শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০৭:৪২ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

গুমানী নদীর খনন কাজ শুরু

গুমানী নদীর খনন কাজ চলছে

।। পবিত্র তালুকদার ।।
দখল-দূষণ ও যথেচ্ছা ব্যবহারের ফলে চলবিলের ভেতর দিয়ে বহমান নদ-নদীগুলোর অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। বছরের পর বছর পলি জমে চলনবিলের নদী গুলো হারিয়ে ফেলেছে নিজস্ব স্বকীয়তা।

বিশেষ করে দখল ও দূষণের ফলে পাবনার চাটমোহর উপজেলার মধ্যে দিয়ে বহমান নদীগুলোর গতিপথ হারিয়েছে। এছাড়াও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত স্লুইস গেটের কারণে নদীতে পানির ধারণ ক্ষমতা ও আয়তন কমে এসেছে।

একসময় চলনবিল অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদী সমূহে প্রতিবছর প্রায় ২২২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট পলি নদী সমূহ দিয়ে বিলে প্রবেশ করতো এবং ৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট পলি নদীপথে বিলের সীমা ত্যাগ করতো।

১৬৯.৫ মিলিয়ন ঘনফুট পলি প্রতিবছর বিলে থেকে যেত। চলনবিল এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ১৬টি নদী। এর প্রায় সবগুলোই শুষ্ক মৌসুমে পরিণত হয় আবাদী জমিতে। নদী গুলো পানি শূণ্য হয়ে পড়ায়, সেচ কার্যক্রম ব্যহত হওয়ায় তার প্রভাব পরে এ এলাকার কৃষি উৎপাদনে।

অনোন্যপায় কৃষক নির্ভরশীল হয়ে পরে গভীর ও অগভীর নলকূপের উপর। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় চলনবিল এলাকার নদী তীরবর্তী ২১ হাজার হেক্টর জমিসহ বৃহত্তর চলনবিল এলাকার সেচ কার্যক্রম ব্যহত হয়। পাশাপাশি নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ায় নৌরুট গুলো ও বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পরে পুরো চলবিলাঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রায়।

তবে আশার খবর হলো, শুষ্ক মৌসুমে নদী পাড়ের কৃষকেরা যেন সেচ কার্য করতে পারে, নৌকা ট্রলার গুলো যেন সারা বছর নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, নদীগুলো যেন বুকে পানি ধারণ করে রাখতে পারে এ লক্ষ্যে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে চলনবিল অধ্যুষিত পাবনা নাটোর সিরাজগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই ও গুমানী নদী খননের কাজ শুরু হয়েছে।

নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের অধীনে পঞ্চগড়-দিনাজপুর-নওগাঁ-নাটোর-পাবনা নৌরুট খনন প্রকল্পের আওতায় চলছে নদী খনন কাজ। যার ফলে চাটমোহর উপজেলা সহ নদী পাড়ের মানুষ আশার আলো দেখতে শুরু করেছে।

এর যথেষ্ট কারণ ও রয়েছে। নদীগুলো স্বাভাবিক গতিপথ ফিরে পেলে চলনবিল এলাকার বিশেষ করে চাটমোহরের মধ্যে দিয়ে বহমান নদীগুলোতে স্বাভাবিকভাবে পানি আসতে শুরু করলে সেচ সংকট দূর হবে। সেইসঙ্গে চলনবিল এলাকার হাজার হাজার হেক্টর জমিতে পানি সংকটের কারণে সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশংকা থাকবে না। কৃষিতে ঘটবে নীরব বিপ্লব।

উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের ধানকুনিয়া গ্রামের ফিরোজ উদ্দিন সহ ওই এলাকার বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় এই গুমানী নদী দিয়ে বড় বড় নৌকা যাতায়াত করতো।

নদী দখল ও দূষণের ফলে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে সেচের মৌসুমে পানির সংকট হয়। বোরো ধান, গম, সরিষা, পেঁয়াজ, ভুট্রা, রসুন, আলু ক্ষেতে নদী থেকে পানি সেচ দিতে সমস্যা হতো।

তবে নদী খননের ফলে নদীর গতিপথ ফিরে পাবে। দূর হবে সেচ সংকট। সরকারকে এ জন্য তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

আত্রাই রিভার ড্রেজিং প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার এবং বিআইডব্লিউটি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামাল পাশা জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের অধীনে পঞ্চগড়-দিনাজপুর-নওগাঁ-নাটোর ও পাবনা নৌরুট খনন প্রকল্পের আওতায় চলছে এ কাজ।

প্রথম পর্যায়ে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪২ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় পাবনার ফরিদপুরের এরশাদ নগর থেকে চাটমোহর হয়ে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার শাপগাড়ি রাবার ড্যাম পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার নদী খনন করা হবে।

কাজটি করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী (ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড)। ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই টেন্ডার হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কঅর্ডার দেয়া হয় ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর। কাজের মেয়াদকাল ৭২০ দিন।

আপাততঃ নদী একশত ফুট প্রশস্ত করা হবে এবং যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু খনন করা হবে। কাজটির তদারকী করবে কনসালটেন্ট ফার্ম সিইজিআইএস।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!