বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

চন্দ্রযানের ল্যান্ডার কেন সোনায় মোড়ানো?

ভারতের চন্দ্রযান-২ এর ল্যান্ডারটি বানানো হয়েছে সোনায় মুড়িয়ে। ল্যান্ডারটিকে এভাবে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়ার পেছনে রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ। মূলত মহাকাশে গেলে যে কোন ধরনের শক্তিশালী আলো কিংবা বিকিরণের হাত থেকে ল্যান্ডারকে রক্ষা করতেই এটিকে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মহাকাশে গেলে যে কোনও মহাকাশযানকেই দুই ধরনের ধকল সামলাতে হয়। মহাকাশে গেলেই তাদের পিঠে আছড়ে পড়ে সূর্যের অসম্ভব জোরালো আলো, ক্ষতিকর বিকিরণ। মহাজাগতিক রশ্মির (কসমিক রে) ঝড়, ঝাপটাও সহ্য করে টিকে থাকতে হয় এসব মহাকাশযানকে। এই মহাজাগতিক রশ্মিগুলো অসম্ভব দ্রুত গতিতে এসে তাদের গায়ে আছড়ে পড়ে বলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মহাকাশযানে থাকা যন্ত্রগুলি অসম্ভব গরম হয়ে যায়। আর সেই খুব বেশি তাপমাত্রায় যন্ত্রগুলির পক্ষে আর কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। সেগুলি বিকল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

আবার আবার মহাকাশযানের যে দিকটায় সূর্যের আলো একেবারে পড়ে না, বা পড়লেও তা নেহাতই হয় যৎসামান্য, সেই দিকটার যন্ত্রগুলিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে সমস্যাটা হয় ঠিক উল্টো। মহাকাশের হাড়জমানো ঠাণ্ডায় সেই দিকটার যন্ত্রগুলি দিয়ে আর কাজ চালানো যায় না। সেগুলি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। সোনা দিয়ে মোড়ানো থাকলে সেই ধরনের ঠাণ্ডার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে মহাকাশযান। পলিমাইডের সোনার সাজ না থাকলে সেই তাপ শক্তি মহাকাশে বেরিয়ে যেত। কিন্তু পলিমাইড সেই তাপ শক্তিতে মহাকাশে বেরিয়ে আসতে দেয় না। প্রতিফলিত করে সেই বিকিরণকে যন্ত্রের দিকেই পাঠিয়ে দেয়। ফলে যন্ত্রটির তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থাতেই থাকে। তা সচল ও কর্মক্ষম থাকে। মূলত এই ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয় এর বহির্ভাগ।

কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স’-এর কর্মকর্তা, বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তীর মতে, মহাকাশযানের ওই সোনার সাজসজ্জা দু’রকমের সমস্যা মেটাতে ভূমিকা রাখে। পলিমাইড এমন এক ধরনের পদার্থ, যার পিঠে এসে আছড়ে পড়া মহাজাগতিক রশ্মি বা বিকিরণ অথবা সূর্যরশ্মির বেশির ভাগটাই প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায়। পলিমাইডের মধ্যে দিয়ে সেই রশ্মি বা বিকিরণ গলে যেতে পারে না। ফলে মহাকাশযানের পিঠে পলিমাইডের ওই ‘সোনার সাজ’ থাকলে সূর্যরশ্মি বা ক্ষতিকর বিকিরণের জন্য তা সেই দিকের যন্ত্রগুলি অসম্ভব গরম হয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।

ইসরো সূত্র জানায়, একেবারে নিখাদ সোনা যেমন আমরা গায়ে পরতে পারি না, তেমনই চন্দ্রযান-২-এর গা মোড়ানো যে সোনায়, সেটাও সত্যিকারের সোনা নয়। আবার স্যাকরার দোকানের ‘সোনার জল’ বলতে যা বোঝানো হয়, তা-ও নয়। ইসরোর ‘মিশন চন্দ্রযান-২’-এর একজন বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদের মতে, ওই সোনা আসলে ‘পলিমাইড’ (যা ‘পলিঅ্যামাইড’ বা ‘পলিইমিড’ও হয়) ও অ্যালুমিনিয়ামের একটি মিশ্র ধাতু বা সংকর ধাতু (অ্যামালগ্যামেট)। যার সামনের দিকটায় রয়েছে পলিমাইড পদার্থ। আর পিছনের দিকটায় রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অধুনা মহাকাশচারীদের হেলমেটেও ব্যবহৃত হচ্ছে সোনা। সূর্যরশ্মি, ক্ষতিকর বিকিরণ আর মহাজাগতিক রশ্মির ঝড়, ঝাপটা থেকে মহাকাশচারীদের বাঁচাতে।-আনন্দবাজার


টুইটারে আমরা

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial