বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

চলনবিলে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ‘বাউত উৎসব’ শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, চাটমোহর : পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলের অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর বিল ও নদীতে শুরু হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পলো দিয়ে মাছ ধরার বাউত উৎসব।

হাজার হাজার মানুষ মেতে উঠেছে মাছ ধরার এই বাউত উৎসবে।
রোববার রুহুল, সোনাকাদরসহ কয়েকটি বিলে মাছ ধরার উৎসব শুরু হয়। মঙ্গলবার (০৩ ডিসেম্বর) চলনবিলে নামকরা কয়েকটি বিলে মাছ ধরার বাউত উৎসব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চলনবিলের সোনাকাদর, লাউবিলা, রুহুল বিল, মাঠবিল, বাওনজানি, সেওলার বিল, খিলবিল, লারোনগাড়ি, হাতিগাড়া, দিকশির বিল, ডেঙ্গার বিল, খলিশাগাড়ি বিল, বড়াল নদী, গুমানী, চিকনাই, রত্মাই ও করতোয়া নদীসহ বিলগুলোতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পলো দিয়ে মাছ ধরার বাউত উৎসব শুরু হয়েছে।

প্রতি বছর এই সময় পলো দিয়ে বিলে উৎসব মুখর পরিবেশে মাছ ধরা হয় বলে একে স্থানীয় ভাষায় ‘বাউত উৎসব’ বলা হয়।

পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরদিপুর, আটঘরিয়া, পাবনা সদর, নাটোরের বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ এলাকার হাজার হাজার মানুষ বাউত উৎসবে যোগ দেয়।

এ উৎসবে যোগ দিতে আসা চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রামের আঃ ছাত্তার, ধানকুনিয়া গ্রামের মোতালেব হোসেন, জালেশ্বর গ্রামের ওফাজ আলী, সাদ্দাম প্রামানিক, রামচন্দ্রপুর গ্রামের রেজাউল করিম ধনি, বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল গ্রামের আব্দুল আলী, আরশেদ আলীসহ অন্যান্য বাউত জানায়, হাজার হাজার মানুষ এক সঙ্গে মাছ ধরার আনন্দই আলাদা।

মাছ সবাই পায় না। একজন পেলে আনন্দ ভাগাভাগি করে সবাই। কে মাছ পেলো আর কে পেলো না, তা নিয়ে দুঃখ নেই কারও।

প্রতি বছর আনন্দের জন্য, মাছ ধরার জন্য এই সময়ের অপেক্ষায় থাকেন তারা। পলো ও জাল দিয়ে মাছ ধরা হয়। অনেকে মাছ পেয়ে আনিন্দিত আবার মাছ না পেয়েও অনেকে উৎসবে আসতে পেরেই খুশী।

তারা আরো জানায়, হাত পলো, পাও পলো, নেট পলো ছাড়াও খেওয়া জাল, ঠেলা জাল, কারেন্ট জাল, ডোরা জাল, হাত খড়াসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায় সৌখিন মৎস শিকারীদের।
কৃষক, জেলে, ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় বিল গুলোতে।

মজনুর রহমান বাবু, এনামুল হকসহ কয়েকজন বাউত জানান, প্রায় প্রতি বছরই এ বিলে মাছ শিকারে আসেন তারা। অন্য বছরের তুলনায় এবার মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। রুহুল বিলে পলো দিয়ে মাছ শিকারের আনন্দটাই অন্যরকম। আমরা মাছ শিকারের আনন্দ উপভোগের জন্য এ সময় টার অপেক্ষায় থাকি।

এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, বাউত উৎসব গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। দেশের অন্যান্য এলাকায় এ উৎসব বিলুপ্তির পথে। তবে এ এলাকায় ঐতিহ্যটি এখনও টিকে আছে।

বড় বিল, ডেঙ্গার বিল, খলিশাগাড়ি বিল, রহুল বিল, ডিকশীবিলসহ অন্যান্য বিলে বাউতরা মাছ ধরছে। তবে বাউত উৎসবের ফলে জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে। দেশি প্রজাতির ছোট মাছ, শেওলা জাতীয় প্রাকৃতিক মৎস্য খাদ্য, পানির উপকারী অণুজীব এতে নষ্ট হয়ে যায়। এ ব্যাপারে সতর্কতা দরকার।


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!