শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৮:০৯ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

চলনবিলে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে শিক্ষাতরী

image_pdfimage_print

vasman-school-bhangura-pabnaনিজস্ব প্রতিনিধি: হাতে বই-খাতা নিয়ে বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছিল শিশুরা। একটা নৌকা এল, সবাই এতে উঠে বসল। শুরু করল পড়াশোনার প্রস্তুতি। শিক্ষক আসামাত্র শুরু হয়ে গেল পাঠদান!

চলনবিল–অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে বর্ষা মৌসুমে এভাবেই চলে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয় না শিশুদের। স্কুল যায় তাদের বাড়ির সামনে।

প্রাথমিক শিক্ষাকে ধরে রাখতে চলনবিল অঞ্চলের শিশুদের জন্য ১৯৯৮ সালে প্রথম ভাসমান স্কুল চালু করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিঁধুলাই স্ব-নির্ভর সংস্থা। পরে ২০১২ সালে ব্র্যাকও একই কার্যক্রম শুরু করে। চলনবিল অধ্যুষিত পাবনা ও নাটোর জেলায় দুইটি প্রতিষ্ঠানের এমন ৩০টির মতো ভাসমান স্কুলে পড়ছে প্রায় তিন হাজার শিশু।

সিঁধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার প্রকল্প পরিচালক সুপ্রকাশ পাল বলেন, ১৯৯৮ সালে একটি নৌকা দিয়ে এই স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে বেশ সাড়া মেলে। ২০০২ সালে আরও কয়েকটি নৌকা যোগ করে কার্যক্রমটি পুরোদমে চালু করা হয়। এরপর থেকে এর বিস্তৃতি বাড়ছে। বর্তমানে সংস্থাটির আওতায় ২২টি ভাসমান নৌকা স্কুলে পড়ছে প্রায় আড়াই হাজার শিশু।

ব্র্যাকের শিক্ষা প্রকল্পের ভাঙ্গুড়া উপজেলার শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার-উল-ইসলাম বলেন, ব্র্যাক ২০১২ সালে একটি নৌকা স্কুল দিয়ে এই প্রকল্প চালু করে। বর্তমানে ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর উপজেলায় তাদের নয়টি ভাসমান নৌকা স্কুলে পড়ছে প্রায় ৩০০ শিশু।

গতকাল বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ গ্রামে সরেজমিনে দেখা গেল, বর্ষার পানিতে থই থই চারপাশ। দ্বীপের মতো দেখাচ্ছে বাড়িগুলো। নৌকা ছাড়া চলাচলের কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। এই বাড়ি ওই বাড়ি যেতে অনেকেই দিয়েছেন বাঁশের সাঁকো। বাড়ি বাড়ি ঘুরে শিশুদের তুলে নিচ্ছে ভাসমান নৌকা স্কুল। একজন নারী শিক্ষক তাদের পড়াচ্ছেন।

ব্র্যাক শিক্ষাতরীর শিক্ষক গোলাপী খাতুন বললেন, তাঁর স্কুলে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা প্রথম শ্রেণি থেকে পড়া শুরু করেছে। এখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে চারদিকে পানি থাকায় সবাইকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে এই নৌকা একটি নির্দিষ্ট স্থানে থাকবে, সেখানে গিয়ে শিশুরা পড়াশোনা করবে।

নাঈমা সুলতানা নামের এক শিক্ষার্থী বলল, ‘এই স্কুলে আমরা বই-খাতা সব পাই। ঘরের মতো বসে পড়তে পারি। চারদিকে কোনো শব্দ নেই। মন দিয়ে পড়া যায়।’ তবে স্কুল বাড়ি বাড়ি যাওয়ায় ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না বলে জানাল সুমাইয়া খাতুন ও নয়ন ইসলাম নামের দুই শিক্ষার্থী। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরোয়া খেলাধুলার ভালো ব্যবস্থা আছে বলে জানাল তারা।

চলনবিলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আসাদুর রহমান বলেন, একসময় এই এলাকায় শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সরকারের পাশাপশি বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ মানুষকে আলোর পথ দেখাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়লে মানুষ উপকৃত হবে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!