বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

গোপালগঞ্জে নিত্যরঞ্জনের বাড়িতে মাতম

গোপালগঞ্জে নিত্যরঞ্জনের বাড়িতে মাতম

গোপালগঞ্জে নিত্যরঞ্জনের বাড়িতে মাতম

গোপালগঞ্জে নিত্যরঞ্জনের বাড়িতে মাতম

নিউজ ডেস্ক : পাবনায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।

গোপালগঞ্জ সদরের আড়ুয়া কংশুর গ্রামে নিত্যরঞ্জনের বাড়ি। সেখানে রয়েছে তার স্ত্রী দুলু রানী, ছেলে নন্দ দুলাল, দুই মেয়ে নন্দিতা ও সন্দিপা পাণ্ডেসহ বহু স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষী।

শুক্রবার (১০ জুন) সকাল সোয়া ৬টার দিকে সেবাশ্রমের ২০০ গজ দূরে হেমায়েতপুরের পাবনা মানসিক হাসপাতালের প্রধান ফটকের কাছে নিত্যরঞ্জন পাণ্ডেকে (৬০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

গত ৪০ বছর ধরে সৎসঙ্গ আশ্রম নামে পরিচিত ওই সেবাশ্রমে কাজ করে আসছিলেন নিত্যরঞ্জন। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে আক্রান্ত হন তিনি।

সকালে গোপালগঞ্জে তার বাড়িতে মৃত্যুর খরব পৌঁছার পরই স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছুটে আসেন গ্রামবাসী।

গ্রামবাসী নিরীহ, ধর্মপরায়ণ নিত্যরঞ্জনে হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারছে না। তারা এর নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নিত্যরঞ্জনের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক সত্যরঞ্জন পাণ্ডে বলেন, নিত্যরঞ্জন বিএ পড়ার সময় প্রতিবেশী ডা. জ্যোতিন্দ্র নাথ বালার মেয়ে দুলুকে বিয়ে করেন।

“তখন আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। নিত্য বিয়ের পর সংসার চালাতে হিমিশিম খেত। তখন তার শ্বশুর পাবনা সৎসঙ্গের ঋত্বিক (দীক্ষাদানকারী) ছিলেন। তিনিই জামাইকে ৪০ বছর আগে পাবনা নিয়ে যান।”

সত্যরঞ্জন জানান, সেখানে নিত্য প্রথমদিকে অফিসে কাজ করতেন। তারপর ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের আদর্শ প্রচার শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি ‘ঋত্বিক’ হন। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আনুসারীদের দীক্ষা দিতেন।

বাড়ির কাজে এবং ধর্মীয় উৎসবে যোগ দিতে বছরে ৩/৪ বার গ্রামের বাড়ি আসতেন তিনি। ১০/১৫ দিন থেকে আবার চলে যেত বলে জানান সত্যরঞ্জন।

আড়ুয়া কংশুর গ্রামের শ্যামল কান্তি বলেন, নিত্যরঞ্জন বছরে ৩/৪ বার বাড়ি আসতেন। তিনি ধর্মপরায়ণ ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন। সৎ জীবনযাপন করতেই ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের সৎসঙ্গ আশ্রমে যোগ দেন।

“তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমাদের গ্রামের মানুষ ক্ষুব্ধ। আমরা এর বিচার চাই।”

নিত্যরঞ্জনের স্ত্রী দুলু রানী পাণ্ডে বলেন, “গত রাতে আমার সাথে তার ফোনে কথা হয়েছে। সবার কথা জিজ্ঞেস করেছে। ৪/৫ দিনের মধ্যে সে বাড়ি আসতে চেয়েছিল। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠেই তার মৃত্যু সংবাদ পাই।

“আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। আমাদের নিরাপত্তা চাই।”

নিত্যরঞ্জনের ছেলে নন্দদুলাল পাণ্ডে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বাবরগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বড়মেয়ে নন্দিতার বিয়ে হয়েছে পাশের গ্রামে। ছোট মেয়ে সন্দিপা পাণ্ডে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের ছাত্রী। তারা তাদের বাবার হত্যার বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে, পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানান, সন্ধ্যার দিকে নিত্যরঞ্জনের মরদেহ নিয়ে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!