চাটমোহরসহ চলনবিলে ৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

জাহাঙ্গীর আলম, চাটমোহর থেকে : পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে মাত্র ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে ৯০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নির্মাণ কাজের চরম গাফলতির জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন-মরণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে এখন এই ঝুকিপূর্ণ ভবন। সাম্প্রতিক কয়েকটি ভূমিকম্পে বিদ্যালয়গুলোতে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্কুল গুলোতে এক ধরণের আতংক বিরাজ করছে।

সাইপাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, প্রকৌশলী এবং বিত্তবান ঠিকাদাররা শুধু নিজেদের লাভটাই হিসাব করেছেন, নিম্নমাণের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে ইমারত নির্মাণ করেছেন। শিশু-কিশোরদের জীবনের কথাটি একবারও ভাবেননি তারা। এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য।

তিনি আরও বললেন সবচেয়ে ভাল ছাত্ররা ইঞ্জিনিয়ার হয়, তাদের কাছে আমরা ভালো কিছু আশা করি। কিন্তু এসব কি হচ্ছে।

জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে ৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বেশ কয়েকটি ভবন ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করার কারণে শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে।

চাটমোহর উপজেলার ১০টি স্কুলের মধ্যে ঝাকড়া, সেনগ্রাম, বালুদিয়ার, বাহাদুরপুর, বরদানগর, গুনাইগাছা, সাইপাই, নিমাইচড়া, ছাইকোলা উত্তরপাড়া, আগশোয়াইল স্কুলে ভুমিকম্পে ফাটল দেখা দিয়েছে।

ঝাকড়া স্কুলে দুইপাশে দেবে গেছে। স্কুলটি ১৯৯২ সালে নির্মাণ করা হয়। এসব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে নব্বইয়ের দশকে। এতো স্বল্প সময়ে ভবনগুলোর এমন অবস্থা হওয়ায় বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ নির্মানবিদগণ।

ফরিদপুর উপজেলার খগুড়িয়া, দক্ষিণ বৃলাহিড়িবাড়ি ও খাগরবাড়িয়া স্কুল, ভাঙ্গুড়া উপজেলার সারুটিয়া, নূরনগর, পাটুল ও দোহারিগ্রাম স্কুল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

এছাড়াও চলনবিল অঞ্চলের তাড়াশ, গুরুদাসপুর, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া ৩০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত নির্মিত।

চাটমোহর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, শিশুদের স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, দ্রুত তা মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। অন্যথায় শিক্ষা কার্যক্রম মারত্মকভাবে ব্যাহত হবে।