ঢাকাবুধবার , ১৯ জানুয়ারি ২০২২

চাটমোহরে জিপিএ-৫ পেয়েও অর্থের অভাবে উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত শুভ’র

News Pabna
জানুয়ারি ১৯, ২০২২ ৮:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর, পাবনা : সাংসারিক অসচ্ছলতা, মা বাবার অসচেতনতাসহ নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও পড়াশুনা করে ভাল ফলাফল করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল শোভন আক্তার শুভ (১৬)।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় সে মথুরাপুর সেন্ট রীটাস হাই স্কুল থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু তার এই কৃতিত্বের পরে পরিবারে এখন আনন্দের পরিবর্তে দুঃশ্চিন্তা যেন সঙ্গী হতে চলেছে। নিভে যেতে বসেছে শুভর ডাক্তার হবার স্বপ্ন। অর্থের অভাবে উচ্চ শিক্ষা শুভর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পাবানার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের জগতলা গ্রামের দিনমজুর উজ্জল হোসেন ও গৃহীনি সাবিনা ইয়াসমিন দম্পতির ২য় সন্তান শুভ। সারা দিন অন্যের বাড়িতে কিংবা প্রতিষ্ঠানে শ্রম বিক্রি করে যে টাকা বাবা উজ্জল হোসেন উপার্জন করেন সেটা দিয়ে সংসার চালাতেই শেষ। এরপরে ছেলের পড়াশুনার খরচ বহন করা একেবারেই অপারগ বলে তিনি জানান।

সরেজমিন শুভ’র বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, ছোট বেলা থেকেই ভীষন শান্ত, নম্র, ভদ্র ছেলেটি পড়াশুনায় ছিল ভীষণ মেধাবী। তার বড় ভাই সৌরভ আক্তার সম্রাট বিয়ে করে বউ নিয়ে ঢাকাতে থাকে। মাধ্যমিকে পড়াশুনার খরচ সে টিউশনি করে উপার্জন করেছে। বাবার অভাবের সংসারে বোঝা না হয়ে হাত খরচের টাকা যোগার করতে সাপ্তাহিক রবিবারের হাটে কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীদের হিসাব রক্ষক হিসেবে কাজ করেছে। তবে বাবা মা তাকে কখনও পড়াশুনা বাদ দিয়ে অন্যের কাজ করে টাকা উপার্জনে উৎসাহিত করেনি।

মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমি সহ আমার পরিবারের কেউই বেশিদুর পর্যন্ত লেখাপড়া করতে পারিনি। ছেলে শুভর পড়াশুনার আগ্রহ ও এবারের এসএসসির রেজাল্ট দেখে আমাদের মনে ওকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম। যখন জানতে পারলাম এরপরে ছেলের উচ্চ শিক্ষা নিতে গেলে অনেক টাকা প্রয়োজন হবে ঠিক তখন থেকেই আমাদের মনটা খুবই খারাপ হয়ে আছে। আসলে আমাদের পক্ষে অনেক টাকা খরচ করে ওর পড়াশুনা করানো সম্ভব নয়। তাহলে কি টাকার জন্য আমার ছেলের স্বপ্ন মিথ্যা হয়ে যাবে?

শুভ’র বিষয়ে মূলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন মানিক বলেন, উজ্জল মানুষ হিসেবে ভীষন মানবিক ও দরীদ্র। তার ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে বলে শুনেছি। এমন ছেলেকে যদি ভাল ভাবে পৃষ্টপোষকতা করা যায় তাহলে দেশ তথা রাষ্ট্রের জন্য ভালো কিছু হবে বলেই বিশ্বাস করি।