সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ০১:৫০ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

চাটমোহরে গাছ কাটার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা

image_pdfimage_print

বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনা : পাবনার চাটমোহরে হরিপুর দূর্গাদাস উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অর্ধশত বছরের পুরাতন গাছ অবৈধ ভাবে কাটার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন প্রশাসন।

এই গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাধারন মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্ঠি হয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন অবৈধভাবে নিজ ক্ষমতাবলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এই গাছ কাটার বিষয় স্থানীয় প্রশাসন জানার পরে গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়।

নিয়ম বহির্ভূত ভাবে গাছ কাটার অভিযোগে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ নয়জনের নাম দিয়ে মামলা দায়ের করেছেন উপজেলা জেলা প্রশাসন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি গাছ কাটা আর অত্যাচারী চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাবাসী।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সারা দেশে যখন প্রধানমন্ত্রী গাছ লাগানোর কথা বলছেন তখন তিনি গাছ কাটছেন। এই চেয়ারম্যান নিজ ক্ষমতা বলে নিজ ইউনিয়নে যা খুশি তাই করছে। তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বল্লে নির্যতনসহ হামলা মামলার স্বীকার হতে হয় তাদের।

উন্নয়নের কথা বলে এই চেয়ারম্যান ও কলেজের অধ্যক্ষের যোগসাজসে এই গাছ কেটে অর্থ আত্মসাত করার পরিকল্পনা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মকবুল হোসেন বলেন, নিয়ম অনুসরণ করে গাছ কাটা হয়নি। এটি আমাদের ভুল হয়েছে স্বীকার করছি। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশের পরে গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে গাছ বিক্রির অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক একাউন্টে জমা দেয়া হয়েছে। আমি কোন অন্যায় কাজ করিনি। নতুন ভবন নির্মানের জন্য গাছ কাটা হয়েছে। আর যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে তারা আমার প্রতিপক্ষ।

ঘটনার বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক কবির মাহামুদ বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের আলোকে উপজেলা প্রশাসন আমাকে বিষয়টি অবহিত করেন। সাথে সাথে আমি সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষটি তদন্তের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অবৈধ ভাবে সরকারি জায়গা ও স্কুলের গাছ কাটা যাবে না। এই অন্যায় কাজের সাথে যারা ছিলো তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আর সংশ্লিষ্ঠ ওই ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে অবশ্যই আমি উর্ধতন কতৃপক্ষের নিকট পাঠাবো ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। কোন অন্যায় কাজ আমি হতে দিবো না।

১৯২৫ সালে তিন একর পচিশ শতাংশ জায়গ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৯ সালে অনুমদন পায় কলেজের। আর ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়। সময়ের সাথে সাথে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতবর্ষের পদার্পন করতে যাচ্ছে সল্প দিনেরে মধ্যে।

উপমহাদেশের বিখ্যাত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রয়াত প্রমথ চৌধুরীর বাবা দূর্গাদাস চৌধুরীর নামে এই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নাম করণ হয়েছে।

তার দেয়া জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই গাছ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচানোর দাবি স্থানীয়দের।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!