শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ঘরে উঠল ২৬২ পরিবার

image_pdfimage_print

বড়লেখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের দৃষ্টিনন্দন পাকাঘরে বসবাস শুরু করেছে ২৬২ অসচ্ছল ও দুস্থ পরিবার। এর মধ্যে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, দিনমজুর, রিকশাচালক, স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা, অন্যের বাড়িতে গৃপরিচারিকার কাজ করে জীবিকা চালানো অতিদরিদ্র নারীও রয়েছেন, যারা কখনো কল্পনাও করেননি কোনো দিন পাকা ঘরে বসবাস করবেন। উপজেলা প্রশাসন সরকারের ৪টি প্রকল্পের অর্থায়নে গত ৩০ জুনের মধ্যে এসব ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করে। এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকাঘরে বসবাসকারী উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের খুঠাউরা গ্রামের বিধবা ফাতেমা বেগম জানান, হাওর শ্রমিক স্বামী নিয়ামত আলী মারা যাওয়ায় দুই সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। খড়ের ছাউনি আর ইকোড় বেতের বেড়ার ছোট্ট ঘরে পশুপাখির মতো মেঘ-বৃষ্টি, ঝড়-তুফানের সঙ্গে লড়াই করেই থাকতেন। নানা দুর্যোগ-আতঙ্কে এক মুহূর্তও শান্তিতে ঘুমাননি। কোনোদিন কল্পনাও করেননি পাকাঘরে ঘুমাবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন পাকাঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় এখন তিনি ছেলে-মেয়ে নিয়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছেলে দুলাল আহমদ ঘরে বসেই বিদ্যুতের আলোয় পড়াশুনা করছে।

গ্রামীণ দরিদ্র গৃহহীন জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ প্রকল্পের আওতায় বিধবা ফাতেমা বেগমের মতো অসহায়-অসচ্ছল আরও ২৩ পরিবারকে গৃহনির্মাণ করে দিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। পাকাঘর প্রাপ্ত বিধবা মায়ারুন নেছা, বায়তুন নেছা, দিনমজুর আব্দুল জলিল নানা সুযোগ-সুবিধা সংবলিত দৃষ্টিনন্দন বসতঘর উপহার দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উপজেলা সমাজসেবা ও পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৫টি অসচ্ছল চা শ্রমিক পরিবারকে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ৫টি পাকাঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হয় ২০ লাখ ৩ হাজার টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ এর যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ ভূমিতে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় সর্বমোট ২২৩টি অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। বাছাইকৃতদের মধ্যে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, দিনমজুর, রিকশাচালক, স্বামী পরিত্যক্তা, অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করা অতিদরিদ্র নারীও রয়েছেন। একই মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলার আরও ২৪টি অসহায়-দরিদ্র পরিবারকে ৭১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৪০ টাকা ব্যয়ে ২৪টি পাকা বসতঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে পৌরসভা ও উপজেলার দাসেরবাজার, বড়লেখা সদর, তালিমপুর, দক্ষিণভাগ (উত্তর), দক্ষিণভাগ (দক্ষিণ) ও সুজানগর ইউনিয়নে দুস্থ পরিবারকে ১০টি সেমিপাকা বসতঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বসতঘর নির্মাণে ব্যয় হয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান জানান, প্রত্যেকটি প্রকল্পের পাকাঘর নির্মাণের সব উপকরণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সংশ্লিষ্টদের তিনি তা ব্যবহারের অনুমতি দেন। কাজের সময় তিনি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করায় প্রত্যেকটি ঘর অত্যন্ত মানসম্পন্ন ও টেকসই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দৃষ্টিনন্দন এসব পাকাঘর পেয়ে দরিদ্র উপকারভোগীরা অত্যন্ত খুশি। সরকারিভাবে ২৬২টি পাকাঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় উপজেলার সহস্রাধিক দরিদ্র-অসচ্ছল মানুষ উন্নত আবাসনের আওতায় এসেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ উবায়েদ উল্লাহ খান জানান, নির্মিত ঘরগুলো গত ৩০ জুনের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!