চাটমোহরের সেই গ্রামটি এখন পুরুষ শুন্য

গতকালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ছবি

গতকালের ছবি

মো: জাহাঙ্গীর আলম, চাটমোহর (পাবনা) : ২৩ এপ্রিল শনিবার পাবনার চাটমোহরে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে একজন নিহত হয়।

নিহতের পক্ষ থেকে কোন মামলা না হলেও উল্টো অত্র এলাকার ৮শ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রিসাইডিং অফিসার আলমগীর হোসেন । মামলায় ৪ জনকে নামিয় করে বাকিদের অজ্ঞাত দেখানো হয়েছে।

এদিকে রোববার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে নিহত এমদাদ হোসেনের জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাযা শেষ হতেই গ্রেফতারের ভয়ে এলাকা পুরুষ শুণ্য হয়ে যায়। বর্তমানে বাহাদুরপু গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার জানান, বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ইউপি নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রিসাইডিং অফিসার আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে রোববার সকালে মামলাটি দায়ের করেন। সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামী করা হয়েছে বাহাদুরপুর গ্রামের ৮শ জনের বিরুদ্ধে।

এর মধ্যে কয়েকজনকে নামীয় আসামী করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওসি। তবে এই মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার পর রোববার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ঘটনাস্থল বাহাদুরপুর গ্রাম পরিদর্শনে করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম শেহেলী লায়লা, থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার, নবনির্বাচিত মথুরাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আজিজুল হকসহ অন্যান্যরা।

নিহত ইমদাদের স্ত্রী স্বপ্না খাতুন জানান, সজীব (৮), মেয়ে দোলা (৭) নামে তাদের ছোট সন্তান রয়েছে। এছাড়াও পরিবারের অন্য ৫ জনের সংসারে ভরণ পোষণের জন্য তালা চাবী মেরামতের কাজ করতেন নিহত ইমদাদ।

কোন মতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো তাদের বলেও জানান নিহতের স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। পরিবারের কর্মক্ষম একমাত্র ব্যাক্তি ইমদাদ ছাড়া আর কেউ ছিলনা।

৫শতক বসত ভিটা ছাড়া আর কোন জায়গা জমিও নেই। বেসরকারী সংস্থা আশা থেকে ৩৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ছোট একটি টিনের ঘর তৈরী করেছেন, যে ঋণের কিস্তি এখনও শোধ হয়নি। এই ঘরটাতেই কোনমতে মাথা গুজে রাত পার করতেন তারা। পরিবারটি দেখা শুনার মতো আর কেউ রইলোনা বলেই কান্নায় ভেঙে পরেন তিনি।

উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মথুরাপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফল ঘোষণা করতে বিলম্ব করতে থাকেন প্রিসাইডিং অফিসার আলমগীর হোসেন।

এতে এক মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকরা ফলাফল ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের লক্ষ করে ইট পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলিবর্ষণ করে বিজিবি। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এমদাদ হোসেন (৬০) নামের এক বিএনপি কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত এমদাদ বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে।