চাটমোহরে গ্রামীণ প্রসূতিদের এ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু 

চাটমোহরে গ্রামীণ প্রসূতিদের এ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু

চাটমোহরে গ্রামীণ প্রসূতিদের এ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু

চাটমোহর প্রতিনিধি : চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেগম শেহেলী লায়লার বিশেষ উদ্যোগে  উপজেলার গ্রামীণ প্রসূতি মা ও শিশু এবং দুস্থ্য রোগীদের চিকিৎসা সেবা ত্বরান্বিত করতে বুধবার (১ জুন) থেকে চালু হচ্ছে ভ্রাম্যমান এ্যাম্বুলেন্স সেবা।

চাটমোহর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি করে ভ্রাম্যমান এ্যাম্বুলেন্স চালু করা হচ্ছে। এ্যাম্বুলেন্সের চালক হিসেবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্রাম পুলিশকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সে ক্ষেত্রে প্রতিটি গ্রাম পুলিশকে রশিদমূলে রোগীর পরিবারকে ৫০ টাকা করে প্রদান করতে হবে। রোগীদের সুবিধার্থে প্রতিটি এ্যাম্বুলেন্স চালকের নিকট (০১৭৯৬৫৬৯১৩০ থেকে ০১৭৯৬৫৬৯১৪০) কর্পোরেট নম্বরসহ মোবাইল সেট থাকবে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে এ্যাম্বুলেন্স অবস্থান করবে। কোন প্রসূতি মা ও শিশু কিম্বা দুস্থ্য রোগী এ্যাম্বুলেন্স চালকের সাথে যোগাযোগ করে এই সেবা নিতে পারবেন।

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেগম শেহেলী লায়লা জানান, নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে পৃথক পৃথক ভ্রাম্যমান অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হচ্ছে যা বিরল ঘটনা। সকল প্রসূতির জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে চলনবিল অধ্যূষিত চাটমোহর উপজেলার দূর্গম ইউনিয়নের গর্ভবতী নারী ও অসহায়, গরীব-দুস্থ্য মানুষদের চিকিৎসা সেবা দানের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি চাটমোহরের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে দেখেছি জরুরী চিকিৎসার জন্য কোন যানবাহন না থাকায় অনেক রোগীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। উপজেলার সদর থেকে কোন কোন ইউনিয়নের দূরস্ত ৪৫ কিলোমিটারও রয়েছে। সেখান থেকে প্রসূতি মা কিম্বা দূস্থ্য একজন রোগীকে উপজেলা সদরে নিয়ে আসার সময় রোগী বাঁচা মরার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় দ্রুত সময়ে হাসপাতালে রোগীকে আনতে না পারার জন্য।

এক্ষেত্রে আর কোন গ্রামীণ প্রসূতি মা কিম্বা দূস্থ্য রোগীদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হবেনা। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরুরী সেবার জন্য নির্দিষ্ট এই অ্যাম্বুলেন্সের সেবা নিতে পারবেন সাধারণ নারীরা। রোগীর পাশাপাশি তার আত্মীয়-স্বজনদের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এ্যাম্বুলেন্সে।

তিনি আরো বলেন, উপজেলা চত্বর থেকে প্রায়ই মোটর সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে বলে শুনতে পাই। সেটি রোধ করতে উপজেলা চত্বরে একটি গ্যারেজ নির্মাণ করে তা চালু করা হচ্ছে। মোটর সাইকেল আরোহীরা বিনামূল্যে একটি টোকেন সংগ্রহ করে মোটর সাইকেল ওই গ্যারেজ নিরাপদে রাখতে পারবেন। গ্যারেজটি সিসি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। গ্যারেজে সার্বক্ষণিকভাবে একজন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী অফিসের ৭ জন এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের ৩ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীকে একই পোশাক তৈরী করে দেয়া হচ্ছে। উপজেলার পরিষদ চত্বর নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

আজ (বুধবার) সকালে পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো এসকল কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। এছাড়া মূলগ্রাম ইউনিয়নের ভবানীপুরে সীমানা প্রাচীর উদ্বোধন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী চেয়ারম্যান প্রার্থী, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের সাথে মতবিনিময় করবেন জেলা প্রশাসক। অনুষ্ঠানে পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবীরসহ অন্যরা উপস্থিত থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।