রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:১০ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

চাটমোহরে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে, সেচ সংকটে বোরো চাষীরা

image_pdfimage_print

Chatmohar-Boro-Farmer-newspabnaজাহাঙ্গীর আলম, চাটমোহর (পাবনা) : খাদ্যশস্য ভান্ডার খ্যাত পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলে ইরি-বোরো মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ্য পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা সেচ সংকটে বিপাকে পড়েছেন।

তীব্র তাপদাহ ও ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এলাকাভেদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে। বাকি সময় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছে বোরো জমিতে সেচকার্যে ব্যবহৃত বিদ্যুত চালিত গভীর ও অগভীর নলকূপ গুলো।

এদিকে প্রতি বছর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে কৃষকেরা তাদের গভীর ও অ-গভীর নলকুপের আশানুরুপ পানি পেতে গর্ত করে সেচযন্ত্র (শ্যালো মেশিন) নিচে নামাতে হচ্ছে। কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে , চলনবিলের ইরি-বোরো চাষীদের কাছে নতুন বিড়াম্বনা পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া।

বিল পাড়ের পাবনা জেলার চাটমোহর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, সিংড়া, নওগাঁর আত্রাই ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর উপজেলার বির্স্তীন ফসলী মাঠে প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যা সেচের ওপর নির্ভরশীল। আর ভূ-গর্ভস্থ্য পানির স্তরের গভীরতা চলনবিলের একেক জায়গায় একেক রকম। দক্ষিন-পশ্চিমে চলনবিলে পানির স্তর ক্রমশঃ নিচে নেমে যাচ্ছে। আবার উত্তর ও পূর্ব বিলের ফসলী মাঠে পানির স্তর নিচে নামার পরিমান দক্ষিন-পশ্চিমের চেয়ে কম।

মূলতঃ আশির দশকে চলনবিলে ব্যাপকভাবে বোরো আবাদ শুরু হয়। গত ৩০ বছরে চলনবিলের প্রধান খাদ্যশস্য আবাদ বোরো ধান চাষে এ অঞ্চলের কৃষক হাজার হাজার অগভীর ও গভীর সেচযন্ত্র দিয়ে পানি উত্তোলন করে বোরো আবাদ করে আসছেন। এ ছাড়া গম, রসুন, সরিষা, তরমুজ, খিরা, শশাসহ নানা রবিশস্য আবাদে ভূ-গর্ভস্থ্য পানির ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে নব্বই দশকের পর চলনবিলের বিভিন্ন স্থানে পানির স্তর ক্রমশঃ নিচে নামতে শুরু করে।

কৃষকরা জানান, নতুন নতুন সেচযন্ত্র বসাতে গিয়ে ১০ বছর আগে যে পরিমান গভীরতায় পানি মিলত এখন তা মিলছে না। ফলে কোথাও ১২০ ফুট আবারও কোথাও ১০০-১১০ ফুট পর্যন্ত মাটির গভীরে পাইপ বসিয়ে পানি তুলতে হচ্ছে। যা ২০-২৫ বছর আগে ৬৫-৮০ ফুটের বেশি ছিল না।

বোয়াইলমারী কৃষক আমজাদ হোসেন জানায়, এ বছর তিনি সেচযন্ত্র বসাতে গিয়ে গত বছরের চেয়ে ১৫ ফুট বেশী গভীরতায় পানির পাইপ স্থাপন করেছেন। তারপরও চলনবিলের কৃষক ২০ বছর আগে সেচ যন্ত্রে যে পরিমান পানি পেয়েছেন বর্তমানে তা ৩৫-৪০ শতাংশে কম পাচ্ছেন বলে জানান হান্ডিয়াল গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন।

চলনবিলের ভূ-গর্ভস্থ্য পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় লাখ লাখ ইরি-বোরো চাষী কৃষক বিপাকে পড়েছেন। একাধিক কৃষক জানান, আগের তুলনায় সেচযন্ত্রে পানি কম ওঠায় তাদের জ্বালানী খরচ বেড়েছে। পূর্বে প্রতি মৌসুমে ১ বিঘা জমিতে ১৬-১৯ লিটার জ্বালাী তেল লাগলেও বর্তমান সময়ে তা ২৫-৩০ লিটারে গড়িয়েছে। এ ছাড়া পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় জমিতে সেচ দিতে গিয়ে পূর্বের তুলনায় সময়ও বেশি লাগছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া প্রসঙ্গে চাটমোহর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, চলনবিল অঞ্চলে ভু-গর্ভস্থ্য পানি উত্তোলন বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। বর্ষা মৌসুমে পানির স্তর আবারও বৃদ্ধি পেয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

দেখা গেছে, ভরা বোরো মৌসুমে ভু-গর্ভস্থ্য পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষক ৭-১০ ফুট কোন কোন ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি গর্ত করে সেচযন্ত্র (শ্যালো মেশিন) নিচে বসিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করছেন।

চলনবিলের প্রবীন কৃষকরা জানায়, চলনবিলে বিভিন্ন ফসলের আবাদে ভূ-গর্ভস্থ্য পানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পানির স্তর ক্রমে ক্রমে নিচে নেমে যাচ্ছে। চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ১৬টি নদী মৃত প্রায়। অসময়ে শুকিয়ে যাচ্ছে খাল-বিল। ফলে পানির স্তর সমস্যা প্রকট আকার ধারন করছে। আর ধাপে ধাপে পানির স্তর নিচে নামায় সচেতন কৃষক শংকিত।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!