শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

চরাঞ্চলের ধু-ধু বালিতে আখ চাষ করে দারিদ্র দূরীকরণে সাফল্য

সেমিনারের উদ্বোধন করেন, ইনস্টিউটের মহাপরিচালক ডঃ খলিলুর রহমান।

image_pdfimage_print

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : চরাঞ্চলের ধু-ধু বালিতে আখ চাষের সাফল্য তুলে ধরলেন ঈশ্বরদীর বাংলাদেশ আখ ক্রপ গবেষণা ইনস্টিউট। গতকাল বুধবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইনস্টিউটের ট্রেনিং সেন্টারে সাংবাদিকদের নিয়ে ‘চরাঞ্চলে আখ চাষের মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণ প্রকল্পের অর্জন এবং ভবিষ্যত কর্মপন্থা চি‎হ্নি‎তকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় এই সাফল্য এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বর্ণনা দেন মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও এই প্রকল্পের পরিচালক ডঃ সমজিৎ কুমার পাল।

সেমিনারের উদ্বোধন করেন, ইনস্টিউটের মহাপরিচালক ডঃ খলিলুর রহমান। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন, পরিচালক ডঃ আমজাদ হোসেন।

সেমিনারে উপস্থাপতি প্রবন্ধে বলা হয়, বৃহত্তর রংপুরের চরাঞ্চলের ধু-ধু বালিময় পতিত জমিকে আখ চাষের মাধ্যমে আবাদি জমিতে রূপাস্তরিত করণের জন্য আখের জাত বাছাই এবং লাগসই উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও তার সফল বিস্তার করা সম্ভব হয়েছে। আর এ কারণে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটকে‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২০’ প্রদান করা হয়েছে।

বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের ৫টি জেলার ১৬টি উপজেলার চরাঞ্চলে বিস্তৃত ছিল একাজ। বালিময় পতিত এসব চরে বিঘা প্রতি ১০০০-১২০০ টাকার ‘ধইঞ্চা’ কিংবা ‘কাশ’ হতো। অন্য কোন ফসল হতোনা। এখন সেই চরে চাষিরা ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আখ বিক্রি করছেন ।

ফলে প্রাথমিকভাবে লাভ পেয়েছেন জমির মালিকগণ। আর আখ আবাদের ফলে দ্বিতীয় সুবিধাভোগী হয়েছে চরাঞ্চলের বেকার শ্রমিক। এখন সারা বছর তাদের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগাম পরিপক্ক ইক্ষুজাতসমূহ চাষাবাদের ফলে ফাঁকা জায়গা পূরণ, মাটি আলগা করে দেয়া, আগাছা পরিষ্কার, সার উপরি প্রয়োগ, ইক্ষু বাঁধাই, গোড়ায় মাটি দেয়া, ইক্ষু কাটা, পরিবহন, গুড় তৈরি, বিক্রয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তাছাড়া আমন ধান রোপণের পর এবং কাটার আগে অর্থাৎ আশ্বিন-কার্তিক মাসেই আখ রোপণ করা হয়। আবার পরের বছর ঐ সময়েই আখ কাটা ও গুড় তৈরি করা হয়।

অপরদিকে আরো দুটি শ্রেণী কাজের সুযোগ পেয়ে লাভ করেছেন। এরা হলেন গুড় উৎপাদনকারী এবং গুড় ব্যবসায়ী। গুড় ছাড়াও আকর্ষণীয় জাতের চিবিয়ে খাওয়া আখের উৎপাদন এবং বিপণন এখন আরো এক বড় ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে।

এই কাজের উদ্দেশ্য ছিল ওই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। চর এলাকায় এখন অতিরিক্ত শ্রমিকের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শ্রমিকদের মজুরি ৭০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ২৫০ টাকা হয়েছে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!