ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৩১ মার্চ ২০২২

চাঁদপুরের বালুসন্ত্রাসীরা জেলে যাবে: নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান

News Pabna
মার্চ ৩১, ২০২২ ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী ‘বালুসন্ত্রাসীরা’ কারাগারে যাবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী। সেই সঙ্গে চাঁদপুরের নদী অঞ্চল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিতাড়িত করতে পারার বিষয়টিকে বাংলাদেশের নদী রক্ষা ও পরিবেশের ইতিহাসে একটা বিরাট বিজয় হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং নদীর ইকোলজি, জীববৈচিত্র্য, ইলিশের উৎপাদন ইত্যাদি বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

এছাড়া সভায় অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র বালু উত্তোলনের কারণে ক্ষতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী আরো বলেন, চাঁদপুরের নদীর যে চিত্র আগে দেখানো হয়েছিল তাতে মনে হয়েছিল মেঘনায় একটা নৌযুদ্ধ হচ্ছে। এতো ড্রেজার, এতো বাল্কহেড মেঘনার বুক ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে। তাই আমি দেখতে এসেছি এখন কি অবস্থা। আমি নদী ঘুরে সত্যি আনন্দিত। এখানের প্রশাসন সততা ও সাহসিকতার সাথে তাদেরকে বিতাড়িত করেছে। যারা বালুসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদেরকে মামলাসহ বিভিন্ন হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শোনা যাচ্ছে তারা ঈদের পর আবার নদীতে ফিরে আসবে। বালু সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যে বলছি, খুব সম্ভব তারা জেলে যাবে। তাদের স্থান হতে পারে কেরানিগঞ্জ অথবা কাশিমপুর কারাগার। মেঘনার বুক ছিড়ে নেয়ার সুযোগ তাদেরকে আর দেয়া হবে না। তারা যদি আবার আসে আমরাও আবার আসবো। সুতরাং তারা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চুরি-চামারি অন্য জায়গা পারলে করুক। কিন্তু এই মেঘনার বুকে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনার পর অভিযানের খবর পেয়ে যখন ২২ মার্চ তিনশ/সাড়ে তিনশ ড্রেজার-বাল্কহেড পালিয়ে যাচ্ছিল সেটি ছিল একটি বিরাট সংবাদ। বাংলাদেশের নদী রক্ষায়, পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা বিরাট বিজয় হয়েছে। সে বিজয় জনগণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সারা বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু তা জানে না। তার কারণ হচ্ছে, এখানে মাত্র কয়েকজন সংবাদকর্মী আছেন যারা সাহসি এবং সৎ। যারা এই সংবাদটি প্রকাশ করেছেন।

নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, এই কয়েক বছরে বালু উত্তোলনের কারণে কি পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি, নদীর ইকোলজিক্যাল ক্ষতি, পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে, মাছের উৎপাদন কম হয়েছে, সামাজিক ক্ষতি- এসব ক্ষতির একটা হিসাব দিবে বিআইডব্লিউটিএ, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও পরীবীক্ষণ ) মো. আক্তারুজ্জামান তালুকদার, পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, চাঁদপুর নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. খ.ম কবিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রাণি বিজ্ঞান সমিতির সাবেক সভাপতি ও মাউশির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর খান হাবিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম

এর আগে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী চাঁদপুরের নদী অঞ্চল ঘুরে দেখেন।