শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

চাটমোহরের সমতলে চাষ হচ্ছে সবুজ বাহারী মাল্টা

image_pdfimage_print

মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর, পাবনা : ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল মাল্টা।

এটি পাহাড়ি এলাকার ফল হলেও বর্তমান সময়ে চলনবিল অধ্যুষিত পাবনা জেলার চাটমোহরে সমতলে চাষ হচ্ছে সবুজ বাহারী ফল মাল্টা।

যারা ইতিমধ্যে মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তাদের সফলতা দেখে অন্যরাও আগ্রহী হচ্ছেন মাল্টা চাষে। ফলে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা চাষের পরিধি বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি অফিসার এ.এ মাসুম বিল্লাহ জানান, চলতি মৌসুমে চাটমোহরে ১৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩শ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে।

হেক্টর প্রতি ফলন হয়েছে ২০ মেট্রিক টন। উঁচু জমি যেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে না এমন জমিতে মাল্টা ভাল হয়। যে মাটির পিএইচ এসিডিক হয় সে মাটি মাল্টা চাষের জন্য ভালো।

তিনি আরো জানান, চাটমোহরের মূলগ্রাম, ডিবিগ্রাম, হরিপুর, পার্শ্বডাঙ্গা, ফৈলজানা, গুনাইগাছা ও মথুরাপুর ইউনিয়নের মাটি মাল্টা চাষের উপযোগি।

পাবনার চাটমোহরের মূলগ্রাম ইউনিয়নের মাঝগ্রাম এর মাল্টা চাষী ইয়াছিন আলী ওরফে স্বপন জানান, আদর্শ নার্সারীর মালিক মামুন ভাইয়ের উৎসাহে মাল্টা চাষ শুরু করি।

২০১৮ সালে বাড়ির সামনের সমতল জঙ্গল পরিষ্কার করে ১৮ কাঠা জমিতে ৮২ টি বারি-১ মাল্টার গাছ লাগাই।

২০১৯ সালেই ২১ কেজি মাল্টা বিক্রি করি এবং কিছু খাই। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ফুল আসে। সেপ্টেম্বর থেকে মাল্টা সংগ্রহ শুরু করি। খুচরা ১৫০ টাকা কেজি এবং পাইকারী ১’শ টাকা কেজি বিক্রি করি। পূর্ণ ফলন এখন ও শুরু হয়নি। এ বছর ৫২ টি গাছে কম বেশি মাল্টা ধরেছিল। প্রায় ৫০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি।
তিনি আরো জানান, “আমার মনে হয় কৃষকের জন্য সব চেয়ে লাভ জনক আবাদ মাল্টা চাষ। বানিজ্যিক ভাবে চাষ করলে এক বিঘা জমিতে ১’শ গাছ লাগালে পরিণত বয়সে তিন থেকে চার লাখ টাকার মাল্টা উৎপাদন করা সম্ভব।”

অপর মাল্টা চাষী মথুরাপুর ইউনিয়নের উথুলী গ্রামের সানোয়ার হোসেন জানান, আমার বড় ভাই আনোয়ার হোসেন ইউটিউবে মাল্টা চাষের ভিডিও দেখে মাল্টা চাষে আগ্রহী হন।

আমার সাথে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে আলাপ করি আমরা। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এনএটিপি-২ প্রকল্পের আওতায় দেড় বিঘা জমিতে গড়ে তুলি শখের মাল্টা বাগান।

আজ সেই মাল্টা বাগান সফলতা পেয়েছে। ছোট ছোট গাছ গুলোতে গড়ে পাঁচ-সাত কেজি করে মাল্টা ধরে এ বছর। ফলন পুরো শুরু হয় নি। এ বছর প্রায় ৭০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি।

আমাদের মাল্টা চাষ, ফলন ও লাভ দেখে এলাকার অনেকের আগ্রহী হচ্ছেন মাল্টা বাগান করতে।

সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান সাঈদ জানান, ক্ষতিকর রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহার না করায় স্থানীয় বাজারে এ এলাকায় উৎপাদিত মাল্টার চাহিদা ও বেশি।

সবুজ বর্ণের মাল্টা গুলোর স্বাদ ও মিষ্টতা অন্য যে কোন মাল্টার চেয়ে কম নয়। সানোয়ারের মাল্টা বাগানের সফলতার গল্প এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মোঃ শামসুল আলম জানান, মাল্টা পাহাড়ি ফল হলেও চাটমোহরের সমতলে বানিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন এ এলাকার কৃষকেরা।

এ এলাকায় উৎপাদিত সবুজ মাল্টার সমারোহ দেখে মনে হচ্ছে চাটমোহর মাল্টা চাষের জন্য অপার সম্ভাবনার একটা জায়গা।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!