News Pabna
ঢাকারবিবার , ১২ ডিসেম্বর ২০২১

গান নিয়ে গীতিকার আলাউল হোসেনের বলা না বলা কথা…

News Pabna
ডিসেম্বর ১২, ২০২১ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বর্তমান সময়ের উদীয়মান গীতিকার আলাউল হোসেন এক যুগের বেশি সময় ধরে গান লিখে চলেছেন। তাঁর লেখা বেশ কিছু গান ইতোমধ্যে সংগীতাঙ্গনে সমাদৃত হয়েছে। বিশুদ্ধ বাংলা গানের শ্রোতাদের দারুণ মুগ্ধ করেছে। সম্ভাবনাময় এই গীতিকারের এগিয়ে যাওয়া এবং লেখালেখি সম্পর্কে আলাপ করেছেন ‌‌’নিউজপাবনা’র প্রকাশক ও সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ পল্লব।

কেমন আছেন, কী করছেন?
ভালো আছি। কোন কাজেই এখন আমার ব্যস্ততা নেই।

গান লেখার পাশাপাশি কী করেন?
গান লেখা আমার পেশা নয়, সখ বা নেশা। আমার পেশা শিক্ষকতা। শিক্ষকতার পাশাপাশি গান লিখি, সাংবাদিকতা করি।

কোথায় শিক্ষকতা করছেন?
নিজ উপজেলায় একটি বেসরকারি কলেজে পড়াই।

আমরা জেনেছি, আপনি একজন সফল শিক্ষা উদ্যোক্তা…
হুম, আমি একজন শিক্ষা উদ্যোক্তা। তবে সফল কি না তা বলতে পারবো না। নিজের এলাকায় ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। আধুনিক, তীক্ষ্ণ ও রুচিবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরির স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর শিশুদের নিয়ে কাজ করেছি। আমি আমার পরিকল্পনায়, কাজে-কর্মে, পথে-পদ্ধতিতে সবধরনের আয়োজন সম্পন্ন করে সহকর্মীদের ওপর পুরোপুরিদায়িত্বভার অর্পন করেছি। এখন কলেজে শিক্ষকতা, লেখালেখি ও আড্ডা নিয়েই সময় পার করি।

গান নিয়ে আপনার বেড়ে ওঠা এবং ক্যারিয়ারের গল্প শুনতে চাই।
প্রথমত, আমি কোনো প্রকার ক্যারিয়ার গড়তে পেরেছি বলে মনে করি না। পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্যবিহীন জীবন আমার। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির চেষ্টা করতাম। বিশেষ করে কবিতা লিখতে ভালোলাগতো। কিন্তু কবিতা পড়তে গিয়ে একটা সময় মনে হলো- আর যাই হোক, আমার দ্বারা কবিতা লেখা সম্ভব নয়। এরপরে আবার উদ্দেশ্যবিহীনভাবেই গান লিখতে শুরু করলাম।

পরবর্তীতে কি মনে হয়নি গান লেখাও আপনার দ্বারা সম্ভব নয়?
হ্যাঁ, মনে হয়েছে এবং এখনও মনে হয়। তবু লিখি। সম্ভবত ২০০৬-০৭ সালের কোন এক বৃষ্টির দিনে বন্ধুদের সাথে ভিজতে ভিজতে লিখেছিলাম- ‘আজি রিমিঝিমি বরষাতে সারাদিন/লাগে ভারী মিষ্টি স্বপ্নরঙিন/ওগো মেঘ যেও না চলে/থেকো মোর পাশে নিশিদিন।’ বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর (সংগীত শিল্পীও) আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ বিপ্লব দত্তকে কথাগুলো দেখালে তিনি তৎক্ষণাৎ সুরারোপ করেন গানটিতে। পরবতীতে সানি চাকি’র সংগীতায়োজনে ঢাকার প্রমিক্স স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং করা হয়। এটিই আমার লেখা প্রথম গান। সম্প্রতি গানটির সাথে কোরিওগ্রাফি করেছেন শ্রীমঙ্গলের একজন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী সাজু দেব। জি-সিরিজের ব্যানারে ‘প্রাচীন হাওয়া’ নামের একটি মিক্সড অ্যালবামে গানটি রিলিজ হয়। এভাবেই শুরু এবং এরপর থেকে নিয়মিত গান লিখে চলেছি।

আপনার লেখা গানে এখন পর্যন্ত কারা কারা কণ্ঠ দিয়েছেন?
এই সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কামরুজ্জামান রাব্বি, ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সাজু আহমেদ, পূজন দাস, চম্পা বনিক, সুনীল সূত্রধর, বিপ্লব দত্ত, প্রদীপ দাস, নিহারীকা অন্তরা, ফেরদৌস তপন, ওবায়দুল্লাহ তারেক, খন্দকার রাইসুর রহমান, হামিদ রানাসহ নবীন কণ্ঠশিল্পী আশিস, জাহিদ, সামান্তা, বিন্দু, আলামীন, রিঝি, জয়িতা, রাজু, পলি প্রমূখ শিল্পীবৃন্দ গান করেছেন এবং করছেন এখনও।

কামরুজ্জামান রাব্বি কী গান করেছেন?
‘হৃদয় মাঝে কথা কয়’, ‘প্রেমে এ জ্বালা’ ও ‘দ্বীনের নবি নূরের ছবি’ শিরোনামে তিনটি গান করেছেন কামরুজ্জামান রাব্বি।

কোন গানগুলোতে আপনি বেশি সাড়া পাচ্ছেন?
সাড়া আমি আর পাচ্ছি কই? কোন কোন গানের জন্য শিল্পীরা বেশ সাড়া পেয়েছেন। তবে ভাইরাল হওয়ার মত সাড়া নয়। শ্রোতারা গীতিকারের নাম জানতে চায় না। তবে দুইএকটি গানের জন্য কিছু মানুষ আমাকে ফোন করে তাদের ভালোলাগার কথা জানিয়েছেন; যাদের সিংহভাগের সাথেই আমার আগে কোন পরিচয় ছিল না।

কোন গীতিকারকে আইডল হিসেবে নিয়েছেন?
যাঁরা ভালো করেন এবং করতেন সবার কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হই। নাম বললে তালিকাটা বেশ দীর্ঘ হবে।

কার লেখা গান শুনে ঈর্ষা হয়?
অনেকের; যাঁরা প্রতিনিয়ত ভালো করেন। ঠিক ঈর্ষাও বলবো না আমি। আমি শ্রদ্ধা করি অগ্রজদের মুগ্ধ করার মত লেখা দেখলে।

বাংলাদেশের সংগীতের গুণগত মান নিয়ে আপনার মন্তব্য?
মানের বিচারে পর্যাপ্ত পরিমাণ মানসম্মত কাজ হচ্ছে। কিন্তু ওই গানগুলি শ্রোতাদের নজর কাড়ছে কম। ভালোমানের গানের ভিউ কম হয়। তরুণদের চাওয়া-পাওয়ার গানগুলোই ভাইরাল হচ্ছে। যদিও কিছুদিন পরেই ভাইরাল গানগুলির শ্রোতা হারিয়ে যায়।

ইউটিউবের দর্শক-ভিউ কি গানের গুণগত মান নির্দেশ করে?
আমার মতে, অবশ্যই না। কেউ কেউ ভিউ দিয়েই বিবেচনা করে থাকেন। শ্রোতাভেদে দর্শনটাও ভিন্ন।

এক যুগের কিছু অধিক সময় ধরে গান লিখছেন। এক যুগ পর নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান?
এতো দূর চিন্তা করতে পারি না। ভেতরে স্বপ্ন বুনলেও কাজের ক্ষেত্রে আমি মোটেও পরিশ্রমী নই। পরিকল্পনাহীন জীবনের সকল বৈশিষ্ট্যই আমার মধ্যে বিদ্যমান।

কোন আক্ষেপ আছে?
কোন প্রাপ্তির আশায় তো লেখালেখি করি না। নিজের ভেতরের উৎপাত থেকে গান লেখার চেষ্টা করি। তাই অপ্রাপ্তি বা আক্ষেপ নেই খুব বেশি। মিডিয়াগুলো সবসময় শিল্পীদের নিয়ে হৈচৈ করে থাকে। অথচ, গীতিকার আর সুরকার এই সৃজনশীল কাজের প্রথম স্রষ্টা। সংগীত আমাদের একটি সমৃদ্ধ সম্পদ। এর স্রষ্টা গীতিকার আর সুরকারদেরকে এভাবে অবজ্ঞা করাটা বড়ই অন্যায়।

সময় দেবার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার মত ক্ষুদ্র একজন গীতিকারকে আপনারা স্মরণ করেছেন-এ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।