রতি গ্লাস পাঁচ টাকা দরে সকালেই বিক্রি করেন বলে জানান তিনি।

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশকর আলী বলেন, কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুর গাছ। আমরা কৃষি সম্পসারণ বিভাগ থেকে বেড়া উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার দুই পাশ দিয়ে কৃষকদের খেজুর গাছ লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছি।

এই গাছের জন্য বাড়তি কোন খরচ নেই। যা সকলের রস ও গুরের চাহিদা মেটাবে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!