রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০:২৬ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

চাটমোহরে গবাদী পশুর খাদ্য সংকট, দিশেহারা কৃষক

image_pdfimage_print

চাটমোহর, পাবনা : পাবনার চাটমোহরের খাল বিল জলাশয়ের পানি কমলেও কমছে না গবাদী পশুর খাদ্য সংকট।

বর্ষায় বিলগুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করার ফলে গোচারণ ভূমি ও ঘাস খেত ডুবে যাওয়ায় গবাদী পশুর খাদ্য সংকট শুরু হয়।

এক দিকে খড়ের মূল্য বৃদ্ধি অন্য দিকে চাষ কৃত উন্নত জাতের ঘাস ক্ষেতগুলো পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া নিয়ে বিপাকে পরেছেন চাটমোহরের পশু মালিকেরা।

বিশেষত গরু মহিষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে বিকল্প হিসেবে পশু মালিকেরা পানিতে ভাসমান কচুরী পানা ও রাস্তার পার্শ্ববর্তী লতা গুল্ম ও গাছের পাতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পরছেন।

এ এলাকার অনেক পশু মালিক অর্থ সাশ্রয়ের জন্য অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি গরু মহিষকে এখন এসব খাবার খাওয়াচ্ছেন।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাটমোহরে ৩শ ২৮ টি গাভীর খামার, ২শ ৩২ টি গরু মোটা তাজাকরণ খামার, ৩৮ টি ছাগলের খামার ও ৩২ টি ভেড়ার খামার রয়েছে।

এসব খামারসহ অন্যান্য কৃষকের মিলে মোট ৯৯ হাজার গরু, দুই হাজার ৭শ মহিষ, ১ লাখ ২৪ হাজার ছাগল ও ৪ হাজার ৭শ ভেড়া রয়েছে।

আষাঢ়-শ্রাবন মাসে চাটমোহরের বিল গুলোতে বর্ষার পানি প্রবেশ করে।

বছরের অন্যসময় গুলোতে দিনের বেলা গরু মহিষকে মাঠে নিয়ে পতিত গোচারণ ভূমিতে খাওয়ানো সম্ভব হলেও বর্ষা ও শরতের প্রায় চার মাস মাঠে পানি থাকায় গরু মহিষকে মাঠে নিয়ে খাওয়ানো সম্ভব হয় না।

এসময় পুরোপুরি খড় খইল ভুশিসহ অন্যান্য দানাদার খাবারের উপর নির্ভর করতে হয় পশু মালিকদের।

বৈশাখ জৈষ্ঠ্য মাসে কৃষক বোরো ধান কাটলে বোরো ধানের কিছু খড় পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।

ভাটি এলাকায় খড়ের দাম অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ায় সেসব এলাকার খড় ব্যবসায়ীরা চলনবিল অধ্যুষিত এলাকায় এসে চড়া দামে বোরো ধানের খড় কিনে নিয়ে যান।

কুষ্টিয়া যশোর ঝিনাইদহসহ দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের উঁচু অঞ্চল থেকে খড় ব্যবসায়ীরা কিছু খড় কিনে অতিরিক্ত ট্রাক ভাড়া দিয়ে চাটমোহর এলাকায় এনে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

বর্তমান এ এলাকায় ছোট ছোট একশ আটি খড় প্রায় ৮শ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পশু মালিকেরা চড়া দামে পশুখাদ্য কিনে খাওয়াতে হিম শিম খাচ্ছেন। অনেকে পশু পালন ছেড়ে ও দিচ্ছেন।

চাটমোহরের পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের শুকরভাঙ্গা গ্রামের মোসলেম সরদার জানান, তিনটি গরু রয়েছে তার। গরুর খড় খইল ভুষি বাবদ তাকে প্রতিদিন প্রায় ৬শ টাকা ব্যয় করতে হয়।

গো খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গবাদী পশু পালন করে লাভবান হতে পারছেন না তিনি। বাধ্য হয়ে গরুর খাদ্য ব্যয় কমাতে প্রতিদিন কচুরী পানা কেটে খাওয়াচ্ছেন।

একই গ্রামের মানিক হোসেনের মেয়ে মুন্নী ষষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী।
শনিবার দুপুরে মায়ের সাথে কলার ভেলায় চড়ে রামের বিলে কচুরীপানা কাটতে দেখা যায়। চারটি গরু তাদের।

মুন্নী জানায়, কচুরীপানা খাওয়ালে অন্যান্য ঘাস কম লাগে। তাই খরচ বাঁচাতে কচুরী পানা কাটছি।

ক্ষুদ্র গোখামারী আনিসুর রহমান জানান, খড় খইল ভুশি ভুট্টাসহ গরুর প্রায় প্রতিটি খাবারের দামই বেশি। এ অবস্থায় গরু পালন করা আমাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে পরেছে।

একজন ভেটেরেনারী সার্জন জানান, কচুরীপানা গবাদী পশুর আদর্শ খাবার নয়। গবাদী পশুর খাদ্য সংকটের কারণে অনেকে কচুরী পানা, লতা পাতা খাওয়ান।

কিন্তু কচুরী পানাতে পানির পরিমান বেশি থাকে। গবাদী পশুকে মাত্রাতিরিক্ত কচুরী পানা খাওয়ালে পাতলা পায়খানা বা বদ হজম হতে পারে।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!