ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২০ জানুয়ারি ২০২২

চাটমোহরের গুমানী নদীতে মাছ ধরার উৎসব অনুষ্ঠিত

News Pabna
জানুয়ারি ২০, ২০২২ ৮:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর, পাবনা : পাবনার চাটমোহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুমানী নদীতে মাছ ধরার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদীর উজান অংশে রাবার ড্যাম সক্রিয় করলে প্রতি বছর এসময় পানি কমে যায়। বুধবার রাবার ড্যাম সক্রিয় করা হলে ভাটি অঞ্চলের পানি কমে যাওয়ায় ২০ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার মাছ ধরার এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও শত শত সৌখিন মৎস শিকারী মোবাইল ফোনে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে এ নদীতে মাছ শিকারে এসেছিলেন। পলো, খেয়াজাল, বাদাইজাল, ডোরা জাল, খরা জাল দিয়ে মাছ শিকারে এসে উৎসবে মেতে ওঠেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মাছ শিকারী। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা বোয়াল, আইড়, বাঘাইরসহ বিভিন্ন ধরণের মাছ শিকার করেছেন।

সরেজমিন গুমানী নদীর বওশা ব্রীজ এলাকায় গেলে দেখা যায়, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, তাড়াশ ও আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাছ শিকারী বিভিন্ন রুট হয়ে নসিমন, করিমন, ভ্যান, রিকসা, সাইকেল, মোটরসাইকেল যোগে এ নদীতে মাছ ধরতে এসেছেন। মাঘের প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে ঠান্ডা পানিতে নেমে মাছ শিকারের আনন্দ উপভোগ করছেন তারা।

মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণের সাহায্যে মাছ ধরায় ব্যস্ত ছিলেন তারা। এসময় কৃষক, জেলে, ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় গুমানী নদী। মাছ পাওয়া বা না পাওয়া বড় কথা নয় এ উৎসবে অংশ গ্রহনেই আনন্দ বলে জানান সৌখিন মৎস শিকারীরা।

পলো নিয়ে মাছ শিকারে আসা ক্ষতবাড়ি গ্রামের আবুল হোসেন ও হাকিম জানান, প্রায় প্রতি বছরই গুমানী নদীতে মাছ ধরতে আসেন তারা। মাছ ধরার এমন উৎসবে এসে মাছ শিকারের আনন্দ-অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

তারা আরো বলেন, আমরা মাছ শিকারের আনন্দ উপভোগের জন্য প্রতিবছর এ সময় টার অপেক্ষায় থাকি।

চাটমোহরের রেলবাজার এলাকার শফিকুল ও আটঘরিয়ার পাইকপাড়া গ্রামের আলম হোসেন জানান, নদীর কোথাও হাটু পানি, কোথাও কোমড় পানি, কোথাও গলা পানি। মাছ শিকারের সময় অপেক্ষাকৃত ছোটরা নদীর পারে এবং বড়রা মাঝের দিকে থাকেন। কারো পলো বা জালে মাছ পরলে অন্যরা মাছটি ধরতে তাকে সহায়তা করেন।

পলোর মধ্যে মাছ পরলে পলোর উপরাংশের মুখ দিয়ে পলোর মধ্যে হাত ঢুকিয়ে মাছ ধরে লোহার ধারালো শিক দিয়ে মাছ ছিদ্র করে মাজায় বেধে রাখা নাইলন সুতোর হালচেয় বেধে রাখেন মাছ। কখনো কখনো “আল্লাহ আল্লাহ রাসুল বলো লা ইলাহা” এমন সমবেত কন্ঠস্বর যেন যোগ করে আনন্দের বাড়তি মাত্রা। কখনো সাড়ি বদ্ধ ভাবে কখনো বিশৃঙ্খল ভাবে মাছ শিকার করতে করতে সর্পিল গতিতে সামনের দিকে অগ্রসর হন তারা।

মাছ শিকারীরা জানান, এ নদীতে এবার কম মাছ ধরা পরেছে। কারেন্ট জাল, চায়না জালের প্রভাবে মাছ কমে যাচ্ছে। অনেকে মাছ পেয়েছেন আবার অনেকে মাছ পান নি। তবে আনন্দটা উপভোগ করেছেন সবাই মিলেই।