শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

চাটমোহরের পান চাষীদের ভাগ্য নির্ভর করে শীত-বৃষ্টির উপর

image_pdfimage_print

মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর, পাবনা : কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরা পর্যন্ত কেউ শখের বশে আবার কেউবা নেশায় আসক্ত হয়ে চুন সুপাড়ি ও বিভিন্ন মসলা সহযোগে পান খেয়ে থাকেন।

ফলে সারা দেশে রয়েছে পানের ব্যাপক চাহিদা। এ চাহিদা মেটাতে পান উৎপাদন করেন পাবনার চাটমোহরের হরিপুর ইউনিয়নের পান চাষীরা। তাদের ভাগ্য নির্ভর করে শীত-বৃষ্টির উপর।

চাটমোহর কৃষি অফিস জানায়, পাবনার চাটমোহরের হরিপুর ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে ধানী পান হয় ২২ হেক্টর জমিতে। ৮ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয় বারী পান-২। এ ইউনিয়নের ২শ ২৫ জন পান চাষী রয়েছে।

তেবাড়িয়া গ্রামের পান চাষী মনোয়ার হোসেন নীহার জানান, দীর্ঘ দিন যাবত পান চাষ করেন তিনি। এ বছরও প্রায় এক বিঘা জমিতে পান চাষ করেছেন। তার জমিটি অপেক্ষাকৃত নীচু হওয়ায় এ বছরের অতি বৃষ্টিতে পান পাতা পঁচে যায় ও গাছ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

তিনি আরো জানান, পান চাষের শুরুতেই জমির চার পাশে বেড়া দিতে হয়। জমি তৈরী করার পর জিআই তার ও নাইলন সূতা দিয়ে বাঁশের তৈরী সরু কাঠি, জিগা গাছের সরু ডাল বেঁধে দিতে হয়।

এর পর পানের ডগা মাটিতে পুতে দিয়ে প্রতিটি ডগার পাশে বাঁশের চিকন খিল পুতে দেয়া হয়। এক বিঘা জমিতে প্রায় ১২ হাজার ৮’শ পানের ডগা লাগানো হয়।

এতে ১২ হাজার ৮’শ বাঁশের খিল প্রয়োজন হয় যার দাম পরে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। পানের চারা মাটিতে লেগে যাবার পর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তখন পান গাছের ডগা বাঁশের খিলের সাথে বেঁধে দেয়া হয়। গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে পান পাতার সংখ্যাও। গাছ থেকে ধীরে ধীরে পান সংগ্রহের সাথে সাথে লতানো পান পাতার কান্ড নিচের দিকে মাটির উপর পেচিয়ে রাখা হয়।
অতিরিক্ত শীত ও রোদের তাপ থেকে পান পাতা রক্ষায় উপরে খড়ের ছাউনী দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে বছরে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। ছয় মাস পর থেকেই পান পাতা সংগ্রহ করা শুরু হয়। গাছ ভাল থাকলে এক টানা কয়েক বছর পান পাতা সংগ্রহ করা যায়। বিপদ আপদ না হলে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকার পান বিক্রি করা যায়।

একই গ্রামের পান চাষী নূরমোহাম্মদ জানান, পান চাষে সফলতা নির্ভর করে আবহাওয়ার উপর। অতি বৃষ্টিতে পান পাতা ও গাছের গোড়া পঁচে যায়। আবার অতিরিক্ত শীতে কাঁচা পান পাতা ঝরে যায় ও পরিণত বয়সের পান পাতা পেকে হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, পান ডগা বপনের ছয় মাস পর থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত পান পাতা সংগ্রহ করা যায়। এ এলাকার পানের বড় মোকাম জোনাইলে। সেখানে লাখ লাখ টাকার পান বিক্রি হয়। হরিপুর হাটেও কিছু পান বিক্রি হয়।

এ এলাকায় উৎপাদিত পান ব্যবসায়ীরা কিনে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, সিরাজগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য জেলায় প্রেরণ করেন।

পচন রোধে কিছু কিটনাশক ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ড্যাপ ইউরিয়া সারসহ খৈলের গুড়া ব্যবহার করা হয়।

চাটমোহরের তেবাড়িয়া, গোপালপুর, সোন্দভা, ধুলাউড়ি ও হরিপুরে বেশি পান উৎপাদন হয় বলেও জানান তিনি। বর্তমান এ এলাকার হাট বাজারে প্রতি পণ (৮০ টি) পান আকার ভেদে ২০ টাকা থেকে ১’শ ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.এ মাসুম বিল্লাহ জানান, দেহের ক্লান্তি ও স্নায়ুবিক দূর্বলতা কাটাতে মধু দিয়ে পান পাতার রস খেলে তা বেশ উপকারে আসে।

পান পাতা হজমে সহায়তা করে, মুখের দুর্গন্ধ দুর করে, ফোঁড়া ফাটায়, চর্ম রোগ সারায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, সর্দি বের করে আনে, ক্ষুধা বৃদ্ধি করে, মেদ ও ওজন কমায়, কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করে।
তবে নতুন পান পাতা শ্লেষ্মা বাড়ায়, বেশি খেলে অজীর্ণ হয়, বোটা ও শিরার রস ইন্দ্রিয় শক্তি কমায়।

তিনি আরো জানান, সুপাড়ি, জর্দা ও বিভিন্ন মসলা সহযোগে অতিরিক্ত পান খেয়ে যারা ঠিক মত দাঁত ব্রাশ করেন না তাদের মুখে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেকের দাঁত নষ্ট হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত পান খাওয়া ভাল নয়।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!